প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪৩
গবেষণায় অনন্য স্বীকৃতি: স্বাধীনতা পুরস্কারজয়ী ড. এম. এ. রহিমকে ডিআইইউর রাজকীয় সংবর্ধনা

দেশের কৃষি গবেষণায় যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবারের স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ অর্জন করেছেন বিশিষ্ট কৃষিবিজ্ঞানী ড. এম. এ. রহিম। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)-এর কৃষি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একজন গবেষকের গড়ে ওঠার গল্প
ড. রহিমের শিক্ষাজীবনও সমানভাবে উজ্জ্বল। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক্টরাল গবেষণাও সম্পন্ন করেন।
শিক্ষাজীবনের পর তিনি দীর্ঘ সময় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষকতা করেন এবং বিভাগীয় প্রধান ও ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
গবেষণায় বিস্ময়কর অবদান: সংখ্যায় ও বাস্তবে
ড. এম. এ. রহিম শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি বাংলাদেশের ফল গবেষণার এক কিংবদন্তি নাম। তাঁর গবেষণার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো—
- ১২৮টিরও বেশি ফলের নতুন জাত উদ্ভাবন
- জনপ্রিয় উচ্চফলনশীল জাত ‘বাউ কুল’ উদ্ভাবনে নেতৃত্ব
- ডিআইইউতে ৪টি নতুন কাঁঠালের জাত (DIU Jackfruit-1, 2, 3, 4) উদ্ভাবন ও সরকারি স্বীকৃতি
- ফলের জার্মপ্লাজম সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, তাঁর প্রতিষ্ঠিত জার্মপ্লাজম সেন্টার এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ ফল সংগ্রহশালা হিসেবে পরিচিত।
গবেষণা, প্রকাশনা ও একাডেমিক নেতৃত্ব
তাঁর একাডেমিক অবদান সংখ্যায়ও বিস্ময়কর—
- ৪০০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ
- ২০টির বেশি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা
- ১০১ জন পিএইচডি ও ৩৫০ জন এমএস শিক্ষার্থীর তত্ত্বাবধান
- কৃষিবিষয়ক ১০টি বইসহ বহু প্রকাশনা
এই বিশাল গবেষণা কর্মযজ্ঞ তাঁকে শুধু জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিত করে তুলেছে।
কৃষক পর্যায়ে সরাসরি প্রভাব
ড. রহিমের গবেষণার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর মাঠপর্যায়ের প্রয়োগ। তিনি হাজার হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন আধুনিক ফল চাষ, বাগান ব্যবস্থাপনা ও উচ্চফলনশীল জাত ব্যবহারে।
ফলে—
- কৃষকের উৎপাদন বেড়েছে
- দেশীয় ফলের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে
- বিলুপ্তপ্রায় ফলের সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছে
পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
স্বাধীনতা পুরস্কার ছাড়াও তিনি অর্জন করেছেন বহু মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা—
- প্রধানমন্ত্রীর গোল্ড মেডেল (একাধিকবার)
- বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক
- বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস গোল্ড মেডেল
- বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার গোল্ড মেডেল
- ‘প্রথম আলো কৃষি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ (২০২৪)
ডিআইইউতে নতুন গবেষণা বিপ্লবের নেতৃত্ব
বর্তমানে ডিআইইউতে তাঁর নেতৃত্বে কৃষি গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বিশেষ করে—
- জার্মপ্লাজম গবেষণা
- জলবায়ু সহনশীল ফল ও ফসল উন্নয়ন
- টেকসই কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, তাঁর নেতৃত্বে ডিআইইউ কৃষি গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
শেষ কথা: এক গবেষকের সাফল্য, এক জাতির অনুপ্রেরণা
ড. এম. এ. রহিমের জীবন শুধু একটি একাডেমিক সাফল্যের গল্প নয়—এটি বাংলাদেশের কৃষি গবেষণার বিবর্তনের প্রতিচ্ছবি।
খাদ্য নিরাপত্তা, ফল গবেষণা এবং কৃষি উদ্ভাবনে তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মের গবেষকদের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








