বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩৬

বসতঘরের ভেতরেই দেয়াল নির্মাণ, বাধা দেয়ায় হামলার অভিযোগ

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো।।
বসতঘরের ভেতরেই দেয়াল নির্মাণ, বাধা দেয়ায় হামলার অভিযোগ

ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের উপাদিক গ্রামের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক তালুকদার। জীবদ্দশায় তিনি সরকারের কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে একটি পাকাঘর পান। গত একবছর পূর্বে তিনি মৃত্যুবরণ করার পর সেই ঘরে বর্তমানে থাকছেন তাঁর দু সন্তান। সম্প্রতি সেই ঘরে বসবাস নিয়ে শুরু হয়েছে উভয়ের মধ্যে ঝামেলা। তুচ্ছ ঘটনায় কথা কাটাকাটি ও ঝগড়াকে কেন্দ্র করে ছোট্ট এই ঘরটির মাঝখানে দেয়াল নির্মাণের ঘটনা ঘটেছে। সেই দেয়াল নির্মাণে বাধাদানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনার অভিযোগ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আরেক ভাইয়ের স্ত্রী।

থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ ও ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, গত এক বছর পূর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক তালুকদার মৃত্যুবরণ করার পর বড়ো ছেলে মো. কবির হোসেন এবং মেজো ছেলে মো. দিদার হোসেন

দিদার হোসেন পিতার ঘরটিতে থাকছেন। দিদার জানান, তার পিতার মৃত্যুর পর

বড়োভাই সরকার কর্তৃক তৈরি করা ঘরের এক পাশে থাকেন। নেশা করার কারণে তিনি নানা সময় ঝামেলা করেন। অন্যদিকে তার ছোট ভাই রুবেল হোসেন পিতার তৈরি করা আরেকটি ভবনে একাই থাকেন। এ কারণে একদিকে তিনি যেমন তার পৈতৃক সম্পত্তি বুঝে পাচ্ছেন না, আবার বড়োভাই কবির হোসেনের কারণে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বড়োভাই খারাপ ব্যবহার করেন। ইতঃপূর্বে থানা পুলিশ এসে তাদেরকে স্বাভাবিক আচরণ ও পৈতৃক সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে বললেও তারা কোনো কিছুই করেননি।

বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) সর্বশেষ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে

বড়োভাই তার লোকজন দিয়ে ঘরের মাঝখানে দেয়াল নির্মাণ করেন। এতে আমাদের ঘরে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে লোকজন দেয়াল নির্মাণ বন্ধ করার অনুরোধ করলেও তা শুনেননি। এক পর্যায়ে দেয়াল নির্মাণে বাধা দানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার স্ত্রী রুমা বেগম এবং আমার ওপর হামলা করে। পরে আমাদের ডাকচিৎকারে স্থানীয় লোকজন গিয়ে এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে। ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরবর্তীতে আমার স্ত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। আমার সাথে কারো বিরোধ নেই। তবে আমি আমার পৈতৃক সম্পদের অধিকার চাই।

এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক তালুকদারের বড়োছেলে কবির হোসেন বসতঘরের মাঝখানে দেয়াল নির্মাণের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার ভাই দিদার হোসেন ও তার স্ত্রীর সাথে ঝামেলা এড়াতে এবং নিরাপত্তার কারণে আমি দেয়াল নির্মাণ করেছি। দিদার হোসেন দীর্ঘদিন ঢাকা ছিলেন। হঠাৎ করে এসে বাড়িতে থাকা শুরু করেছেন।

অন্যদিকে ছোট ভাই রুবেল হোসেন জানান, তিনি প্রবাসে ছিলেন। তার টাকা দিয়ে তিনি ঘর করেছেন, তাই তিনি সেখানেই থাকেন। তবে তার ভাই দিদার হোসেন পৈতৃক সম্পত্তির হিসাব নিকাশ নিয়ে আমাকে কখনও কিছু বলেননি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়