মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩১

ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়

হুজুর (দঃ)-এঁর পিতা-মাতার বিবাহ

প্রসঙ্গ : বিবি আমেনার গর্ভে নূরে মোহাম্মদীর সরাসরি গমন

অনলাইন ডেস্ক
হুজুর (দঃ)-এঁর পিতা-মাতার বিবাহ

পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হযরত আদম (আঃ)-এঁর সৃষ্টির চৌদ্দ হাজার বৎসর পূর্বে, (পৃথিবীর হিসাবে পাঁচশত এগার কোটি বৎসর) নবী করিম (দঃ) নূর হিসেবে আল্লাহর সান্নিধ্যে বিদ্যমান ছিলেন। তারপর হযরত আদম (আঃ)-এর সাথে সেই নূর পৃথিবীতে আগমন করেন এবং হযরত শিষ, হযরত ইদ্রিস, হযরত নূহ, হযরত ইব্রাহিম ও হযরত ইসমাইল (আঃ) প্রমূখ পয়গাম্বর ও নেককারগণের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হতে হতে অবশেষে হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) -এর ললাটে স্থান লাভ করেন। হযরত ইসমাইল ও হযরত আব্দুল্লাহ ছিলেন যবীহুল্লাহ। নবী করিম (দঃ) স্বয়ং শুকরিয়া আদায় করে বলতেন- “আমি দুই যবীহুল্লাহর সন্তান।”

হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এঁর বয়স যখন চব্বিশ বৎসর, তখন পিতা তাঁকে বিবাহ করানোর উদ্দেশ্যে পাত্রীর অনুসন্ধানে বের হন। পথিমধ্যে ওয়ারাকা ইবনে নওফেল-এর বোন ফাতেমা ওরফে উম্মে কিতাল হযরত আব্দুল্লাহ’র ললাটে নূর লক্ষ্য করে স্বেচ্ছায় বিবাহের প্রস্তাব দেন। কিন্তু হযরত আব্দুল্লাহ পিতার সম্মানে ঐ প্রস্তাব নাকচ করে দেন।

ঐ দিনই মদিনাবাসী এবং মক্কায় প্রবাসী ওহাব ইবনে আবদে মুনাফ-এঁর ভাগ্যবতী কন্যা বিবি আমেনার সাথে হযরত আব্দুল্লাহর বিবাহ সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য যে, মদিনার বনী আদি বংশের জাহরা গোত্রে আব্দুল মোত্তালেবও বিবাহ করেছিলেন এবং সেই ঘরে আবু তালেব, হযরত হামজা, হযরত আব্বাছ ও নবী করিম [ﷺ]-এঁর পিতা হযরত আব্দুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন। সেই গোত্রেরই কন্যা ছিলেন বিবি আমেনা (রাঃ)। সুতরাং হযরত আব্দুল্লাহ ও নবী করিম [ﷺ] উভয়েরই মাতুলালয় ছিল মদিনা।

রজব মাসের প্রারম্ভে এই শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং ঐ দিনেই মিনার নিকটে শিয়াবে আবি-তালেব নামক স্থানে স্বামী-স্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়। ঐ দিনেই হযরত আব্দুল্লাহর (রাঃ) ললাট মোবারক হতে নবুয়তের পবিত্র নূর মা আমেনার (রাঃ) গর্ভ মোবারকে সরাসরি স্থানান্তরিত হয় (মাওয়াহেব ও বেদায়া-নেহায়া)। পহেলা রজব শুক্রবার রাতে নবী করিম (দঃ)-এঁর পবিত্র নূর (মাটি নয়) মায়ের রেহেমে স্থানলাভ করেন বলে মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়া ও আনওয়ারে মুহাম্মদীয়া গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। ইবনে ইসহাক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বিবি আমেনা (রাঃ)-এঁর সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঐ রাত্রেই বিবি আমেনাকে স্বপ্নযোগে জানিয়ে দেয়া হয় -“তুমি এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানবকে ধারণ করেছো। সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে তাঁর নাম রাখবে মুহাম্মদ (দঃ) বা বারংবার প্রশংসিত।”

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) রেওয়ায়াত করেন যে, ”ঐ রাত্রেই কোরেশদের গৃহপালিত পশুগুলো নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে, আজ সমগ্র পৃথিবীর চেরাগ, আল্লাহর প্রিয় রাসুল (দঃ) মাতৃগর্ভে এসেছেন। আল্লাহর কুদরতে সমগ্র পৃথিবীর প্রাণীকুলের মধ্যে একটি নৈসর্গিক আনন্দের ঢেউ খেলে গিয়েছিল। কিন্তু সেদিন খুশি হতে পারেনি অভিশপ্ত শয়তান।” (আনওয়ারে মুহাম্মদীয়া)।

আজও মানবরূপী কিছু শয়তান মীলাদুন্নবীর শুভদিনে খুশি হতে পারে না। তারা এই আনন্দময় দিবসে মীলাদুন্নবীর বিরুদ্ধে নব-আবিষ্কৃত সিরাতুন্নবী নামে লোক দেখানো পৃথক মাহফিল করে, মীলাদুন্নবীর তাৎপর্য্যপূর্ণ ঘটনাবলীর সমালোচনা করে এবং মীলাদুন্নবী [ﷺ] মাহফিল ও অনুষ্ঠানকে বিদ’আত বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে। অথচ মীলাদুন্নবীর প্রথা সুন্নাতসম্মত একটি প্রথা।

বিবি আমেনা (রাঃ) -এঁর সাথে পরিণয়ের পরদিন হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তনকালে পথে ফাতেমা ওরফে উম্মে কিতালের সাথে সাক্ষাত হয়। এবার মহিলা হযরত আব্দুল্লাহকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে সে জবাবে বলে -

”গতকাল তোমার ললাটে যে নূর ছিল, আজ সে নূর তোমার থেকে বিদায় নিয়েছে। সুতরাং আজ তোমাকে আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই। আমার একান্ত ইচ্ছা ছিল সেই নূর আমার মধ্যে স্থানান্তরিত হোক। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছিল না, তাই তিনি অন্যত্র স্থানান্তরিত করেছেন।” (মাওয়াহেবে লাদুনিয়া) (চলবে)।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়