প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৭
মুণ্ডুকাটা দাঁড়কাক

চরণদ্বীপ গ্রামের এক সুঠাম বলশালী যুবকের নাম সম্পদ। গ্রামের লোকেরা তাকে ভুল করে সম্বত বলেই ডাকে। সম্বতের জন্ম নিয়ে এক বড় ঘটনা ঘটে গেছে এ গ্রামে। সম্বতের মা তখন গর্ভবতী। নয় মাসের পূর্ণগর্ভা। যে কোনো সময় তার প্রসব বেদনা উঠতে পারে। গ্রামের বৌ। তাই এসময়েও তাকে সাংসারিক কাজকর্ম করতে হয়। সেদিন বিকেলে সম্বতকে পেটে নিয়ে তার মা গিয়েছিলো পুরান পুকুর এলাকায়। চরতে দেওয়া ছাগলটাকে ঘরে আনতে। জনহীন পুরান পুকুরে তাদের যে জমি আছে সে জমিতে প্রচুর ঘাস হয়। দুুপুরের দিকে তেজেন্দ্র বাবু ছাগলটাকে খুঁটায় বেঁধে দিয়ে এসেছিলো ঘাস খেতে। তিনি বিকেলে হাটে যাওয়ায় তার পোয়াতি বউকেই যেতে হলো ছাগলটাকে ঘরে আনতে। নির্জন পুরান পুকুরে ছাগল আনতে গিয়ে পুব পাড়ার আশুর মায়ের সাথে দেখা হয়। আশুর মা জিজ্ঞেস করলেন, কি রে বউ, কেমন আছস্? তোর বিয়ানোর দিনতো কাছিয়ে এলো বুঝি। তেজেন্দ্রর বউ বললো, হ গো শাউড়ি মা। তো তুই এই পেট নিয়ে এখানে আইলি ক্যান? যা! তাড়াতাড়ি ঘরে যা। এই বলে তিনি তেজেন্দ্রর বউকে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিলেন। অঁাচলের খুঁট খুলে দশটা টাকা দিয়ে বললেন, ধর বউ, তোর মনে যা চায় তাই খাস্। যা! তাড়াতাড়ি ঘরে যা। এসময় একা একা ঘুরা ভালো না। দশ টাকা হাতে নিয়ে তেজেন্দ্রর বউ আশুর মাকে প্রণাম করতে গেলে তিনি বকা দেন। তুই কি পাগল! এসময় কেউ এভাবে নোয়? যা মা যা। ঘরে যা। তোর আইজই ব্যথা উঠবো। যা। তাড়াতাড়ি যা। এই বলে তিনি হন হন করে পথ চলতে শুরু করলেন। তেজেন্দ্রর বউ স্নেহলতা আর ঠাহর করতে পারলো না, আশুর মা কোনদিকে গেলেন। খুড়ি শাশুড়ির হাতে দশটা টাকা পেয়ে তার মনে খুশির ফোয়ারা ছুটে গেলো। সে ছাগল নিয়ে সঁাঝের আগে আগে বাড়ি চলে এলো। ঘরের দাওয়ায় এককোণে ছাগলটাকে বেঁধে স্নেহলতা স্বামীর প্রতীক্ষায় পথ চেয়ে রইল।
সঁাঝ গমে গেছে কিছুক্ষণ হলো। এমন সময় নদীর ঘাটে সাম্পান ভিড়ার শোরগোল শোনা গেলো। আজ হাটবার। লাম্বুরহাট থেকে এ গ্রামের সবাই রবিবারের হাটবাজার করে। গ্রামের দুচারজন হাটুরে মিলে একটা সাম্পান কেরায়া করে হাটে যায়। আড়াআড়ি নদী পার হয়ে তবে লাম্বুর হাট। এ হাট বেশ নামকরা। সেই বৃটিশ আমল থেকেই। লোকমুখে কিংবদন্তি আছে, আশেপাশের গ্রামগুলোতে এ হাট থেকে বিয়েশাদীর বাজার করা না হলে বিয়ে ভেঙে যেতো। মুক্তিযুদ্ধকালীন মুক্তিসেনার একটা মূল কেন্দ্র ছিলো লাম্বুর হাট। রবিবারের হাট বেশ জমজমাট হয়। স্নেহলতা কান খাড়া করে রাখে। হ্যঁা,সে তার পদধ্বনি শুনতে পায়। তেজেন্দ্র থলেভর্তি বাজার নিয়ে ঘরে ঢোকে। ঘরে পোয়াতি বউ। তাই এসেই হারিকেনের আলোয় হাতটা সেঁকে নেয়। তারপর হাতমুখ ধুয়ে স্নেহলতার দেওয়া চা-মুড়ি খেতে খেতে বৌকে বলে, হাটে গিয়ে শুনলাম আশুর মা কাকিমা মারা গেছে আজ দুপুরে। আমরা যে সময় হাটে যেতে সাম্পানে উঠলাম তখনই নাকি তার প্রাণবায়ু বের হয়ে যায়। স্বামীর মুখে আশুর মায়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে অবাক করা চিৎকার দিয়ে ওঠে স্নেহলতা। এটা আর্তনাদ নয় এটা বিস্ময়। এটা তার কাছে অবিশ্বাস্য! স্নেহলতা বিকেলের ঘটনা খুলে বলে স্বামীকে। তেজেন্দ্র স্ত্রীর মুখে সব শুনে হিসেব কষে বলে, স্নেহলতার সাথে দেখা হওয়ার একঘন্টা আগেই তিনি মারা যান। হ্যঁা, ঠিক একঘন্টা আগেই মারা যান। স্বামীর মুখে একথা শুনে স্নেহলতার গায়ে কঁাটা দিয়ে ওঠে। অঁাচলের খু্ট খুলে আশুর মার দেওয়া দশটাকা সে তেজেন্দ্রর হাতে তুলে দেয়। তেজেন্দ্র টাকাটাকে বেশ ভালো করে পরীক্ষা করে। আসল টাকা। কোনো ভেজাল নাই। আশুর মা যে সময় দশটাকা দিয়ে যায় সেসময় একটাকায় গ্রামে দু’সের চাল পাওয়া যেতো। মৃত মানুষের সাথে দেখা হওয়া, মাথায় হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ করা আর দশটাকা হাতে দেওয়ার ঘটনায় দম্পতি বাকহারা হয়ে গেলো প্রায়। টাকাটাকে সযতনে আলমিরায় গয়নার বাকশোতে রেখে দিলো স্নেহলতা। মনের মধ্যে একটা মিশ্র অনুভূতি। একদিকে ভয় আর অন্যদিকে শোক আর দশটাকার বিস্ময়। সময় যেতে যেতে গভীর রাতে স্নেহলতার ব্যথা ওঠে। ঠিক ভোর ছটায় সম্বতের জন্ম হয়। সদ্য মৃত আশুর মায়ের দশটাকা আশিস-উপহারের কারণে বাপ-মা নবজাতক ছেলের নাম দেয় সম্পদ।
সম্বতের বাবা বৃদ্ধ হলেও তঁার হাতে এখনও জোর আছে। তঁার হাতের পাঞ্জা বেশ বড়। ডান হাতে গরম ভাতের দলা পাকালে এতো বড়ো হয় যে তা কোনো শিশুর একবেলার আহার হয়ে যায়। গ্রামে এরকম ভাতের দলা পাকানোকে বলে জরা। সম্বতের বাড়িতে নতুন মাটির ঘর উঠানো হবে। এজন্যে প্রচুর মাটির দরকার। দখিনের বিলে সম্বতদের বেশ জমি-জিরেত আছে। এই জমি-জিরেত হতে বেছে একখন্ড পতিত জমির মাটি কেটে তারা ঘর তোলার পরিকল্পনা করেছে। একা একা সম্বতের পক্ষে মাটি কেটে আনা সম্ভব নয় বিধায় মঙ্গল নামে আরেকজন দিনমজুরকে ঠিক করা হলো। সেদিন রাতে মঙ্গলকে ডেকে এনে সম্বত ও তার বাবা মাটি কাটার পরিকল্পনা চুড়ান্ত করে ফেললো এবং ঠিক করা হলো, পরদিন সূর্য ওঠার আগেই তারা জমিতে গিয়ে মাটি কেটে আনবে। যাতে বেলা বেশি বেড়ে না যায় এবং সূর্য গনগনে হয়ে না ওঠে। মঙ্গলের বাড়ি হলো পুব পাড়ায়। কথামতো মঙ্গল সম্বতের বাড়ি এসে তার ঘুম ভাঙাবে। তারপর দুজনে সম্বতের বাড়ি থেকে কোদাল, ওড়া আর মাথার বিড়া নিয়ে দখিনের বিলে যাবে পতিত জমির মাটি কাটতে। তাদের এই সল্লা-সভা ভাঙতে ভাঙতে রাত দশটা বেজে যায়। মঙ্গল অমাবশ্যার অঁাধার চিরে গ্রামের দীর্ঘদিনের চেনা মেঠোপথ ধরে হন হন করে হঁাটা ধরে তার বাড়ির উদ্দেশ্যে।
মঙ্গল সাহসী মানুষ। খেটে খাওয়াই তার জীবন। শ্রমে-ঘামে কাহিল না হলে তার মুখে দানা জোটে না। তাই অমাবশ্যা বা পূর্ণিমার বিশেষ কোনো তাৎপর্য তার জীবনে নাই। সম্বতের বাড়ি থেকে বের হয়ে কিছুদূর হেঁটে আসলেই পড়ে গ্রামের তেমাথা। এই তেমাথার মাঝখানে রাস্তার দক্ষিণ দিক জুড়ে আছে এক মস্ত বড় তেঁতুল গাছ। গাছটাকে নিয়ে মঙ্গল বুড়াবুড়ির মুখে শৈশব হতেই শুনে আসছে কিংবদন্তি। এ গাছের মগডালে নাকি এক বিশেষ ভূতের বাস। ভূতটি কাউকে একা পেলেই নেমে আসে মগডাল থেকে। তারপর তার পথ আটকে ক্রমাগত নঁাকি সুরে বলতে থাকে, ‘ অঁামার দুঁই পঁায়ের নিঁচ দিঁয়া যঁা।’ যতক্ষণ না পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি ঐ ভূতের দুপায়ের চিপা দিয়ে না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত ভূতটি নাকি নঁাকি সুঁরে বলতেই থাকে, ‘ অঁামার দুঁই পঁায়ের নিঁচ দিঁয়া যঁা’। এরকম ভূতের কবলে নাকি গ্রামের অনেকেই পড়েছে আগেকার দিনে। মঙ্গলের এসব কথা মনে পড়ে যাওয়ায় তার হঁাটার গতি বেড়ে গেলো। অবশ্য আজকে মঙ্গলের সাথে লোহার হাতিয়ার আছে। তাছাড়া মঙ্গল মুখে বিড়ি ধরিয়ে টেনে টেনে চলছে। অন্ধকারে বরং তাকেই ভূতের মতো লাগছে। থেকে থেকে বিড়ির আগুন লালচে হয়ে ওঠে। বিপরীত দিক থেকে দেখলে মনে হয়, যেন উন্মত্ত কোনো ড্রাগন আগুন চোখা হয়ে হেঁটে আসছে। মানুষ মনে করে ভূত নাকি আগুন আর লোহা ভয় পায়। এদের কাছে আসে না। মঙ্গল তাই ভয় মনে আসলেও তাতে কাবু হয় না। তেঁতুল গাছের ভূতের ভয়ে মঙ্গল লম্বা লম্বা পা ফেলে এগিয়ে যায়। যদিও মঙ্গল বিশ্বাস করে না ভূত আগুন বা লোহাকে ভয় পায়। কারণ এর কোনো প্রমাণ কেউ তাকে দিতে পারেনি আজও।
পরদিন ভোর তখনও ফোটেনি। সূর্যের অরুণরাগ তখনও পুবাকাশে তৈরি হয়নি। চারদিক ঘন অন্ধকার থাকতেই সম্বতের বাড়ির পেছনের দরজায় চাপা ডাক শোনা যায়, সম্বত, অ সম্বত। ওঠ ওঠ। সকাল হয়ে যাচ্ছে। আয় চল, মাটি কাটতে হবে। এরকম দুচারবার ডাক পাড়ার পরে সম্বতের ঘুম ভেঙে যায়। সম্বত অবাক হয়। এত তাড়াতাড়ি তো মঙ্গল আসার কথা নয়। যাই হোক, চোখ কচলাতে কচলাতে সম্বত তৈরি হয়। একটা কোদাল আর বড় দুটো ওড়া নিয়ে সম্বত বের আসে তাড়াহুড়া করে। মঙ্গলকে জিজ্ঞেস করে, একটু বেশি তাড়াতাড়ি হয়ে গেলো না? মঙ্গল বলে, তাড়াতাড়ি কই? তুমি ঘুম কাতুরে বলেই এমন মনে হচ্ছে। মঙ্গলের কথা শুনে একটু অতৃপ্তি নিয়েই সম্বত তার সাথে রওনা দিলো দখিনের বিলে, যেখান থেকে মাটি আনা হবে। তারা ঠিক করে নিলো, পর্যায়ক্রমে একজন মাটি কাটবে আর একজন তা মাথায় নিয়ে বহন করে বাড়ির ভিটায় রেখে আসবে। প্রথমে সম্বত মাটি কাটা ধরলো আর মঙ্গল মাটির সেই চঁাইগুলো ওড়া ভরে বহন করে ঘরের ভিটায় রেখে আসবে। যেই কথা সেই কাজ। সম্বত মাটি কাটে আর তা ওড়া ভরে মঙ্গল বাড়িতে রেখে আসে। সম্বত মাটি কেটে ওড়া ভরাতে না ভরাতেই মঙ্গল মাটি রেখে আসে বাড়িতে। যত তাড়াতাড়ি মঙ্গল মাটি নিয়ে যায়-আসে অত তাড়াতাড়ি সাধারণত যাওয়া-আসার কথা নয়। সম্বতের অবাক লাগে। মনে মনে খটকা লাগে। তবে মঙ্গল যে দ্রুত হঁাটে সম্বত তা জানে। মঙ্গলের মাটি বহনের পালা শেষ হলে সম্বতের পালা শুরু হয়। এবার মাটির চাক কাটবে মঙ্গল। তাই সম্বত হাতের কোদাল মঙ্গলকে দিয়ে দেয়। মঙ্গল মাটি কাটতে শুরু করে। মাটির চাক দেখে সম্বতের চক্ষু চড়কগাছ! সম্বত এমনিতেই যথেষ্ট বলশালী। কিন্তু মঙ্গল যে মাটির চাক কাটছে তা এতো বেশি বড়ো যে সম্বতের পক্ষে মাথায় নিয়ে বহন করা কঠিন। সম্বত এবার মূল ঘটনা বুঝতে পারে। সে বুদ্ধি এঁটে বলে, মঙ্গল, তুই এই বার একটু নিয়ে যা। আমি একটু প্রস্রাব সেরে পরেরবার থেকে নিবো। অনেকক্ষণ প্রস্রাব চেপে রেখেছি। আর পারা যাচ্ছে না। মঙ্গল বললো, ঠিক আছে। তাহলে ওড়াটা দে আর এই নে কোদাল। এদিকে সম্বত কোদালটা হাতে পেয়েই এককোপে মঙ্গলের গলায় বসিয়ে দিয়ে দে দৌড় বাড়ির দিকে। আর পেছন ফিরে তাকায়নি। ঘরে এসে সম্বত আগুন জ্বালিয়ে তাতে হাত সেঁকালো। তারপর কঁাথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
রাতের আকাশ ধীরে ধীরে ফরসা হতে শুরু করলো। পুবাকাশে জবাকুসুমপ্রতিম নবারুণের অভিষেক হলো। আবিররাঙা আকাশ হয়ে উঠলো অমরাবতীর উপমা। এমন সময় সত্যিকারের মঙ্গল এসে সম্বতের বাড়িতে দরজা ধাক্কা দিয়ে ডাকতে শুরু করলো। সম্বতদা, ও সম্বতদা। আরে ওঠো ওঠো। বেলা হয়ে গেলো। মাটি কাটতে যাবে না? ওদিকে কঁাথার তলে সম্বত তখন জ্বরের ঘোরে কঁাপছে। সম্বতের বাবা ঘুম থেকে জেগে দরজা খুলে দিলেন মঙ্গলকে। তারপর সম্বতকে ডাকতে গিয়ে দেখেন, ছেলের জ্বর উঠেছে। বাবার গলা শুনে সম্বত উঠে বসলো। ঘরে মঙ্গলকে দেখে তার মুখে ভয়ের সঞ্চার হলো। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে বললো, আজ আর মাটি কাটার দরকার নেই। তারপর ঘন্টা তিনেক আগের ঘটনা বললো। রাত আনুমানিক তিনটায় মঙ্গলের বেশ ধরে ভূত এসেছিলো তাকে মাটি কাটার জন্যে ডাকতে। ভূতকে কোদাল দিয়ে আঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে বেঁচে গেছে। সম্বতের কথায় মঙ্গল আর সম্বতের বাবা তেজেন্দ্র উভয়েই অবাক হয়। তারা সম্বতকে গায়ে হাত বুলিয়ে অভয় দেয়। এরমধ্যে ঘরের সবাই জেগে যায়। ভোর পার হয়ে সকাল হয়। চা-রুটির পর্ব সেরে এবার তেজেন্দ্র তার ছেলে সম্বত আর মঙ্গলকে নিয়ে বের হয় ঘটনাস্থল দেখবার জন্যে। রাস্তায় লোক চলাচল শুরু হয়েছে বেশ আগে থেকেই। পাড়ায় কোলাহল শুরু হয়েছে জীবনের। তিনজনের হাতে তিনটা বড় লাঠি নিয়ে তারা ঘটনাস্থলে পেঁৗছে গেল। গিয়ে দেখে, ওড়া পড়ে আছে ইয়া বড় বড় মাটির চাকসহ। বুঝাই যায়, মাটিগুলো সদ্য কাটা। ওড়ার অনতিদূরে পড়ে আছে একটা বিশাল দঁাড়কাক। কুচকুচে কালো, অতিকায়। তার গলায় কোদালের কাটা দাগ। মৃত দঁাড়কাকের পাশে সম্বতের চটি জোড়া পড়ে আছে মাটিমলিন হয়ে। তেজেন বাবু সেই মৃত দঁাড়কাককে মাটিকাটা গর্তে মাটি চাপা দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেন ছেলে সম্বত ওরফে সম্পদকে।







