প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০০
বলাখাল-কাশিমপুর সড়কের বেহাল দশা
ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ।। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন

হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল-কাশিমপুর সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার কারণে লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড়ো বড়ো গর্ত ও খানাখন্দ, রাস্তার দু পাশ ভেঙ্গে যাওয়া এবং কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় এটি এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
|আরো খবর
স্থানীয়দের অভিযোগ, দু বছরেরও বেশি সময় ধরে সড়কটির এই করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। অথচ এটি বলাখাল হয়ে রামপুর বাজার, মিয়ার বাজার, বাংলাবাজার, সাহেব বাজার, রাজাপুর বাজার, কাশিমপুর বাজার, জোরপুর বাজার ও বাদামতলী হয়ে নারায়ণপুরের ওপর দিয়ে ঢাকায় যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। একই সঙ্গে চাঁদপুর সদর, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, শাহরাস্তি, কচুয়া ও কুমিল্লায় যাতায়াতের অন্যতম সহজ পথ এটি। প্রতিদিন শত শত সিএনজি অটোরিকশা, অটোবাইক, বালুবাহী ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে ভরে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রামপুর এলাকার ইংরেজি শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বলেন, এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীদের জন্যে এই পথ ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছেন, এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।
স্থানীয় সিএনজি চালক ও শ্রমিক নেতা লিটন পাটোয়ারী জানান, আমি প্রায় ২০ বছর ধরে এই সড়কে গাড়ি চালাই। কিন্তু গত কয়েক বছর কোনো সংস্কার না হওয়ায় এখন গাড়ির ক্ষতি বেশি হচ্ছে, আয় কমে গেছে। প্রায়শই গাড়ি নষ্ট হচ্ছে।
এদিকে সড়কের চলমান সংস্কার কাজ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের মান সন্তোষজনক নয় এবং নির্ধারিত মানদণ্ড মানা হচ্ছে না। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় কাজের স্থানে সংশ্লিষ্ট কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উপস্থিতি ছিলো না।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবির জানান, সড়কটির সমস্যা সম্পর্কে তারা অবগত এবং সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। তিনি জানান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৪.৪৬০ কিলোমিটার সড়কের কাজ শুরু হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার কার্পেটিং সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে বলাখাল থেকে রামপুর বাজার পর্যন্ত কার্পেটিং শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জাকির হোসেনকে মুঠোফোন ফোন করলে তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি এবং এ বিষয়ে কথা বলার জন্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগের জন্যে অনুরোধ করেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, কাজ দ্রুত শেষ করা হলেও তা যেনো মানসম্পন্ন হয় এবং পুরো সড়কটি সংস্কারের আওতায় আনা হয়।
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, সড়কের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। স্থানীয়দের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত ও টেকসইভাবে সংস্কার করে জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করা হোক।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








