প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪২
মোহাম্মদ রুহুল্লাহর এতোটুকু অর্জন কম কিসে!

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জেলা শিক্ষা অফিসারের সম্মান অর্জন করেছেন চাঁদপুর জেলার জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ। বুধবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) চট্টগ্রাম কলেজে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় তিনি এ গৌরবজনক স্বীকৃতি লাভ করেন। সারাদেশের সব বিভাগে একই দিনে একযোগে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজ প্রাঙ্গণে। এতে বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা শিক্ষা অফিসাররা অংশগ্রহণ করেন। মূল্যায়নে শিক্ষা প্রশাসনে দক্ষতা, শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদান, নেতৃত্বগুণ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সার্বিক কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে বিচারকরা মোহাম্মদ রুহুল্লাহকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত করেন। শ্রেষ্ঠ জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় চাঁদপুর জেলায় শিক্ষাঙ্গনে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোহাম্মদ রুহুল্লাহর নেতৃত্বে চাঁদপুর জেলায় শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় মোহাম্মদ রুহুল্লাহ বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ। এই অর্জন একক কোনো ব্যক্তির নয়, বরং চাঁদপুর জেলার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তাদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার কারণেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ (সোমবার) ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করবেন। জাতীয় পর্যায়েও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে তিনি সবার দোয়া কামনা করেছেন। চাঁদপুরের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, জাতীয় পর্যায়েও মোহাম্মদ রুহুল্লাহ তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রেখে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবেন এবং জেলার সম্মান আরও বৃদ্ধি করবেন। অকপটে সত্য যদি বলি, তাহলে বলতে হবে, চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার পদে অনেক অনেকদিন পর মোহাম্মদ রুহুল্লাহর মতো একজন চৌকষ মানুষকে পাওয়া গেলো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এ পদে হবিগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে এসে তিনি একের পর পর তাঁর প্রশংসনীয় কর্মকাণ্ড দিয়ে নিজ জেলা চাঁদপুরকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের ১৩টি জেলার শিক্ষা অফিসারের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন--এটা কম কিসে! ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার পদে তদবিরের মাধ্যমে এমন সব কর্মকর্তা অধিষ্ঠিত ছিলেন, যাদের অধিকাংশের কর্মকাণ্ড ছিলো বিতর্কিত। এ পদে থেকে তদন্তে প্রাপ্ত নির্জলা সত্যকে ধামাচাপা দেয়ার ক্ষেত্রে কারো কারো প্রয়াস ছিলো দৃষ্টিকটু ও নিন্দনীয়। সে পদটিকে মোহাম্মদ রুহুল্লাহ তাঁর ব্যক্তিগত সততা, স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণ দিয়ে নানা কর্মকাণ্ডে যেভাবে আলোকিত করেছেন, সেটা অনাগত দিনে সহজে ভুলবার মতো হবে না। তিনি আজ জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ হবেন কি হবেন না, সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়, তবে অবশ্যই শুভ প্রত্যাশার বিষয়। তিনি চাঁদপুর জেলার ইতিহাসে স্মরণকালের সেরা জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে নিজের নামটিকে উজ্জ্বল করে রাখবেন বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। তাঁর জন্যে থাকলো নিরন্তর শুভ কামনা।




