প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৯
যে পাহাড় সমুদ্রকে ঘুম পাড়ায়

পাহাড়টা খুব বুড়া।
হাজার বছর ধরে দঁাড়ায় আছে।
পিঠে বন, মাথায় মেঘ, পায়ে নদী।
ওর কাজ একটাই - আকাশের ভার কমানো।
সমুদ্রটা ছোট বাচ্চা।
সারাদিন ছুটে, লাফায়, কঁাদে, হাসে।
রাগ হইলে তীর ভাঙে, খুশি হইলে নুড়ি গোনে।
ওর কাজ একটাইÑচঁাদের আলো ধরে রাখা।
একদিন বাচ্চা সমুদ্র ঝড়ে ভয় পেয়ে গেলো।
ঢেউগুলা দেয়াল হয়ে আকাশ ছুঁইতে চাইলো।
বাতাস বললো, ‘থাম’। বাচ্চা শুনলো না।
তখন বুড়া পাহাড় আস্তে করে ডাক দিলো।
‘আয়, আমার ছায় বস।’
সমুদ্র পাহাড়ের পায়ের কাছে এসে শুয়ে পড়লো।
পাহাড় ওর মাথায় হাত বুলায় দিলো বরফের আঙুল দিয়ে।
‘কান্না থামা। আমি আছি। ঝড় গেলে আবার খেলিস।’
সেই রাত থেকে নিয়ম হইলোÑ
যখনই সমুদ্রের ঘুম আসে না, পাহাড় গল্প বলে।
পাথর খসে পড়ার গল্প, গাছ বড় হওয়ার গল্প।
আর সমুদ্র? সে ফিসফিস করে জোয়ার ভাটার কবিতা শোনায়।
সকালে মানুষ এসে দেখেÑ
পাহাড় এখনো চুপচাপ দঁাড়ায় আছে।
সমুদ্র নীল হয়ে হাসতেছে।
কেউ বোঝে না, রাতে ওদের মধ্যে কী কথা হইছিলো।
পাহাড় বলে না ও অভিভাবক।
সমুদ্র বলে না ও ছাত্র।
ওরা শুধু জানেÑ
একজন না থাকলে অন্যজনের অস্থিরতা থামে না।
একজনের ছায়া না থাকলে, অন্যজনের ঢেউ দিক হারায়।
ছবি-৩২
শিক্ষক অভিভাবক এবং মায়েদের ত্রিমুখী ইতিবাচক সম্পর্ক
রোকেয়া সুলতানা
শিক্ষক, অভিভাবক ও মায়েদের মধ্যকার সম্পর্ক হতে হবে সহযোগিতাপূর্ণ, আস্থার ও নিয়মিত যোগাযোগের, যা একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ ও সঠিক মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।মা ও শিক্ষকরা মিলেই শিশুর প্রকৃত মানুষ গড়ার মূল কারিগর। শিশুর পড়াশোনা ও আচরণগত অগ্রগতি জানাতে নিয়মিত অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় করতে হবে। এক্ষেত্রে একে অপরের প্রতি আস্থা,শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করা জরুরী।ঘর থেকেই শিশুর প্রথম শিক্ষা ও নৈতিকতার হাতেখড়ি শুরু হয় মায়ের হাত ধরে।শিক্ষকদের কাজ হচ্ছে বিদ্যালয়ে সঠিক পাঠদান ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে মেধার বিকাশ ঘটানো। এছাড়াও যুগ্ম প্রচেষ্টার মাধ্যমে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দোষারোপ না করে আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান খেঁাজা।
সন্তানের সুশিক্ষা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণে শিক্ষক ও মায়ের ভূমিকা পরস্পর পরিপূরক। মা সমাবেশ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সভা নয়, বরং এটি শিক্ষক ও মায়ের মধ্যে বিশ্বাসের সেতু বন্ধন তৈরি করে। মায়েরা যদি তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকেন এবং শিক্ষকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করেন, তবে প্রতিটি শিশুই দেশের একজন যোগ্য ও আলোকিত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
শিশু নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছে কিনা এবং তার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা (যেমন হাত ধোয়া, নখ কাটা) ঠিক আছে কিনা তা খেয়াল রাখা। অভিভাবকগণ প্রতিদিন সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করাবেন।
শ্রদ্ধেয় অভিভাবকবৃন্দের প্রতি কিছু জরুরি পরামর্শ ও অনুরোধ।
আসসালামু আলাইকুম। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন।
আমাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য বিদ্যালয় এবং পরিবারÑউভয়ের ভূমিকাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান যুগে প্রযুক্তির অপব্যবহার, বিশেষ করে মোবাইল আসক্তি আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক বিকাশে বড় বাধা হয়ে দঁাড়িয়েছে। সন্তানরা যাতে বাসায় পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে পারে, সে জন্য আপনাদের প্রতি কিছু বিনীত অনুরোধ ও পরামর্শ তুলে ধরা হলো:
মোবাইলের সময় নির্ধারণ করুন: সন্তানকে সারাদিন মোবাইল ব্যবহার করতে না দিয়ে দিনে একটি নির্দিষ্ট ও সীমিত সময়ের জন্য (যেমন: ৩০-৪৫ মিনিট) মোবাইল দিন।
পড়াশোনার সময় মোবাইল দূরে রাখুন: সন্তান যখন পড়তে বসবে, তখন তার আশেপাশে কোনো স্মার্টফোন, ট্যাব বা টেলিভিশন চালু রাখবেন না।
পড়াশোনার নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন: প্রতিদিন পড়তে বসার একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন এবং সন্তান যেন প্রতিদিন সেই নিয়ম মেনে চলে তা নিশ্চিত করুন।
নিজেদের অভ্যাস পরিবর্তন করুন: সন্তান যখন পড়াশোনা করে, তখন আপনারা (অভিভাবকরা) তার সামনে মোবাইল ব্যবহার করা বা টিভি দেখা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, সন্তানরা আপনাদের দেখেই শেখে।
ডিজিটাল ডিভাইস লক রাখুন: সন্তানের নাগালের বাইরে মোবাইলে পাসওয়ার্ড বা প্যাটার্ন লক ব্যবহার করুন, যাতে আপনার অজান্তে তারা দীর্ঘ সময় মোবাইল স্ক্রিনে ডুবে না থাকে।
পড়াশোনার জন্য আলাদা ও শান্ত পরিবেশ: ঘরের একটি নির্দিষ্ট কোণ পড়াশোনার জন্য বরাদ্দ করুন, যেখানে আলো-বাতাস ভালো থাকে এবং কোলাহল কম হয়।
কাছে বসে সময় দিন: সন্তান যখন পড়তে বসবে, সম্ভব হলে তার পাশে বসুন। এতে তারা নিজেদের অবহেলিত ভাববে না এবং পড়াশোনায় উৎসাহ পাবে।
পড়ালেখাকে আনন্দদায়ক করুন: মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে সন্তানকে বুঝিয়ে পড়তে সাহায্য করুন। ছোটখাটো উদাহরণ দিয়ে পড়াটাকে মজার বানিয়ে তুলুন।
নিয়মিত ডায়েরি ও বাড়ির কাজ চেক করুন: বিদ্যালয় থেকে প্রতিদিন কী পড়া দেওয়া হচ্ছে এবং সন্তান তা ঠিকমতো করছে কি না, তা প্রতিদিন নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা করুন: মোবাইলের বিকল্প হিসেবে সন্তানকে গল্প বা ছড়ার বই পড়তে দিন, ছবি অঁাকতে উৎসাহিত করুন কিংবা কাগজ কেটে খেলনা বানাতে শেখান।
পারিবারিক ও শারীরিক খেলাধুলা: প্রতিদিন বিকেলে সন্তানকে কিছুক্ষণের জন্য মাঠে বা ঘরের বাইরে শারীরিক খেলাধুলা করতে দিন। এতে তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটবে।
একত্রে গল্প ও খাবারের সময়: প্রতিদিন অন্তত এক বেলা পরিবারের সবাই একসাথে খাবার খান এবং সন্তানদের সাথে গল্প করুন। তাদের সারাদিনের অনুভূতি ও স্কুলের অভিজ্ঞতা শুনুন।
অতিরিক্ত শাসন বা বকাঝকা নয়: পড়াশোনা বা মোবাইল ছাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত মারধর বা বকাঝকা করবেন না। এতে সন্তান জেদি হয়ে উঠতে পারে। ভালোবাসার সাথে বুঝিয়ে বলুন।
ছোট অর্জনেও প্রশংসা করুন: সন্তান কোনো পড়া পারলে বা ভালো কাজ করলে মন খুলে তার প্রশংসা করুন। প্রয়োজনে ছোটখাটো উপহার (যেমন: একটি কলম বা রঙিন পেনসিল) দিয়ে উৎসাহিত করুন।
শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ রাখুন: সন্তানের পড়ালেখার অগ্রগতি বা যেকোনো সমস্যার বিষয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করুন।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন: শিশুরা যাতে রাতে জলদি ঘুমাতে যায় এবং অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। পর্যাপ্ত ঘুম তাদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
ধৈর্য ধরুন: মোবাইল আসক্তি একদিনে দূর হবে না। তাই ধৈর্য ধরে প্রতিদিন একটু একটু করে সন্তানের অভ্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা করুন।
“আমাদের একটু সচেতনতা এবং ভালোবাসাই পারে একটি শিশুকে মোবাইল স্ক্রিনের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে বইয়ের সুন্দর পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে।”
আপনাদের সন্তানদের সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনায়Ñ
রোকয়া সুলতানা : প্রধান শিক্ষক, হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজীগঞ্জ, চঁাদপুর।







