প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ১৫:১৯
ঈদ হোক রঙিন
আবারও এলো পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ উপলক্ষ্যে প্রিয়জনের কাছে ছুটে যান অনেকেই। পরিবারের সঙ্গে ঈদে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। তবে ঈদের এ আনন্দ নষ্ট হতে পারে শরীর খারাপ কারার জন্য। তাই ঈদ আনন্দের পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে স্বাস্থ্যরও।
কোরবানির জন্য এমন স্থান বেছে নিন, যা খোলা, বাতাস চলাচল উপযোগী এবং সহজে পরিষ্কার করা যায়। রান্নাঘর, খাওয়ার জায়গা বা শিশুদের খেলার স্থানের কাছাকাছি যেন না হয়। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রস্তুত রাখুন। যেমনÑব্লিচ, স্যানিটাইজার, ডাস্টবিন ব্যাগ, গ্লাভস, মাস্ক, অ্যাপ্রন, মাংস রাখার জন্য পরিষ্কার কনটেইনার। যদি ঘরে বা পাড়ায় কোরবানি দেন, আগে থেকেই প্রতিবেশীদের জানিয়ে রাখলে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারেন এবং সম্মিলিত পরিচ্ছন্নতায় সহায়তা করতে পারেন।
হাত ধোয়ার জন্য সাবান বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন, গ্লাভস ও অ্যাপ্রন পরে কাজ করুন।
রক্ত বা বর্জ্য সরাসরি ছেঁায়ার থেকে বিরত থাকুন। মাংস ও বজর্য আলাদা করুন। রক্ত, হাড় বা না-খাওয়ার উপযোগী অংশ ঢেকে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন। পাবলিক স্থানে বা ড্রেনে কিছুই ফেলা যাবে না।
কোরবানির বর্জ্য শক্ত ব্যাগে ভরে, ফুটো না হয় এমনভাবে ফেলুন। কোরবানির জায়গাটি ব্লিচ বা জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও গ্লাভস জীবাণুমুক্ত করুন। সব শেষে নিজে ভালোভাবে হাত ধুয়ে অথবা গোসল করে নিন।
গরু বা খাসির মাংস প্রোটিন, আয়রন, জিংক, ভিটামিন বি১২ ও বি৬- এর সমৃদ্ধ উৎস। বিশেষ করে যারা পর্যাপ্ত প্রোটিন খান না, তাদের জন্য এ সময় মাংস পুষ্টিগুণের উৎস হতে পারে। মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হলো, এর পরিমাণ নির্ধারণ, প্রক্রিয়াজাত করা ও খাওয়ার ধরন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের জন্য দৈনিক ৫০ থেকে ৭৫ গ্রাম রান্না করা লাল মাংস যথেষ্ট। কিন্তু কোরবানির ঈদে দিনে একাধিকবার অনেকটা মাংস খাওয়া হয়ে যায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস, তেল ঝাল-মসলাযুক্ত রান্না শরীরে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই জানতে হবে, মাংস খাওয়ার স্বাস্থ্যসম্মত নিয়ম কী।
ঈদের সময় রিচ ফুড খাওয়ার ফলে অনেকেই গ্যাস্ট্রিক, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য বা বুক জ্বালাপোড়ায় ভোগেন। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে কিছু অভ্যাস কাজে আসতে পারে। প্রচুর পানি পান করুন। লেবুপানি, ইসবগুলের ভুষি, টক দই হজমে সহায়ক। জিরা, আদা, পুদিনা বা ধনিয়া পাতা দিয়ে তৈরি পানীয় পেটের সমস্যা কমায়। ভরপেট না খেয়ে ছোট ছোট ভাগে কয়েকবার খাওয়া উচিত।
ঈদের সময়ও নিয়মিত ফলমূল, শাকসবজি ও ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে ইসুবগুলের ভুষি, তোকমা দানা, চিয়াসিড ইত্যাদি ডায়েটে যোগ করা যেতে পারে।
ঈদের সময়ও হালকা ব্যায়াম করা জরুরি। যেমন খাওয়ার পর অন্তত ২০-৩০ মিনিট হঁাটার চেষ্টা করা যেতে পারে।
নিয়মিত ব্লাড সুগার মনিটার করতে হবে, বিশেষ করে ঈদের দিন বা অতিরিক্ত খাওয়ার পর। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
মধ্যবয়সী এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের খাবার সম্পর্কে সচেতন থাকা আরও জরুরি। এমনকি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি ইত্যাদি না থাকা সত্ত্বেও এই বয়সের মানুষের ঈদের খাবারের ব্যাপারে বাড়তি সতর্ক থাকা দরকার। অতি ভোজনে তাদের পেট ভরা ভাব, অস্বস্তিকর অনুভূতি, বারবার ঢেকুর ওঠা এমনকি বুকে ব্যথা পর্যন্ত হতে পারে। বেশি মাংস খেলে তা পরিপূর্ণভাবে হজম হতে সময় লাগে।
ডায়াবেটিস রোগীকে অবশ্যই মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। গরু বা খাসির মাংস পরিমাণ মতো খেতে পারেন, তবে চর্বি না খেলেই ভালো।
অনেকেরই গরুর মাংসে অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকে, তাদের জন্য গরুর মাংস এড়িয়ে চলাই যুক্তিযুক্ত। যদি কেউ খেতে চান তবে আগে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে পারেন।
রক্তে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল, উচ্চরক্তচাপ, স্ট্রোক এবং হৃদরোগী: অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শুধু গরু নয়, মহিষ, ছাগল ও খাসির মাংসে থাকে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও ফ্যাট। তাই অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস খেলে স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও কোলেস্টারলের মাত্রা বেড়ে যায়, বিশেষ করে যারা আগে থেকেই এসব রোগে ভুগছেন তাদের ঝুঁকি আরও বেশি। তাই মাংস খাওয়ার সময় অবশ্যই খেয়াল রেখে পরিমিত পরিমাণে এবং চর্বি ছাড়িয়ে খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সারাবছর তারা যে ধরনের নিয়মকানুন পালন করেন খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে, কোরবানির সময়ও সেভাবে চলাই ভালো।
যারা কিডনির সমস্যায় ভোগেন, যেমন ক্রনিক রেনাল ফেইলিওর, তাদের প্রোটিনজাতীয় খাদ্য কম খেতে বলা হয়। তাই মাংস খাওয়ার ব্যাপারে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনোক্রমেই অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক হবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সারাবছরের মতো ঈদের সময়ও একই খাবার খাওয়াই ভালো।
সূত্র : সময়ের আলো।








