বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০৭

১৭ বছর ধরে কমিটি ও নৈশপ্রহরী নেই

অব্যবস্থাপনার শিকার চান্দ্রা বাজারের ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায়

এমরান হোসেন লিটন
অব্যবস্থাপনার শিকার চান্দ্রা বাজারের ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায়
ছবি ক্যাপশন : অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে ফরিদগঞ্জের প্রসিদ্ধ চান্দ্রা বাজার।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১নং বালিথুবা ইউনিয়নের খাঁড়খাদিয়া মৌজায় অবস্থিত জেলার অন্যতম বৃহত্তম গ্রাম্য বাণিজ্যকেন্দ্র চান্দ্রা বাজার। প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ বছরের পুরনো এবং তিন হাজারের বেশি দোকান সমৃদ্ধ এ বাজার থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় অর্ধকোটি টাকা ইজারা বাবদ রাজস্ব পেলেও দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বাজারটির প্রতি সুদৃষ্টি নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এখানে কোনো ব্যবসায়ী কমিটি, নৈশপ্রহরী বা সিসি ক্যামেরা নেই। প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক তদারকির অভাবে বাজারে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতা চরম আকার ধারণ করেছে।

বাজারটিতে কৃষি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত 'চান্দ্রা শিক্ষিত বেকার বহুমুখী সমবায় সমিতি' ও 'বিকল্প বহুমুখী সমবায় সমিতি'র কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ প্রায় ১০-১৫টি সমিতির প্রধান কার্যালয়, বীমা অফিস, বিদ্যুৎ অফিস, ভূমি অফিস, পোস্ট অফিস, ইউপি কার্যালয়, কেন্দ্রীয় মসজিদ, মন্দির, ছাগলের হাট ও ধান বাজার অবস্থিত। এছাড়া চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, চান্দ্রা সামাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ বাজারের আশেপাশে অবস্থিত।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ২০০৭-০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একটি নির্বাচিত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে তা কার্যকর হতে পারেনি। এরপর থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে কোনো কমিটি গঠিত হয়নি।

ব্যবসায়ী আলমগীর পাটোয়ারী, আক্তার হোসেন খান, মিজানুর রহমান মেম্বার, জাকির হোসেন ও শাহ আলম হাওলাদারসহ একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “১৪-১৫টি গলির এই বাজারে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। রাতের আঁধারে আমরা কোটি কোটি টাকার মালামাল রেখে বাড়ি ফিরি, কিন্তু পাহারা দেওয়ার মতো কোনো নাইটগার্ড বা সরকারি সিসি ক্যামেরা নেই। চুরি-ছিনতাই হলে বিচার চাওয়ারও অভিভাবক পাই না।”

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বাজারে গণশৌচাগার ও ময়লা ফেলার সুনির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করায় মাছ ও কাঁচামালের বিক্রেতারা বাধ্য হয়ে রাস্তায় বসছেন, যা সারাদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি করছে। নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি না থাকায় ইজারাদারদের খামখেয়ালিপনায় বাজারটি ঘিঞ্জি রূপ নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে একটি নির্বাচিত পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানান।

বাজারের ইজারাদার মো. সাইফুল ইসলাম বেপারী বলেন, “ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দে আমি একাধিকবার ইউএনও কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় যানজট সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বাজারের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমি ঊর্ধ্বতনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

অভিযোগের বিষয়ে ফরিদগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। দ্রুতই চান্দ্রা বাজার পরিদর্শন করে বাজারের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়