প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:২৩
ধারাবাহিক উপন্যাস-৩৬
নিকুঞ্জ নিকেতন

(পূর্ব প্রকাশের পর)
বিশাখার সহযোগিতায় কিছুদিনের মধ্যে রওশন আরা কুটির শিল্পের কাজ শুরু করে। ভদ্রমহিলা এই বয়সেও বেশ পরিশ্রমী। আশরাফ সাহেব থেকে আশরাফের দূরত্বটা পার করে আমারা সকলে এখন একযোগে। আড্ডা হচ্ছে, ঘোরাফেরা হচ্ছে, নিজেদের মতো করে বাঁচা হচ্ছে। আমার এতবড় বাড়িটা এখন জনশূন্য ইটপাথরের খাঁচা নয় এটাকে একান্নবর্তী বাড়ি বলা চলে তফাৎ একটাই এখানে আমরা কেহ কারো আত্মীয় নই তবে আত্মার সম্পর্কটা ঠিকই গড়ে উঠেছিল। বিকেলে বাড়ির লবিটায় বসা হয় আমাদের। আড্ডা আর বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় থাকি মশগুল এরই মধ্যে মনমোহন চা নিয়ে হাজির। রওশন আরা এখন কুটির শিল্পের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছে। প্রতিদিন তার কিছু না কিছু নতুন করে করতে হবে তাই নিজেই এগুলোতে মেতে থাকেন। আশরাফের পকেট খরচ, ওষুধ ইত্যাদি বিষয়গুলো এখন রওশন আরা তার নিজ উপার্জন দিয়ে খরচ করেন। ভালোই হয়েছে সহানুভূতি শতভাগ হলে এটাতে হিনমন্যতার জন্ম দেয় আর আত্মমর্যাদার হানি ঘটে। ওদের সহযোগীতা করতে পেরে একদিকে যেমন আত্মতৃপ্তি ছিল অপরদিকে তারা আত্মসম্মান টিকিয়ে বাঁচতে পারছে বলে সন্তুষ্টিও ছিল। এখন খবর পড়া হয় অনলাইনে তাই খবরের কাগজ রাখাটা অযথা। যে লোকটা এই নিকুঞ্জ নিকেতনে বহুকাল খবরের কাগজ দিয়ে গেছে সে এখন বয়স্ক আমাদের মতো। একদিন বলেছিলামÑখবরের কাগজ এখন বোধ হয় কেউ পড়ে না সকলে অনলাইনেই তদনগদ খবর জানতে পারে। খবরের কাগজের খবর যখন ছাপা হয় খবর তখন পুরানো হয়ে যায়। লোকটার মুখ গোমড়া হয়ে গিয়েছিল আর তখন বলেÑস্যার আপনারা সবাই যদি আমাগো কাছ থেকে খবরের কাগজ না কিনেন তাহলে পেটে ভাত দিব কীভাবে। কথাটায় কেমন যেন একটা মায়া জন্মে যায় আর তখনি সিদ্ধান্ত নেই এদের অন্তত টিকিয়ে বাঁচতে রাখতে হবে। সেই থেকে অদ্যাবধি লোকটা খবরের কাগজ দিয়ে যাচ্ছে। বিকেলের আড্ডায় চায়ের টেবিলে সেটা থাকে তাই না চাইতেও কাগজের হেডলাইনগুলো চোখ বুলিয়ে যাই কোনোটা ভালো লাগলে পুরো পড়ি।
‘অনিমেষ-পিটার তোমরা কী এই নিউজটা দেখেছ?’
‘কোনটা দাদা?’
‘বর্তমান সরকার সার্বজনীন পেনশন প্রথা চালু করতে যাচ্ছে। এখানে বিস্তারিত দেওয়া আছে এই বিষয়ে।’
‘হ্যাঁ আমি বেশ কিছুদিন আগে এটার বিয়য়ে শুনেছিলাম কিন্তু কেহ ভালোভাবে কিছুই বলতে পারছে না। বিষয়টা আপনি কী বুঝিয়ে বলতে পারবেন দাদা?’
‘সার্বজনীন পেনশন যদি সফলভাবে চালু হয় তাহলে এটা হবে এদেশের মানুষের জন্য আশীর্বাদি সিদ্ধান্ত কেননা আমাদের সরকারি চাকুরেদের শেষ বয়সে পেনশন আছে বলেই অবসরের পর অন্যদের উপর নির্ভরশীল না হয়ে বাঁচা যায়। যদিও পেনশনের পরিমানটা আহামরি না তবুও কোনোমতে খেয়ে পড়ে বাঁচা যায়।’
‘এটা কোন শ্রেণির মানুষের জন্য প্রযোজ্য।’
‘এখানে কয়েকটা ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে দেখছি। প্রথমটা প্রবাস স্কিম অর্থাৎ যারা আমাদের দেশের শ্রমশক্তি অন্য রাষ্ট্রে কর্মরত আছে তাদের জন্য এই স্কিম। প্রবাসী হয়েও তারা এই স্কিমের আওতায় পেনশন জমা করতে পারবে। দ্বিতীয় প্রগতি স্কিমÑএটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারী/কর্মকর্তাদের জন্য। এখানে আরও উল্লেখ করেছে যে এই স্কিমে ৫০% তারা জমা করবে আর ৫০% দিবে তার প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ একজন কর্মচারী/ কর্মকর্তা তার পেনশন স্কিমে জমা ১,০০০ টাকা করলে তার প্রতিষ্ঠান ১,০০০ টাকা দিবে এবং তার জমা হবে সর্বমোট ২,০০০ টাকা। তৃতীয় স্কিম সুরক্ষাÑএটা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অর্থাৎ যারা রিকশাচালক, তাঁতি, কামার, কুমার, জেলে, কৃষক ইত্যাদি পেশাজীবি লোকগুলো। চতুর্থ সমতা স্কিমÑএটার বিষয়ে বলা আছে যারা দারিদ্র সীমার নিচে আছে তাদের বিষয়ে। এক্ষেত্রে দারিদ্র্য সীমা পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক নির্ধারিত হতে হবে।’
[পরের পর্ব আগামী সংখ্যায় ছাপা হবে]








