বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৩৪

মতলব উত্তরে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা

কামরুল হাসান রাব্বি
মতলব উত্তরে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা

মতলব উত্তর উপজেলার উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। এতে রোগীরা হতাশ।

জানা গেছে, এ উপজেলায় ৬টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, এসব কেন্দ্রের কোনোটি থেকেই রোগীরা কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ ক্লিনিকে এ সময়সূচি মানা হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ কমিউনিটি ক্লিনিক। তবে তদারকির অভাব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে অনেক এলাকাতেই এই সেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রাথমিক চিকিৎসা, মাতৃসেবা ও শিশুসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মতলব উত্তর উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষ এসব ক্লিনিকের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও দূরত্বের কারণে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা শহরের চিকিৎসাকেন্দ্রে সহজে যেতে পারেন না। ফলে কমিউনিটি ক্লিনিকই তাদের প্রধান ভরসা। কিন্তু সেই ক্লিনিকগুলোতেই সঠিক সময়ে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী না পাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্লিনিকে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায় না। অনেক সময় দরজাও বন্ধ থাকে। জরুরি প্রয়োজনে ফোন করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফোন ধরেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, একজন স্বাস্থ্য সহকারী এবং একজন পরিবার কল্যাণ সহকারী থাকার কথা। তারা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, কেউই নিয়মিত ক্লিনিকে উপস্থিত থাকেন না।

সরজমিনে মতলব উত্তর উপজেলার টরকি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ইসলামাবাদ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, লুধুয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ ইন্দুরিয়া, এনায়েতনগর, ফতেপুর, ফরাজিকান্দি, লুধুয়া, এখলাশপুর, মোহনপুর ও বাগানবাড়ি এলাকার কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ক্লিনিকের সামনে রোগীর উপস্থিতি থাকলেও অধিকাংশ ক্লিনিকের দরজায় তালা ঝুলছে।

সুজাতপুর এলাকার বাসিন্দা নয়ন চন্দ্র বলেন, ছোটখাটো চিকিৎসার জন্যে তারা নিয়মিত কমিউনিটি ক্লিনিকে গেলেও অধিকাংশ সময় সেখানে চিকিৎসক পাওয়া যায় না, ফলে বাধ্য হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। একইভাবে ইসলামাবাদ এলাকার এক গর্ভবতী নারী জানান, নিয়মিত চেকআপের জন্যে ক্লিনিকে এলেও প্রয়োজনীয় সব সেবা সেখানে পাওয়া যায় না, যার কারণে তাকে আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে, যা তার জন্যে বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ ধরনের অনিয়মের কারণে বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। হঠাৎ অসুস্থতা বা জরুরি পরিস্থিতিতে ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা না পেয়ে তাদের অন্যত্র যেতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ দুদিক থেকেই বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। চরাঞ্চলের রোগীদের জন্যে এই ভোগান্তি আরো বেশি। কারণ, তাদের বিকল্প চিকিৎসাকেন্দ্র অনেক দূরে অবস্থিত।

একাধিক ভুক্তভোগী জানান, জরুরি প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মোবাইল নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও অনেক সময় ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এতে করে রোগীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। নিয়মিত তদারকি না থাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধের অভাব দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি নিয়মিত মনিটরিং করতো, তাহলে এ ধরনের সমস্যা অনেকাংশে কমে যেত।

মতলব উত্তর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস জানান, আমি কিছুদিন হয় এখানে যোগদান করেছি, খোঁজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়