প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৮
দেবদাস কর্মকারের কবিতা
অবিমিশ্র গ্লানি দেবদাস কর্মকার
রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরেও জেগে থাকি
বাইরে জ্যোৎস্নায় ভেসে যায়
জানালা গলিয়ে হাত দিয়ে ছুঁতে চাই আলো
বারবার ভেঙ্গে যাই আবার জেগে উঠি
ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে দিন গুণি
জেগে ওঠে বিষাদের ছায়া ।স্পর্ধাভরে অলীক বাদুড়েরা ডানা মেলে উড়ে যায়
পৃথিবী জুড়ে যেন ঘুরন্ত কোনো দানব জেঁকে বসে
অদ্ভুত কাচ ভাঙ্গা হাসি তার, কঠিন কব্জির জোর
অসম্ভব অতৃপ্তির মাঝেই যেন তার সুখ।আমার সুষুপ্ত ইচ্ছেগুলি কেমন যেন ছিঁড়ে যায়,
জানালা থেকে সরে আসি
দেখি রেকাবী জুড়ে তোমার রেখে যাওয়া গতকালের বাসি ফুল,
আমার অনার্য বৃক্ষের ডালপালা ঝুলে থাকে জানালায়
হাজার বছরের গন্ধ মাতাল কুঁড়ি, নতুন পাতা,
অধোগামী হয়ে তাজা ফুলের গন্ধ খুঁজি
তোমার শরীরের গন্ধ আঙ্গুলের স্পর্শ
অন্তর জুড়ে এখোন আমার অবিমিশ্র গ্লানি
আধো জ্যোৎস্নায় কে যেন যেতে যেতে আত্মঘাতী হয়,
অন্ধ মাতাল চিরকালীন বাঙালির মতো।১১ জানুয়ারি ২০২৬, ঢাকা, ২৭ পৌষ ১৪৩২
নিরাকুল সাগর বেলায়
দেবদাস কর্মকারপৌষের কনকনে শীতে
আকাশ নেমেছে জলে
হিমেল বাতাস, বেলা বেড়ে রোদের উৎসবে
সামিল হয়েছি আমরা ক’জন
চমৎকার দীপ্ত দিবালোকে কে করে প্রশ্ন আর
ছুঁয়ে যায় চোখ সুদূরপ্লাবী সাগরের ঢেউয়ে
এতো অসহ্য নীল এতো বালিয়াড়ি
জীবনের সকল বিষাদ মিশে যায় রূপালি জমিনে।পঞ্চাশটি বছর জীবনের সুদীর্ঘ পথ হেঁটে এসে
অরুণিত দিনে কেমন একাকার বেলাভূমে
উড়িয়ে দিয়েছি হাওয়ার ভেতর সব নীল কষ্টের পালক
মেঘ মুলুকের গানে গানে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে চৌদ্দ জন
পান্থ তীর্থের পাশে অপূর্ব বন্ধনে চূর্ণ গোধূলির রঙে সাগর বেলায়
পঞ্চাশটি বছর পার হয়ে হয়তো খুব বেশি দূর নয় আর।৫ জানুয়ারি ২০২৬, কক্সবাজার।
মধ্যরাতের গল্প
দেবদাস কর্মকারমধ্যরাতের গল্প তিমির বিদারী হয় না কখনো
চারিদিকে বিষাদের ছায়া
রাস্তার মোড়ে হাটে বাজারে চা-খানার অন্দরে
কেমন যেন ভূতুড়ে শব্দের সমাহার।প্রশ্নের জালে আটকে যায় সব আনন্দনিকেতন
নিজের ছায়ার ভেতরেও কেমন যেন নিষ্প্রাণ ভাব
সকাল থেকে রাত্রি ধুলাভরা হাওয়া
অন্তিম পর্বে এসেও পাপড়ি খোলে না ফুল।নিসর্গের কাছে এসে দেখি সেও বড্ড অভিমানী
পৌষের কুয়াশার অন্ধকারে নদী বয়ে যায়
কিন্তু শুশ্রূষার আকাশ শুধু ছুড়ে দেয় নীল নীল নক্ষত্রের আলো
যতিহীন প্রেম
এইটুকু আপাতত শান্তি এইটুকু আপাতত তৃপ্তি
মধ্যরাতে জেগে ঘুমন্ত তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি
ঝরে পড়ে গেছে ফুলের মতো সব ক্লান্তি
ঐ চোখ থেকে জলের ধারার মতো একাধারে
সমূহ শূন্যতা বিষাদের ছায়া ছেড়ে নিষ্কৃতির আড়ালে থেমে আছে মধ্য রাতের গল্প।৩ জানুয়ারি ২০২৬,ঢাকা, ১৯ পৌষ, ১৪৩২
সুন্দরের শ্রেষ্ঠতম অপচয়
দেবদাস কর্মকারপৌষ এলেই ব-দ্বীপে জেঁকে বসে শীত
ছন্নছাড়া চারপাশ রৌদ্রহীন প্রকৃতি
উত্তরের হাওয়ার জানালায় কড়া নাড়ে মৃত্যু
প্রতিদিন মিছিলের বন্যা নগর বন্দর গ্রামে
পায়ে পিষে থেঁতলে যায় ফুল
একগুচ্ছ কৃষ্ণচূড়ার মৃত্যু হয় অকারণে ।সহস্র মানুষের পদাঘাতে মানুষেরই মৃত্যু উদভ্রান্তের উৎসব, মানব শরীরের ঝলসানো মাংসে--
যখোন শোণিতের ধারাপাত সবুজ জমিনে
চোখ বুঁজে চলে যায় ক্রান্তিকাল, চোখ বুঁজে লেখে কবি
যুদ্ধ বণিকেরা খোঁজে পৃথিবীর নতুন রণাঙ্গন ।যেন মানুষের গল্পের শেষ নেই,
কোনো দায় নেই কোনো দুঃখ নেই
আছে রূপান্তর
প্রতিবাদহীন জয়ধ্বনি
সাদা কালো ধর্ম বর্ণের প্রচণ্ড মহামারী
আছে সুন্দরের শ্রেষ্ঠতম অপচয়,
একগুচ্ছ কৃষ্ণচূড়ার মৃত্যু হয় অকারণে।২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২ পৌষ ১৪৩২ পৌষের গ্রাম বাংলা, লাহুড়িয়া, নড়াইল।
ছন্নছাড়া দৃশ্যের বাইরে
দেবদাস কর্মকারকতদূর েেহাটে গিয়ে হঠাৎ মুখোমুখি হই তোমার
পড়ে না মনে কখোন ছোটো ছোটো কথা হয়েছিলো
তারপর নীরবতাময় হলুদ ডোবানো বিকেলে
তামসী বৃক্ষের কাছে নতজানু হয়ে খুঁজেছি রাতের হৃদয়।ভালো নেই মন,
যখোন দেখি দীপ্ত দিবালোক অজস্র অন্তিম অঞ্জলি
সকাল দুপুর ব্যর্থ বিকেলে শুধু মৃত্যু মৃত্যু খেলা
ইন্দ্রপ্রস্থ বিদীর্ণ করে ছুটে চলে মিত্ররূপী ভয়ংকর
বুক ভাঙা রাজার প্রসাদ, রুদ্ধ হয়ে যায় স্বর্গ রথ
জটিল ইচ্ছা প্রলোভন থেমে যায়
সাহসের মুখে স্কচটেপ,
কাকে বলি পরিপূর্ণ, যেন ভবিষ্যৎহীন নৌকা
পৃথিবীর সব ভষ্ম ছাইগাদা নিয়ে চলেছে অনিশ্চিতের গাঙে।এই দূর ভ্রমণের পথে এসে যখনই পেলাম তোমাকে
আর এই অপূর্ব সবুজ ঘাসের প্রান্তর
এই নীরবতাময় হলুদ বিকেলে যেন পরিপূর্ণ হলাম
বুঝলাম সব ছন্নছাড়া দৃশ্যের বাইরেও
তুমি কতোটা সুন্দর।২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ঢাকা, ৫ পৌষ ১৪৩২







