প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৮
ক্রাইম পেট্রোল' দেখে শিশু সাকিবকে হত্যা
নিরাপত্তাহীনতায় তার বিচারপ্রার্থী পরিবার

কচুয়ায় ভারতীয় অপরাধভিত্তিক টিভি শো 'ক্রাইম পেট্রোল' দেখে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র গাজী সাকিবুল হাসানকে নৃশংসভাবে হত্যার এক বছর পূর্ণ হলো। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দু কিশোর বর্তমানে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দি থাকলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পাওয়া ও আসামিপক্ষের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাকিবের বিচারপ্রার্থী পরিবার।
|আরো খবর
গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়নের জয়নগর এলাকা থেকে স্থানীয় রাগদৈল আইএম দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সাকিব নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় কচুয়া থানায় জিডি করার ৭৭ দিন পর, ২৪ নভেম্বর স্থানীয় একটি ডোবা থেকে সাকিবের মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কঙ্কালটি সাকিবের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
ঘটনার তদন্তে নেমে চলতি বছরের ৮ ও ৯ মে একই বাড়ির দু কিশোর—মেহেদী হাসান গাজী ও আরমান গাজীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তারা স্বীকার করে, 'ক্রাইম পেট্রোল' দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সাকিবকে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বস্তাবন্দি ও ইটচাপা দিয়ে ডোবায় লুকিয়ে রাখা হয়।
সন্তানের এমন নির্মম পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না মা-বাবা। নিহত সাকিবের মা শামসুন্নাহার অঝোরে কেঁদে বলেন, "ছেলের লাশটাও পাইলাম না। মানুষ তো শেষবার লাশ দেখে দাফন-কাফন করে; আমরা তো তাও পারলাম না। আমার সন্তানকে যেভাবে কষ্ট দিয়ে মারা হয়েছে, আমি সরকারের কাছে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
সাকিবের বাবা গাজী আব্দুল কাদের আসামিদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে বলেন, "গ্রেপ্তারের পর থেকেই আসামির পরিবার আমাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে, এমনকি হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। ভবিষ্যতে তারা জামিনে বেরিয়ে এলে আমাদের প্রাণনাশের ঝুঁকি রয়েছে।"
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরও দীর্ঘ সময় দু কিশোরের স্বাভাবিক চলাফেরা ও নৃশংসতার বর্ণনায় স্তব্ধ এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গোসলের সময় চুবিয়ে হত্যার পর খুনি দু কিশোর মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। সেখান থেকে ফিরে পরিকল্পনা করে দা ও বস্তা নিয়ে এসে লাশ খণ্ড খণ্ড করে। বিদেশি সিরিয়াল দেখে অপ্রাপ্তবয়স্কদের এমন নৃশংস হয়ে ওঠা নিয়ে শঙ্কিত পুরো সমাজ।
বিশিষ্টজনরা বলছেন, ইন্টারনেটের অপব্যবহার ও ক্ষতিকর কনটেন্ট শিশু-কিশোরদের অপরাধপ্রবণ করে তুলছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকারি নজরদারির পাশাপাশি পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম জানান, "নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। চলতি মাসেই আদালতে মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হবে। সাকিবের পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে লিখিত জানালে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








