শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৪, ০০:০০

এমন মর্মান্তিকতা মেনে নেয়ার মতো নয়

অনলাইন ডেস্ক
এমন মর্মান্তিকতা মেনে নেয়ার মতো নয়

সন্তানের সামনে পিতা/মাতাকে হত্যা, আবার পিতা/মাতার সামনে সন্তানকে হত্যা, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে কিংবা ভাইয়ের সামনে বোনকে ধর্ষণ ইত্যাদি ঘটনা চরম মর্মান্তিকতার ছোবলে পাষ-কেও মর্মাহত করে। এমন একটি ঘটনাই ঘটেছে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরে। 'কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে মায়ের সামনেই সন্তান খুন' শিরোনামের সংবাদ সে মর্মান্তিকতার ছোবল হেনেছে অনেকের প্রাণে।

সংবাদটি পরিবেশন করেছেন চাঁদপুর কণ্ঠের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আবদুর রহমান গাজী। তিনি লিখেছেন, চাঁদপুর পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডে তুচ্ছ ঘটনায় মোঃ ইব্রাহীম খলিল শাহীন (১৪) নামের এক তরুণকে কিশোর গ্যাং সদস্যদের ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনায় জিয়াদুল ইসলাম ফাহিম (১৩) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য শান্তকে আটক করেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। নিহত মোঃ ইব্রাহীম খলিল শাহীন চাঁদপুর পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডে মায়ের সাথে ভাড়া থাকতো। সে মৃত স্বপন সরকার ও সাজেদা বেগমের ছেলে। সে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। তার একমাত্র বোন নুশরাত জানান, শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাত পৌনে ৮টার দিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নিকটে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে আমার মায়ের সামনেই আমার ভাই খুন হয়েছে। আমার মা ওদের বলেছে, আমার ছেলেকে মারিস্ না। আমার কথা শোন। ওরা আমার মায়ের কথাও শোনে নি। আমার বাবা নেই। কে আমাদের সংসারের হাল ধরবে? 'আমি এ হত্যার বিচার চাই' বলে বোনটি মূর্ছা যায়। এ ঘটনায় পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে একই এলাকার ভাড়াটিয়া অজয় চন্দ্র দাস ও কবিতার ছেলে কিশোর গ্যাং সদস্য শান্ত দাস (১৫) কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ইব্রাহিম খলিল শাহীন ও আটককৃত আসামি শান্ত দাস প্রতিবেশী এবং একসাথে চলাফেরা করতো। ভিকটিমের সাথে ঘটনার দিন আসামি কিশোর গ্যাং সদস্য শান্তর সাথে খেলাধুলা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় ইব্রাহিম খলিল শাহীন তার মায়ের সাথে স্থানীয় বিষ্ণুদী বাজার থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে দিয়ে বাসার দিকে যাচ্ছিলো। ওই সময় কিশোর গ্যাং সদস্য বখাটে শান্ত তার কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গসহ শাহীনের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তার ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তাকে বাঁচাতে পথচারী জিয়াদুল ইসলাম ফাহিম এগিয়ে আসলে তাকেও গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠিয়ে দেন। কিশোর গ্যাং তার দুই হাতের রগ কেটে দিয়েছে এবং পেটে বড় ধরনের আঘাত দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার বিষয়ে কথা হয় চাঁদপুর সদর মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার এসআই লোকমান হোসেনের সাথে। তিনি জানান, আমরা একজনকে আটক করেছি এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছি। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। আমরা অচিরেই অন্যান্য আসামিকে আটক করতে সক্ষম হবো।

আমরা ইব্রাহিম খলিল শাহীনের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। কেননা 'শান্তির জনপদ' নামে খ্যাত চাঁদপুর শহরে এমন হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেনি। এমনকি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন তুঙ্গে থাকা অবস্থায় চাঁদপুর শহরে অনেক সহিংসতা ও আহত হবার ঘটনা ঘটে থাকলেও নিহত হবার ঘটনা ঘটেনি। এরই মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতায় শাহীনের মতো সংসারের প্রধান উপার্জনক্ষম আরেক কিশোরের নিহত হবার ঘটনা শহরে সৃষ্টি করেছে ব্যাপক আলোড়ন এবং সর্বত্র ছড়িয়েছে শোকের বিচ্ছুরণ। কেউ এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে মেনে নিতে পারছে না। বিক্ষুব্ধ মানুষ ঘটনার পরদিনই করেছে মানববন্ধন এবং দাবি করেছে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের কঠোর বিচার। কিন্তু প্রধান আসামিসহ অন্য আসামিরা কিশোর হওয়ায় আইন কতোটুকু কঠোর হতে সহায়ক হবে সেটাই দেখার বিষয়।

প্রসঙ্গক্রমে এটা অবতারণা করা দরকার যে, সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবল, ক্রিকেট খেলা সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্যে আগের মতো 'অংশগ্রহণই বড়ো কথা' এমন আপ্তবাক্যে প্রতিযোগীদের কেউ সন্তুষ্টি খোঁজে না। তাদের সকল সন্তুষ্টি আবর্তিত হয় বিজয়ী হবার মধ্যেই। এর অন্যথা হলে প্রতিযোগী যতোটা না খেপে যায়, তারচে' বেশি খেপে তার অভিভাবক। এজন্যে রেফারি, আম্পায়ার, বিচারক সহ প্রতিযোগিতার আয়োজকদের ওপর সরাসরি অভিভাবক কিংবা অভিভাবকসহ অন্য কারো উস্কানিতে স্বয়ং প্রতিযোগীরা চড়াও হওয়া, হামলে পড়া, অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোসহ খুনখারাবি পর্যন্ত করতে পিছপা হয় না। অসহিষ্ণুতা এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবকে ম্লানিমায় ঢেকে দিচ্ছে। এটা থেকে পরিত্রাণ পেতে সবকিছুই যেনো প্রীতিমূলক করার পরিস্থিতি উদ্ভব হয়েছে। কিন্তু এটা কি প্রতিযোগিতাকে নির্বাসনে পাঠাবে না? এমন কিছু নিয়ে ভাবাটা প্রাসঙ্গিকতার আওতায় আনার তীব্র তাগিদ আপাতত অনুভূত না হলেও যে কোনো খেলা বা প্রতিযোগিতার ফলাফল নিয়ে বিতর্ক কিংবা বিবাদ বিসম্বাদ ছোট থেকে বড়ো হয়ে মারাত্মক সহিংসতা বা খুনখারাবি পর্যন্ত পৌঁছার ঘটনা ক্রমশ বাড়তে থাকলে কোনো একদিন অদ্ভুত ভাবনা অনেককেই পেয়ে বসবে বলে আমাদের কেনো জানি মনে হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়