বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ২২:২২

ঝাঁড়-ফুঁক শেষে ওঝা জানালেন, বিষধর সাপের দংশনে বাঁচানো সম্ভব নয়

কামরুজ্জামান টুটুল।।

এন্টিভেনম দেবার পরে সাপে কাটা রোগী মারা যান। এর পরেই চিকিৎসক ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। এর ৬/৭ ঘণ্টা পরে ৭০ কিলোমিটার দূর থেকে খবর দিয়ে আনা হয় সাপুড়ে। কয়েক ঘণ্টা ঝাঁড়-ফুঁক দেবার পরে সাপুড়ে তথা ওঝা জানালেন, বিষধর সাপের কামড়ে বাঁচানো সম্ভব না। ঘটনাটি হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও ইউনিয়নের খান বাড়ির। নিহত নারী তাসলিমা বেগম (২৫) এই বাড়ির ইউসুফ খানের স্ত্রী। এ দম্পতির ছোট দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) দুপুরে তাসলিমা বেগম বসতঘরের খানিক দূরে টয়লেটে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে তাকে সাপে কামড় দেয়। সাথে সাথে তিনি ডাকচিৎকার শুরু করলে বাড়ির সবাই এগিয়ে আসেন। এরপরেই তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা শেষে এন্টিভেনম দেয়া হয়।

নিহতের স্বামী ইউসুফ খান জানান, এন্টিভেনম দেবার প্রায় ২০ মিনিট পরেই তিনি মারা যান। ডাক্তাররা মৃত ঘোষণার পরে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি। বাড়ি আসার পরে মানুষের কথা শুনে স্ত্রীকে বাঁচানোর আশায় সাপুড়ে (ওঝা) খবর দিয়ে আনা হয়। কিন্তু কিছুই তো হলো না।

নিহতের দেবর মোবারক খান জানান, রাতে কুমিল্লা থেকে সাপুড়ে খবর দিয়ে আনা হয়। রাত ৩টা থেকে ভোর পর্যন্ত ঝাঁড়-ফুঁকশেষে ওঝা বললেন, বিষধর সাপের কামড়, বিষ পুরো শরীরে ছড়িয়ে গেছে। তাই তাকে বাঁচানো সম্ভব না। অপর প্রশ্নে খায়ের খান জানান, ওই ওঝাকে ৩ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে আমরা ভাবীকে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়