প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১৯:৪৮
পুরাণবাজার রাধা মুরারি মোহন জিউড় মন্দিরে ব্যাপক ভক্ত সমাবেশ ও দিনব্যাপী প্রসাদ বিতরণ

মহাষ্টমী স্নানযাত্রা উপলক্ষে চাঁদপুর শহরের হরিসভা রোডস্থ পুরাণবাজার শহর রক্ষাবাঁধ ঘেঁষে গড়ে ওঠা শ্রীশ্রী রাধা মুরারি মোহন জিউড় মন্দিরে ব্যাপক ভক্ত সমাবেশ পরিলক্ষিত হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের আয়োজনে আগত ভক্তদের মাঝে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সুস্বাদু মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
পবিত্র মহাঅষ্টমী তিথিতে শনিবার (৫ এপ্রিল ২০২৫) সকাল থেকেই হরিসভা রোডস্থ মেঘনা নদীতে অনুষ্ঠিত হয় অষ্টমী স্নানযাত্রা। প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে পাপ মোচনের নিমিত্তে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো ভক্ত এ স্থানে ভিড় জমান। তারা গঙ্গায় স্নান সম্পন্ন করে পরমেশ্বরের সান্নিধ্য লাভে শ্রীশ্রী রাধা মুরারি মোহন জিউড় মন্দির দর্শনে মন্দির চত্বরে আসেন এবং স্নানযাত্রা উপলক্ষে মন্দিরে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে যোগ দেন। স্নান যাত্রাকে কেন্দ্র করে এই দিন শ্রীশ্রী রাধা মুরারী মোহন জিউড় মন্দিরে ভোর সাড়ে ৫ টায় মঙ্গলারতি, সকাল ৭ টায় দর্শন আরতি শেষে ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। আগত ভক্তগণ মনের আনন্দে হৃদয়ের ভক্তি শ্রদ্ধা নিয়ে আপন মনে পরিবেশন করেন হরিনাম কীর্তনসহ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। তারা দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় শ্রীশ্রী রাধা মুরারী মোহন জিউড় চরণে প্রার্থনা জানান ভক্তি সহকারে। তারা মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবাদিদেব মহাদেবের কাছেও কৃপা ভিক্ষা কামনা করেন। দুগ্ধ, ঘৃত, মধু, গঙ্গাজল সহকারে ফুল, ফল নিবেদন করেন পরমেশ্বরের কাছে। তাদের ভক্তি-শ্রদ্ধা আর হরিনাম কীর্তনে মন্দিরস্থল মুখরিত হয়ে উঠে। বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে আগত ভক্তবৃন্দকে মহাপ্রসাদে আপ্যায়িত করেন মন্দির কতৃপক্ষ।
ব্যাপক ভক্ত উপস্থিতিতে মন্দিরের সুন্দর আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানস্থলে আগত জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদার। এই সময় নেতৃবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অজিত সাহা, সদর উপজেলা হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বাসুদেব মজুমদার, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, চাঁদপুর পৌর হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সস্পাদক অ্যাড. ভাস্কর দাস প্রমুখ।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই চাঁদপুরের কর্মকর্তাসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃস্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিও পরিলক্ষিত হয়। আগত নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন পূর্বক স্বাগত জানান শ্রীশ্রী রাধা মুরারী মোহন জিউড় মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, চাঁদপুর পৌর হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রোটারিয়ান রিপন সাহা। এই সময় মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন মন্দির পরিচালনা পর্ষদের প্রধান উপদেষ্টা সমর কান্তি সাহা, কার্যকরী কমিটির বাপ্পী মন্ডল, বিশ্বনাথ ঘোষ, বিমান সাহা, দীপক মজুমদার, বিশ্বজিৎ ঘোষ, রনি দাস প্রমুখ।
মন্দির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রোটারিয়ান রিপন সাহা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর ভক্তদের আগমন অনেক বেশি হয়েছে। প্রতিবছরই হরিসভার এই স্থানে অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করে প্রচুর ভক্তের আগমন ঘটে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রদানে প্রশাসন ব্যাপক ব্যবস্থাগ্রহণ করে। নিরাপত্তা প্রদানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতাও প্রশংসনীয়। আমরা রাধা মুরারী মোহন জিউড় মন্দিরের পক্ষ থেকে তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি স্নান যাত্রা অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিকেও স্বাগত জানান এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জানা যায়, মন্দিরটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নিত্য সেবা পূজাসহ সকল প্রকার ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান করে আসছে। ভারতের বৃন্দাবন থেকে রাধাকৃষ্ণ মূর্তি, পুরীধাম থেকে শ্রীশ্রী জগন্নাথ বলরাম, সুভদ্রা দেবীর মূর্তি ও নবদ্বীপ থেকে শ্রীশ্রী নিতাই ও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আনয়নকৃত পাথরের মূর্তি এবং মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গ দর্শনে প্রতিদিনই মন্দির চত্বরে ভক্তদের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। মন্দিরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অন্নপ্রাসন, ভোগরাগ, মহন্ত সেবার মতো ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান করার সুব্যবস্থা রয়েছে বলেও মন্দির কতৃপক্ষ জানান।