প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫৪
সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী তৌফিক নাওয়াজের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মরহুম অ্যাড. তৌফিক নাওয়াজের জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
|আরো খবর
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) গুলশান কেন্দ্রীয় আজাদ মসজিদে বাদ জোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দুপুর সোয়া ১২টায় ধানমন্ডির কলাবাগানের বাসা থেকে তাঁকে মসজিদে আনা হয়। জানাজা শেষে তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে তৌফিক নাওয়াজের মরদেহ ঢাকার কলাবাগানে তাঁর নিজ বাসভবনে নেয়া হয়। সেখানে স্বামীর মরদেহ দেখেন দীপু মনি। ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা স্বামীর মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে প্রাণের স্বামীকে শেষ বিদায় জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম তাঁর চারদিনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। পরে মুন্সিগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্যে তাঁর প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেন।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি হয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি আছেন দীপু মনি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্বামী তৌফিক নাওয়াজ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। এছাড়া কিডনি ও লিভারের নানা জটিলতায়ও ভুগছিলেন তিনি। স্বামীর সঙ্গে কারাগারের বাইরে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে একাধিকবার আবেদন করেও তিনি অনুমতি পাননি। আদালতে তাঁকে হাজির করা হলে স্বামী তৌফিক নাওয়াজ শয্যাশায়ী অবস্থায় স্ট্রেচারে করে দীপু মনির সঙ্গে দেখা করতে যেতেন।
তৌফিক নাওয়াজের জানাজায় শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এ সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিলো। জানাজার সময় দীপু মনিকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানও সেখানে দেখা যায়।
জানাজাশেষে ভ্যান থেকে নেমে তিনি শেষবারের মতো স্বামী তৌফিক নাওয়াজকে দেখেন। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এরপর দীপু মনিকে আবার প্রিজন ভ্যানে করে বনানী কবরস্থানে নেয়া হয়। সেখানেই তৌফিক নাওয়াজের দাফন সম্পন্ন হয়। ১২ ঘণ্টার প্যারোল অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার পর দীপু মনিকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৌফিক নাওয়াজ মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করা হয়।








