সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ২০:১০

জেলা প্রশাসকের হাত ধরে পাকা ঘরে উঠলেন ফরিদগঞ্জের ৬ প্রতিবন্ধী ভাইবোন

প্রবীর চক্রবর্তী।।
জেলা প্রশাসকের হাত ধরে পাকা ঘরে উঠলেন ফরিদগঞ্জের ৬ প্রতিবন্ধী ভাইবোন

অবশেষে স্বপ্ন পূরণ হলো ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার বড়ালী গ্রামের আজিম বাড়ির মনোহর-ফুলবানু দম্পতির ছয় শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তানের। তাদের দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিলো ভাঙাচুরা ঘরের পরিবর্তে একটু ভালো স্থানে থাকা। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এলো তাদের জীবনে। রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান নতুন পাকা ঘরটি তাদের হাতে তুলে দেন। শুধু পাকা ভবন নয়, পাশাপাশি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্যে প্রস্তুত করা দোকানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা, একটি নতুন ফ্রিজ এবং নতুন বাড়িতে বসবাসের জন্যে খাট, তোশকসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ সময় জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ আর এম জাহিদ হাসান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানসহ অন্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, "সমাজের অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। তাদের নিরাপদ আবাসন ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। মানবিক উদ্যোগগুলোকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ে উঠবে।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। রাষ্ট্রের সুষম ও টেকসই উন্নয়নের জন্যে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতোটুকু করার প্রয়োজন তা করেছি।"

নতুন বাড়ি পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবারের সদস্য সুমন হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "আমাদের ভাঙাচুরা ঘরে বৃষ্টি হলে পানি পড়তো। ইউএনও আমাদের নতুন বিল্ডিং করে দেওয়ায় আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারবো।"

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মানিক হোসেন বলেন, "এই পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। আমাদের পরিবারের পূর্বপুরুষরা তাদের একখণ্ড জমি দিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ভাঙাচুরা ঘরে তারা বসবাস করতেন। ইউএনও নতুন ভবন করে দেওয়ায় এখন তারা নিরাপদে থাকতে পারবেন। এটি মানবিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।"

উল্লেখ্য, অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারটির দুর্দশার কথা চাঁদপুর কণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়ার। তিনি দ্রুত পরিবারটির খোঁজখবর নেন এবং প্রাথমিকভাবে খাদ্যসহায়তা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করেন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে ভাঙা ঘরের স্থলে একটি পাকা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

ইউএনওর উদ্যোগে পুরোনো ঘরটি অপসারণ করে নির্মাণ করা হয় নতুন পাকা ভবন। পাশাপাশি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্যে প্রস্তুত করা দোকানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা, একটি নতুন ফ্রিজ এবং নতুন বাড়িতে বসবাসের জন্যে খাট, তোশকসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ছবি ক্যাপশন

ফিতা কেটে নতুন পাকা ঘরটি ছয় প্রতিবন্ধী ভাইবোনের হাতে তুলে দিচ্ছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়