প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২১, ০০:০০
দুই বছরের দাম্পত্যজীবনে সম্পূর্ণ মোহরানা পরিশোধের পরেও মতলব উত্তর উপজেলার গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদের করা ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবি মামলায় স্ত্রী মনি আক্তার মিতু (২১) জেল হাজতে প্রেরণ করার আদেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সমন জারির নির্ধারিত তারিখে মনি আক্তার স্বেচ্ছায় আদালতে উপস্থিত হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কফিল উদ্দিন এ আদেশ দেন। একই সাথে অপর আসামী মনি আক্তারের ভাই মেহেদী হাছান (২৬)-এর জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ জুন বাদী নূর মোহাম্মদের সাথে একই উপজেলার সুজাতপুর এলাকার দুলাল মিজির মেয়ে মনি আক্তার মিতুর সাথে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মোহরানা ধার্যপূর্বক বিয়ে সম্পন্ন হয়। ওই সময় ৫০ হাজার টাকা নগদ ওয়াশিলান্তে কাবিন নিবন্ধন হয়। পরবর্তীতে নূর মোহাম্মদ বাকি ২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন।
মামলার বিবরণ থেকে আরও জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই মনি তার স্বামী থেকে বিভিন্ন বাহানায় নগদ অর্থ যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। এক পর্যায়ে তার পিতার ঘর করার জন্যে স্বামীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা আদায় করে নেন। এরপরও দাম্পত্যজীবনে শান্তি আসেনি। একের পর এক যৌতুক দাবি, নূর মোহাম্মদকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখেন মনি ও তার পরিবারের লোকজন। এ ঘটনাটি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালেও ক’বার সালিস-বৈঠক হয়। কিন্তু কোনো ধরনের সমাধান হয়নি। বরং মনি ও তার পরিবারের লোকজন ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে এবং টাকা না দিলে মনি তার সংসার করবে না মর্মে ডিভোর্স চান। এরপর কোনো ধরনের উপায় না পেয়ে নির্যাতনের শিকার মনির স্বামী নূর মোহাম্মদ গত ১৫ জুলাই চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী বিশ্বজিৎ রানা বলেন, বাদী পক্ষ দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার। করোনা পরিস্থিতির কারণে আদালতে এসে মামলা দিতে পারেননি। মামলাটি গত ১৫ জুলাই আদালত আমলে নিয়ে আসামী মনি আক্তার মিতু ও তার ভাই মেহেদী হাছানের বিরুদ্ধে সমন জারি করে। একই মামলায় মনির পিতা দুলাল মিজিও আসামী ছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে সমন জারি হয়নি। আজকে মনি ও মেহেদী স্বেচ্ছায় আদালতে উপস্থিত হলে আদালত মেহেদীকে জামিন ও মনিকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলায় আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন আবদুল আজিজ।