প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ১১:১০
শিশুকণ্ঠের লেখক হিসেবে গর্বিত

চাঁদপুর কণ্ঠ ব্যতীত চাঁদপুরের কোনো দৈনিকই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক পাতা প্রকাশ করতে পারেনি। এ কারণে চাঁদপুরের অধিকাংশ লেখকের সূচনা হয়েছে চাঁদপুর কণ্ঠ-এর ‘শিশুকণ্ঠ’ বা ‘পাঠক ফোরাম’ বিভাগের হাত ধরে। এসব পাতায় লিখে লিখে লেখকরা সৃজনীশক্তির বিকাশ করেছেন। পরে সাহিত্যপাতায় তাদেরই লেখায় ভরে উঠেছে। আমরা যারা শিশুকণ্ঠে লিখতাম, তাদের অনেকেই জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশজুড়ে সুনাম অর্জন করেছেন। এ অর্জনে শিশুকণ্ঠের ভূমিকাও রয়েছে।
|আরো খবর
‘শিশুকণ্ঠ’ ও ‘পাঠক ফোরাম’ আমাদের কাছে ছিল এক উন্মাদনার নাম। প্রতি শুক্র-শনিবার ভোরে, এত ভোরেও গিয়েছি কখনও কখনও, যখন দোয়াগঞ্জলেও পত্রিকা আসেনি। আমরা দাঁড়িয়ে থেকে পত্রিকার পাতা উল্টাতাম। যেদিন দেখলাম লেখা আছে শিশুকণ্ঠে বা পাঠক ফোরামে আনন্দের সীমা থাকতো না। যেদিন লেখা না আসতো, ভীষণ মন খারাপ করে বাসায় ফিরতাম। শিশুকণ্ঠে লেখা ছিল আমাদের জন্য খুব গৌরবের।
‘শিশুকণ্ঠ’ নিয়ে আমার একটি মজার ঘটনা রয়েছে। আমি তখন শিশুকণ্ঠে নিয়মিত লিখি ও পড়ি। একদিন একজন নবীন কবির কবিতা পড়ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো এ তো আমার কবিতা! গত সপ্তাহেই শিশুকণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে। শিশুকণ্ঠ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পরে বললেন, একজন হাতে লিখে কবিতাটি দিয়েছিল। সেটাই প্রকাশ হয়েছে! কেউ আরেকজনের কবিতা নিজের নামে দিতে পারে, তার ধারণা ছিল না। যদিও আমি মনে মনে খুশি হয়েছি। কারণ কবিতাটি কারো অন্তত এত ভালো লেগেছে যে, সে নিজের নামে ছাপতে দ্বিধা করেনি!
শিশুকণ্ঠ সাতশত সংখ্যায় পদার্পণ করছে। এটি নিঃসন্দেহে মাইলফলক। বাংলাদেশের কোনো স্থানীয় পত্রিকার এমন রেকর্ড থাকার সম্ভাবনা খুব কম। আমরা এই শুভক্ষণে চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত, শিশুকণ্ঠের বিভাগীয় সম্পাদক সোহাঈদ খান জিয়া-সহ শিশুকণ্ঠের সকল লেখক ও পাঠককে শুভেচ্ছা জানাই। সবাই জানি, পরমতসহিষ্ণু সমাজ গড়তে সৃজনশীল মানুষ গড়ার বিকল্প নেই। শিশুকণ্ঠ অতীতের মতো আগামীতেও এ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করুক এ শুভকামনা সবসময়।
শিশুকণ্ঠের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক।
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান : লেখক ও পিএইচডি গবেষক; গবেষণায় ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’ প্রাপ্ত।







