শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে মাটি বোঝাই বাল্কহেডসহ আটক ৯
  •   কচুয়ায় কৃষিজমির মাটি বিক্রি করার দায়ে ড্রেজার, ভেকু ও ট্রাক্টর বিকল
  •   কচুয়ায় খেলতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে শিশু সামিয়া
  •   কচুয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে যুবক শ্রীঘরে
  •   ১ হাজার ২৯৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৪, ০০:০০

পূর্ব সতর্কতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন

অনলাইন ডেস্ক
পূর্ব সতর্কতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন

ধরুন আজ শনিবারের কথাই। চাঁদপুর শহরে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যৎ সরবরাহ থাকবে না বলে দুদিন আগেই বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) জানিয়ে দিয়েছে। দেশের পট পরিবর্তনের কারণে বিউবো পূর্বের চেয়ে একটু বেশি তৎপর হয়ে ৩৬ ঘণ্টা আগে শহরবাসীকে জানানোর ব্যবস্থা করেছে। অতীতে এতোটা বেশি সময় আগে জানানোর বিষয়টি বিরলই ছিলো। সে যা-ই হোক, আগেভাগে জানানোর কারণে গত শনিবার শহরবাসী বিদ্যৎহীনতাজনিত সমস্যা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ভালোভাবেই মোকাবেলা করেছে। আজও তা-ই করবে বলে আশা রাখছি।

এভাবে যে কোনো সমস্যার বিষয়ে আগে জানতে পারলে মানুষ সেটি কম-বেশি ভালোই মোকাবেলা করতে পারে--যেটা প্রমাণিত। তেমনি যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে মানুষ আগে জানতে পারলে ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি এড়াতে না পারলেও অনেকটাই এড়াতে পারে। আমাদের দেশে একসময় ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদপ্তর সঠিকভাবে দিতে পারতো না। ফলে ঘূর্ণিঝড়ে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে হাজার হাজার নয়, লক্ষ লক্ষ লোক মারা যেত। আর এখন প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়েও শত শত লোক মারা যায় না সঠিক পূর্বাভাসের কারণে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করার কারণে।

বন্যার পূর্বাভাস প্রদানে শুধু আমাদের দেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশও পুরোপুরি সঠিকতা রক্ষা করতে পারে না। সেজন্যে প্রতিবছর বন্যাজনিত অস্বাভাবিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অনেক দেশকেই বিপর্যস্ত করে। আমাদের দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ কিছু জেলা লাগাতার বন্যা কবলিত হলেও পুরো দেশের অধিকাংশ স্থান ১৯৮৮ ও ১৯৯৮-এর ন্যায় বন্যা কবলিত হয় নি। সেজন্যে বন্যা মোকাবেলা সংক্রান্ত প্রস্তুতির ঘাটতি ও উদাসীনতা কম-বেশি পরিলক্ষিত হয়ে আসছিলো। এরই মধ্যে চলতি আগস্টের অতিবর্ষণের পূর্বাভাস থাকলেও প্রতিবেশী দেশ ভারতের অমানবিক আচরণের পূর্বাভাস তো আর ছিলো না। তারা অতি বর্ষণজনিত পানির ঢল সামলাতে না পেরে যেভাবে অভিন্ন নদীর বাঁধ ছেড়ে দিয়ে আমাদের দেশকে কোনোরূপ পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এবং ন্যূনতম পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ ছাড়াই অস্বাভাবিক বন্যার কবলে ঠেলে দিলো, তা অকল্পনীয় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করলো।

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর বর্তমানে নেই বড়ো ধরনের জনপ্রতিনিধি (যেমন : এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র)। আর ইউপি চেয়ারম্যানরা স্বপদে বহাল থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে রয়েছেন আত্মগোপনে। এমতাবস্থায় বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারের সীমিত জনবলে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় ঘাটতি থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাতে কী। এই স্বাভাবিকতাকে অস্বাভাবিক মানবিক তাগিদে মেকাবেলার সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন, চিত্তবান, বিত্তবান ব্যক্তি, যেটা বন্যা কবলিত বিপন্ন মানুষকে দিচ্ছে বেঁচে থাকার শক্তি, সাহস ও প্রেরণা। বন্যার ধকল কাটবে সহসা--এমনটি বলা যায় না। সেজন্যে বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ সামনে রয়ে গেছে। আশা করি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেটি সম্পন্ন করতে জাতীয় ঐক্য গঠনের পথে এগুবে এবং অবশেষে সফল হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়