প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৪
মৃত্যুর সঙ্গে আট দিনের লড়াই শেষে না-ফেরার দেশে ‘ওয়ার্কশপ সুমন’
বাবুরহাটে শোকের ছায়া

বাবুরহাট–কুমিল্লা মহাসড়কের আশিকাটি ইউনিয়ন সংলগ্ন মা মেটাল ওয়ার্কশপের স্বত্বাধিকারী, পরিচিত ব্যবসায়ী ও সকলের প্রিয় মুখ সুমন খান (৪0) সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার আট দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, ব্যবসায়ী মহল এবং এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই ২০২৬ (বুধবার) রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে নিজের ওয়ার্কশপের এক কর্মীর খোঁজ নিতে বাবুরহাট থেকে মহামায়া এলাকার উদ্দেশে মোটরসাইকেলে রওনা হন সুমন খান। পথে চাঁদপুর -কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের মহামায়া বাজারের কাছে পৌঁছালে একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। তার পায়ের রানের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্যে তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ স্থানান্তর করা হয়। সে হাসপাতালে তার পায়ে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টায় হঠাৎ স্ট্রোক করলে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) জুমার নামাজ শেষে বাবুরহাট বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে দক্ষিণ আশিকাটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিপুলসংখ্যক মুসল্লি, ব্যবসায়ী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘ওয়ার্কশপ সুমন’ নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী, পরিশ্রমী ও মানবিক মানুষ হিসেবে তিনি সবার ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। নিজের কর্মনিষ্ঠা, সততা এবং আন্তরিক ব্যবহারের মাধ্যমে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি এলাকায় সুনাম কুড়িয়েছিলেন। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলার অভ্যাস তাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছিলো। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ। স্বজন ও পরিচিতজনদের ভাষ্য, সুমন খানের মতো একজন সৎ, কর্মঠ ও অমায়িক মানুষের চলে যাওয়া শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো বাবুরহাট এলাকার জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন সামাজিক, ব্যবসায়িক ও স্থানীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।








