প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ১৫:১২
পবিত্র ঈদুল আজহায় স্বাস্থ্যসচেতনতা

ঈদ এক অনন্য উৎসব। মনে ও মাত্রায় ঈদের খুশি অপরিমেয়। খুশির অনিরুদ্ধ স্রোতে ভাসতে গিয়ে কখনো কখনো ঝুঁকিতে পড়ে যায় স্বাস্থ্য স্বয়ং। অতি আহারে, আনন্দের অনিদ্রায়, উদ্বেগে-উৎকণ্ঠায় স্বাস্থ্য পড়ে যায় আশঙ্কার ডামাডোলে। এই আশঙ্কাকে জয় করতে হলে উৎসবে পরিমিত আচরণ বজায় রাখা জরুরি। যারা উচ্চ রক্তচাপের রোগী তাদের ক্ষেত্রে অনিদ্রায় জাগরণ ক্ষতির কারণ। কাজেই খুশিকে উদ্যাপন করতে হবে নিয়মের নিয়ন্ত্রণে থেকে। একদিনের অনিয়ম হয়ে উঠতে পারে দশদিনের বেদনার কারণ। আবার যারা বহুমূত্র রোগে আক্রান্ত তারাও উৎসবে উদ্দাম হয়ে যাতে আহার-শৃঙ্খলাকে হারিয়ে না ফেলেন সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। চিনি বা শর্করা অতিমাত্রায় যাতে কাছে ঘেঁষতে না পারে সেদিকে নজরদারি কড়া রাখতে হবে। যারা কিডনির রোগে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন তাদের রক্তে ক্রিয়েটিনিন নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের মাত্রা যাতে বৃদ্ধি না পায় সেজন্যে এই উৎসবে আমিষ গ্রহণে অধিক সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। খুশি আসবে মনে, আহারের অনিয়ন্ত্রণে নয়। রক্তে যাদের উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল আছে তারা রেড মিট গ্রহণে সহিষ্ণুতার পরিচয় দেওয়া উচিত। কেননা রেড মিটে কোলেস্টেরলের মাত্রা উচ্চ ও বিপজ্জনক সীমায় অন্তর্নিহিত থাকে। কাজেই কব্জি ডুবিয়ে মাংস খাওয়া যাবে না। বরং চেখে দেখার মতো করে মাংস খেতে হবে। যারা হৃদরোগে ভোগেন তাদের ক্ষেত্রে ভরপেট খেয়ে উঁচু সিঁড়ি বাইতে নেই। এতে রক্তে অক্সিজেন চাহিদা বৃদ্ধি পায়। যখন চাহিদা ও যোগানে ঘাটতি হয় তখন শরীর ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়ে ও অজ্ঞান হয়ে যায়।
অনেকেই ভরপেট মাংস খেয়ে বুকভরে ধূম উদগীরণ করেন। এতে ফুসফুস পর্যাপ্ত অক্সিজেন সংকটে ভোগে। কাজেই ধূমপান যেমন বর্জনীয় তেমনি ভরপেট মাংস খাওয়াও উচিত নয়। উচ্চ রক্তচাপ ও দেহে জলস্ফীতির বড় কারণ হলো অতিরিক্ত খাদ্য লবণ গ্রহণ। লবণ এবং চিনি যতবেশি কম খাওয়া যায় ততই মঙ্গল। অনেকেই আছেন অ্যালকোহলসেবী। তাদের কাছে উৎসব মানেই অনিয়ম। বলা হয়ে থাকে, উৎসবে অ্যালকোহল এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। যারা ভরপেট মাংস খেয়ে অ্যালকোহল সেবন করেন তারা জীবনের ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারেন। কাজেই অ্যাকোহলকে না বলুন, উত্তেজনাকে না বলুন।
যারা ঈদের আনন্দ উদ্যাপনে বাড়ি যাবেন তারা যেন সে ক’দিনের ঔষধ নিতে ভুলে না যান। কারণ ঈদের ছুটিতে গ্রাম-গঞ্জে প্রয়োজনীয় ঔষধ না-ও পাওয়া যেতে পারে। সুতরাং দিনক্ষণ গুণে ঔষধ নিয়ে যেতেই হবে যা আপনার জীবন রক্ষাকারী।
বাঙালির একটা বড় দোষ হলো অনুরোধে ঢেঁকি গেলা। যে বাড়িতেই যাক না কেন, আপ্যায়নের আতিশয্যে সবঘরেই খাওয়ার বান জাগে। এসব ক্ষেত্রে নিজেকে অমধুর কসরতে বঁাচিয়ে রাখতে হয়। কারও অনুরোধে কোনো ঢেঁকি গেলা যাবে না। ঈদের খুশি প্রাণে জাগুক, আহারে নয় কিংবা জীবনাচরণে নয়। ঈদ আসুক বিসর্জনে, ত্যাগের মহিমায়।
নিজেকে সার্বক্ষণিক সচল রাখতে ঈদের ছুটিতে নিয়ম করে ঘাম ছুটিয়ে হঁাটার কথা ভুলে যাবেন না। আপনাকে হঁাটতে হবে জমে থাকা ক্যালরির দহন যাতে সুনিশ্চিত করা যায়।
ছুটিতে গ্রামে গিয়ে বিশুদ্ধ পানির ঘাটতি হতে পারে। তাই পানি অবশ্যই ফুটিয়ে পান করুন যাতে এ সময় ঋতুভিত্তিক পানিবাহিত রোগবালাই না হতে পারে। উৎসব হোক রোগহীন, যন্ত্রণাহীন। উৎসব হোক রঙিন ও রমণীয়।







