সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৩

শাবাশ শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক শাবাশ

অনলাইন ডেস্ক
শাবাশ শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক শাবাশ

‘নিজ দলের ৫ কর্মীকে পুলিশে সোপর্দ করলেন নবনির্বাচিত এমপি’--গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত এমন সংবাদ শিরোনাম দেখে পাঠক শুধু থমকে দাঁড়ায় নি, সংবাদটি পুরোপুরি পড়েই তবে অন্য কাজে মনোনিবেশ করেছে। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি হয়েছে ভাইরাল এবং গণমাধ্যমে হয়েছে বিশেষ সংবাদ। কেননা পুরো দেশে এমন কাজ অন্য কোনো এমপি করেছেন বলে জানা যায় নি।

সংবাদটিতে লিখা হয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে নিজ দলের পাঁচ কর্মীকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে নবনির্বাচিত এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) চাঁদপুর পৌর এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচন চলাকালীন এবং শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দু গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। এমন ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার রাতে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ ঢালীর নেতৃত্বে পাঁচজন ছাত্রদল কর্মীকে চাঁদপুর মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়। আটককৃতরা হলেন : চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেস বাজার এলাকার নাছির গাজীর ছেলে নাহিদুল ইসলাম জনি (২২), লৎফুর রহমানের ছেলে মোবারক হোসেন বেপারী (২৬) ও ইব্রাহিম গাজীর ছেলে জনি গাজী (৩০)। তাদেরকে থানায় সোপর্দের পর রাতেই ওয়্যারলেস বাজার এলাকা থেকে মনির ও ফাহিম নামের আরও দু যুবককে থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, আটক ব্যক্তিদের থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যদের আটকের জন্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নির্বাচনের অব্যবহিত পর নিজ এলাকায় দুর্বৃত্তপনায় লিপ্তদের বিরুদ্ধে চাঁদপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক যেটি করেছেন, সেটি তাঁর নৈতিক মনোবল ও মানসিক শক্তি ও সাহসের পরিচায়ক। তিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা প্রতিরোধে নিজ দলের লোকজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণের যে নজির দেখিয়েছেন, সেটিও আমরা চাঁদপুর কণ্ঠে বিশেষ প্রতিবেদনে এবং এ সম্পাদকীয় নিবন্ধে তুলে ধরেছি। অনেকে তখন বলেছিলেন, এটা তাঁর নির্বাচনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ ইতিবাচক প্রভাবই ফেলেছে। যার প্রমাণ ভোটের হিসাব। নিজের ঔরসজাত সন্তানকে অপকর্মের জন্যে ত্যাজ্য করতে পিতার যেমন মানসিক দৃঢ়তার প্রয়োজন, তেমনি নিজ দলের খারাপ লোককে শায়েস্তা করতে তারচে’ বেশি মানসিক শক্তি ও সাহসের প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। তাইতো অকপটে বলতে হয় ‘শাবাশ শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক শাবাশ’। আমরা এমপি থাকার শেষদিন পর্যন্ত তাঁর কাছে এমন আরো অনেক কিছুই প্রত্যাশা করি, যেটা তাঁর জনবান্ধব মানসিকতারই প্রতিফলন ঘটাবে। তাঁর জন্যে নিরন্তর শুভ কামনা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়