শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ২১:৩৪

বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবস ২০২৬ রোববার

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ক্যাবের র‌্যালি ও প্রতিবাদ সভা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ক্যাবের র‌্যালি ও প্রতিবাদ সভা

রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবস। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য গুরুত্বের সাথে পালন করা হচ্ছে। ১৯৬২ সালের ১৫ মার্চ তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি ভোক্তাদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে মার্কিন কংগ্রেসে ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। সেই ঘটনার স্মরণে ১৯৮৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১৫ মার্চ বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি সারা বিশ্বের ভোক্তা সংগঠনগুলোর ফেডারেশন কনজ্যুমার ইন্টারন্যাশনাল (সিআই)-এর সদস্য সংগঠনগুলো উদযাপন করে আসছে। ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করা এবং ন্যায্য বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরাই এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য।

২০২৬ সালের বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য হলো—'সেফ প্রোডাক্টস্, কনফিডেন্ট কনজ্যুমার্স' , যার বাংলা অর্থ করা হয়েছে 'নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করি, ভোক্তার আস্থা গড়ে তুলি।' নিরাপদ পণ্য প্রাপ্তি কেবল একটি নিয়ন্ত্রক বা প্রশাসনিক বিষয় নয়—এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। যখন পণ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকে, তখন ভোক্তাদেরই এর ভার বহন করতে হয়—আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া, আর্থিক ক্ষতির শিকার হওয়া, পরিবেশগত ক্ষতি এবং কখনো কখনো জীবনহানির মতো গুরুতর পরিণতির মাধ্যমে। এই প্রতিপাদ্য মনে করিয়ে দেয় যে, একটি সুস্থ অর্থনীতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্যে ভোক্তার নিরাপত্তা, আস্থা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে ভোক্তারা এখনও নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। মানহীন, ভেজাল বা নিম্নমানের পণ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্যে বড়ো ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পণ্যের প্রকৃত সংকট না থাকলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুদদারি, কারসাজি ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে ভোক্তাদের জিম্মি করে ফেলছে।

বাজারে এই অস্থিতিশীলতা শুধু ভোক্তাদের জন্যে নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতি ও সমাজের জন্যেও ক্ষতিকর। একটি সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থার জন্যে প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিক ব্যবসায়িক আচরণ। যদি বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য অব্যাহত থাকে, তবে ভোক্তাদের আস্থা নষ্ট হয় এবং বাজারব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়।

বাংলাদেশে ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষার জন্যে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজার তদারকি আরও জোরদার করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) দীর্ঘদিন ধরে দেশের ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, ন্যায্যমূল্য প্রতিষ্ঠা, বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্যাব বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই র‌্যালি ও প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বার্থে চলমান সমস্যাগুলোর প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায় এবং বাজারে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য জোর দাবি জানাতে চায়।

ক্যাবের দাবিসমূহ : ১. মানহীন, ভেজাল, নকল ও অনিরাপদ পণ্য উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে; ২. দ্রব্যমূল্যের অযৌক্তিক বৃদ্ধি, মজুদদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ৩. পণ্যের সঠিক মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদ সংক্রান্ত তথ্য স্পষ্টভাবে প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে; ৪. পণ্যের লেবেলিং ও প্যাকেজিংয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য, ভুয়া বিজ্ঞাপন ও প্রতারণামূলক প্রচারণা বন্ধে কঠোর নজরদারি করতে হবে; ৫. জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার তদারকি ও বিএসটিআই-এর ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও

সম্প্রসারিত করতে হবে; ৬. ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন , ২০০৯ আইন অধিকতর কার্যকর ও যুগোপযোগী করার জন্য দ্রুত সংশোধন করতে হবে; ৭. অনলাইন ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিক্রিত পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০২০ (সংশোধিত) ও

ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে।

ক্যাবের বক্তব্য হচ্ছে : একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভোক্তা-বান্ধব বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকার, ব্যবসায়ী, ভোক্তা সংগঠন এবং সাধারণ জনগণ--সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবসের এই দিনে ক্যাবের প্রত্যাশা : নিরাপদ পণ্য, ন্যায্যমূল্য এবং ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়