প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২১, ২৩:০৩
অস্ট্রেলিয়ার অহংকার চুর্ণ করলো বাংলাদেশ

১৬ তম ওভারের শেষ বলটিই সিরিজ জয়ের টিকেট। শরিফুলের বলে মার্সের করা শটটি নাঈম যখন তালুবন্দি করলেন তখন মার্স ৪৭ বলে ৫১ রানের সেভ ব্যাটসম্যান। মূলত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গেছে এই আউটটাতেই। পুরো ম্যাচটি হেলেছে দু'দিক। কখনো অস্ট্রেলিয়া, কখনও বাংলাদেশ। নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছিলো না কে জিতবে। শেষ পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ১০ রানে জয় পেলো বাংলাদেশ। প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়াকে টানা তিন ম্যাচে হারিয়ে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। তাও আবার দুই ম্যাচ হাতে রেখে।
|আরো খবর
রোমাঞ্চকর ম্যাচে ২ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। ১৯তম ওভারে মোস্তাফিজ দিলেন মাত্র এক রান! জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিলো ২২ রান। ক্যাপ্টিন মাহমুদুল্লাহ ভেবে চিন্তে বল তুলে দিলেন মেহেদি হাসানের হাতে। বলে আসলেন মেহেদি। প্রথম বলেই খেলেন ৬! ম্যাচটা যেন আবারো হেলে যাচ্ছিলো অস্ট্রেলিয়ার দিকে। তখনও প্রয়োজন ৫ বলে ১৬ রান। মেহেদি সামলে নিলেন নিজেকে। ৫ম বলে একটি সিঙ্গেল। দুই ব্যাটসম্যানের জায়গা পরিবর্তন হলো। ৪ বলে প্রয়োজন ১৫ রান। ৪র্থ বলে ফুল টস দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলেন না মেহেদি। বলটা বুকের উপরে থাকায় নো বল কল করলেন আম্পায়ার। ম্যাচটা তখনও যেন দু'দিকে দুলছে।
৩য় বলটা ফ্রি হিট ছিলো। মেহেদি ব্যাটসম্যানের পায়ে ফেললেন বল। ব্যাটসম্যানকে বোকা বানালেন ততক্ষণে ম্যাচটি বাংলাদেশের দ্বার প্রান্তে। ৫ম বলে আরেকটি সিংগেল। ১ বলে প্রয়োজন ১২ রান! শেষ বলে আবারো মেহেদি হাসান ব্যাটসম্যানকে বোকা বানালেন। বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়েও ব্যর্থ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো ১ রান নিয়ে। ফলাফল বাংলাদেশ ১০ রানে জয়ী।
এ জয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার গত ৪ বছরের দাম্ভিকতাকে চূর্ণ করলো বাংলাদেশ। তাদের কঠোর শর্ত, বিধিনিষেধ সবকিছু চোখ বুঝে সহ্য করার প্রতিশোধ নিলো টিম টাইগার। বরাবরের মত আজকের ম্যাটিও গড়লো আরেকটি রেকর্ড। এই প্রথম এত কম রান টার্গেট দিয়েও জয় পেলো বাংলাদেশ। মাত্র ১২৮ রানের টার্গেট দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মত দলকে বেধে ফেলেছে মাত্র ১১৭ রানে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে জয়ের জন্য অজিদের লক্ষ্য ছিলো ১২৮ রান। স্বাগতিকদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেছেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নিজের অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমেই হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন পেসার নাথান এলিস।
এদিন, বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিলম্ব হয়। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ব্যাট করতে নামেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাইম শেখ ও সৌম্য সরকার। তার আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
শুরুতেই দলীয় স্কোর তিন হতেই দুই ওপেনার বিদায় নেন। এরপর সাকিব ও মাহমুদুল্লাহ প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। দু'জনে দারুণ একটি জুটিও গড়ে তোলেন। কিন্তু দলের ৪৭ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ২৬ রান করে বিদায় নেন সাকিব। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। এর বাহিরে আফিফ হোসেন করেছেন ১৯ রান ও নুরুল হাসান সোহান ১১ রান। দু'জনেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউটের কবলে পরেন।
অজিদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেছেন অভিষিক্ত নাথান এলিস। তিনি হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন। এছাড়া দুটি করে উইকেট নিয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা ও জশ হ্যাজলউড। চাঁদপুরের শামীম হাসান আজ উপরের দিকে ব্যাট করলেও ৩ রানের বেশি করতে পারেননি। তবে ফিল্ডিংয়ে আজও প্রাণবন্ত ছিলেন তিনি।