বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৪

উত্থান রেমিট্যান্সে, পতন মানবাধিকারে!

মোহাম্মদ সানাউল হক
উত্থান রেমিট্যান্সে, পতন মানবাধিকারে!

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি আজ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে এই খাতে নতুন ইতিহাস গড়েছে দেশ। বছরজুড়ে প্রায় ৩২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে উঠে এসেছে। আগের বছরের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ২২ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এই রেকর্ড অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়া, আমদানি ব্যয় সামাল দেওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় প্রবাসীদের অবদান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে, যদি দেশের চালিকা শক্তি শক্ত অবস্থানে থাকে।

সূত্রে জানায়, ২০২৫ সালে মোট ৩ হাজার ২৮১ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৫৯২ কোটি ডলার বেশি। শতাংশের হিসেবে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ০৪ শতাংশ। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণেও দেখা যায় ধারাবাহিক প্রবাহÑমার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার, আর বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায় রেমিট্যান্স। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিটি মাসেই ২০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা এই প্রবৃদ্ধিকে টেকসই ভিত্তি দিয়েছে।

এই প্রবাহের পেছনে সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রবাসী শ্রমবাজার। আর সৌদি আরব বরাবরের মতোই শীর্ষ উৎস দেশ হিসেবে অবস্থান করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়েও দেশটি থেকেই সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ সৌদি আরব থেকে প্রায় ৪৯.১১ মিলিয়ন ডলার দেশে এসেছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রও গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে উঠে এসেছে। কুয়েত, কাতার, ওমান, বাহরাইন, ইতালি ও সিঙ্গাপুরও শীর্ষ দশ দেশের তালিকায় রয়েছে, যা প্রবাসী শ্রমবাজারের বিস্তৃত ভৌগোলিক উপস্থিতি নির্দেশ করে।

ঐতিহাসিকভাবে এই প্রবৃদ্ধির ধারাও চোখে পড়ার মতো। ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে যেখানে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিলো মাত্র ১১.৮ মিলিয়ন ডলার, সেখানে ১৯৮০-এর দশকে তা ৩৫০ মিলিয়ন এবং ১৯৯০-এর দশকে ৭৫০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। পরবর্তী দশকগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ফলে রেমিট্যান্স দ্রুত বাড়তে থাকে এবং বর্তমানে তা দেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।

তবে এই সাফল্যের আড়ালে প্রবাসী শ্রমিকদের বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন ও কঠিন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গবেষণার তথ্যে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত দক্ষিণ এশীয়Ñবিশেষ করে বাংলাদেশী শ্রমিকদের একটি বড়ো অংশ নিয়মিতভাবে শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে কিছু সাপ্লায়ার বা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের সম্মতি ছাড়া কাজ করাতে বাধ্য করে, এমনকি শ্রমিকদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগও বিদ্যমান। এছাড়াও নির্ধারিত মজুরি পরিশোধে গড়িমসি করে, অতিরিক্ত সময় কাজ করায় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসে বাধ্য করেÑএমন অভিযোগও প্রায়ই উঠে আসে। এসব সমস্যা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং একটি কাঠামোগত বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে প্রবাসী শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণ এখনো সীমিত রয়ে গেছে।

বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের ‘কাফালা’ বা স্পন্সরশিপ ব্যবস্থা শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দেয়। এই ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়া চাকরি পরিবর্তন, দেশত্যাগ বা অন্য কোনো সুযোগ গ্রহণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কাজ চালিয়ে যান। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই কাঠামো শ্রমিকদেরকে এক ধরনের অনিরাপদ ও অরক্ষিত অবস্থায় রাখে, যেখানে শোষণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করা অনেক নারী প্রবাসী শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নিয়োগকর্তার বাসায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকায় তাদের পক্ষে সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দেশে ফিরে এসব অভিজ্ঞতা অনেক সময় সামাজিক চাপ, মানসিক ট্রমা এবং পারিবারিক সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী বা খাদ্দামা হিসেবে যারা এই দেশে আসেন, তাদের একটি বড়ো অংশই আসে দরিদ্র পরিবার থেকে, স্বপ্ন থাকে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোর। কিন্তু বাস্তবে এসে অনেকেই পড়েন অজানা এক কঠিন জীবনের মুখোমুখি। কাজের সময়সীমা নির্দিষ্ট নয়, একাধিক বাসায় গিয়ে কাজ করা, অনেক ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়, নেই সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, সংস্কৃতিগত পার্থক্য এবং আইনি জ্ঞানের অভাব তাদের আরও অসহায় করে তোলে। ফলে প্রথম থেকেই তারা একটি নির্ভরশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে পড়ে যান, যেখানে নিজেদের অধিকার রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ‘কফিল’ বা স্পন্সরশিপ ব্যবস্থা, যা কাফালা ব্যবস্থা নামে পরিচিত। এই ব্যবস্থায় একজন শ্রমিকের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে নিয়োগকর্তার হাতেÑচাকরি পরিবর্তন, বাসস্থান পরিবর্তন, এমনকি দেশে ফেরার ক্ষেত্রেও কফিলের অনুমতি প্রয়োজন হয়।

অনেক কফিল মানবিক আচরণ করলেও, অসংখ্য ক্ষেত্রে এই ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, মানসিক নির্যাতন, এমনকি শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও শোনা যায়। যখন কোনো নারী শ্রমিক এসব পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে আসেন, তখনই তার জীবন আরও অনিশ্চয়তার দিকে মোড় নেয়। কারণ কফিলের অনুমতি ছাড়া পালিয়ে আসা আইনগতভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা তাদেরকে আরও বিপদের দিকে ঠেলে দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে পালিয়ে আসা নারী শ্রমিকদের জীবন প্রায়ই হয়ে ওঠে এক দুঃস্বপ্নের মতো। তারা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া রাস্তায় বা অচেনা মানুষের সহায়তায় দিন কাটাতে বাধ্য হন। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব, খাদ্য ও চিকিৎসার সংকট তাদেরকে চরম দুর্বল অবস্থায় ফেলে। অনেকেই দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে যান, যারা এই অসহায় অবস্থার সুযোগ নেয়। ধীরে ধীরে তারা এমন এক পরিস্থিতিতে আটকে যান, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক পরিবেশে টিকে থাকার জন্যে কিছু নারী শ্রমিক বাধ্য হয়ে এমন পেশায় জড়িয়ে পড়েন, যা তারা কখনো কল্পনাও করেননি। এটি শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং একটি বড়ো সামাজিক ও মানবিক সংকটের প্রতিফলন।

অন্যদিকে, সব গল্পই অন্ধকারে ঢাকা নয়। সৌদি আরবের অনেক পরিবার রয়েছে, যারা গৃহকর্মীদের প্রতি মানবিক আচরণ করে, তাদেরকে পরিবারের সদস্যের মতো সম্মান দেয়। এসব ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকরা নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, নিয়মিত বেতন পান এবং কিছুটা হলেও স্বস্তির জীবনযাপন করতে পারেন। অনেকেই বছরের পর বছর একই পরিবারের সঙ্গে কাজ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, দেশে ফিরে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন, সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। এই ইতিবাচক দিকগুলো দেখায় যে, সঠিক পরিবেশ ও আচরণ পেলে একজন নারী শ্রমিক তার জীবন বদলে দিতে সক্ষম।

তবে বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাজের চাপ, মানসিক চাপ এবং অনিরাপদ পরিবেশ নারী শ্রমিকদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। অনেক বাসায় একাধিক সদস্যের জন্যে রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শিশু ও বৃদ্ধদের দেখাশোনাÑসবকিছু একাই সামলাতে হয়। এই অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ থেকে মুক্তি পেতে গিয়ে অনেকেই পালানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পালানোর পর তাদের সামনে যে অন্ধকার বাস্তবতা অপেক্ষা করে, তা অনেক সময় আগের চেয়েও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ফলে তারা এক ধরনের দুষ্টচক্রে আটকে পড়েনÑযেখানে না পারছেন সহ্য করতে, না পারছেন মুক্তি পেতে।

এই পরিস্থিতির পেছনে রাষ্ট্রীয় তদারকি ও দায়িত্ব পালনের ঘাটতিও বড়ো একটি কারণ। প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং গ্রহণকারী দেশ হিসেবে সৌদি আরবের দায়িত্ব রয়েছে এই শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। যথাযথ প্রশিক্ষণ, আইনি সহায়তা, হটলাইন সেবা, আশ্রয়কেন্দ্র এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা থাকলে অনেক সমস্যা কমে আসতে পারতো। একইসঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। নারী শ্রমিকরা যেন দিশেহারা হয়ে ভুল পথে না যায়, তার জন্যে একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজনÑযেখানে মানবিকতা, আইন এবং দায়িত্ববোধ একসঙ্গে কাজ করবে।

এছাড়াও, বিদেশ যাওয়ার আগেও অনেক শ্রমিক প্রতারণার শিকার হন। দালালচক্রের মাধ্যমে উচ্চ খরচে ভিসা সংগ্রহ, ভুয়া চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং চুক্তি ভঙ্গের ঘটনা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে বিদেশে যান এবং সেখানে প্রত্যাশিত আয় না হলে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন। দেশে ফিরে সেই ঋণের বোঝা বহন করতে গিয়ে তাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

বিদেশে কর্মরত অবস্থায় বেতন বকেয়া, চুক্তি লঙ্ঘন এবং শ্রম শোষণের অভিযোগও কম নয়। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়ায় গেলেও ন্যায্য পাওনা পুরোপুরি আদায় করা সম্ভব হয় না। এতে তাদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যা পরিবার ও সামগ্রিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অন্যদিকে দেশে ফিরে প্রবাসীরা প্রায়ই সম্মানের পরিবর্তে হয়রানির শিকার হনÑএমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে বিমানবন্দরে অযথা জিজ্ঞাসাবাদ, লাগেজ তল্লাশির নামে দুর্ব্যবহার, এমনকি চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। অনেক প্রবাসী জানিয়েছেন, তাদের আনা মালামাল হারিয়ে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। এই অভিজ্ঞতা তাদের মানসিকভাবে হতাশ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি আস্থায় চিড় ধরায়।

এমন পরিস্থিতিতেও, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী রয়েছে। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত এসেছে ২ হাজার ৫৫০ কোটি ডলারের বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। মার্চ ২০২৬-এর প্রথম ২৪ দিনেই ৩.০৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা একক মাস হিসেবে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে স্পষ্ট, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

সবকিছু বিবেচনায় স্পষ্ট হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড়ো অবদান রাখা এই প্রবাসী শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। তাদের শ্রম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায়, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখে, কিন্তু বিনিময়ে তারা পান না পর্যাপ্ত সুরক্ষা, মর্যাদা কিংবা সম্মান। এই বৈপরীত্য দূর করতে হলে প্রয়োজন বাস্তবমুখী নীতিগত সংস্কার, কার্যকর নজরদারি এবং প্রবাসীবান্ধব প্রশাসনিক ব্যবস্থা। নইলে রেমিট্যান্সের এই অর্জন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

মোহাম্মদ সানাউল হক : ফিচার লেখক ও সাংবাদিক।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়