বুধবার, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৫

নৈতিক শিক্ষার প্রচার-প্রসারে ফরিদগঞ্জে হলো গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের পৃষ্ঠপোষকতা ও ফরিদগঞ্জ স্পোর্টস একাডেমির উদ্যোগ

প্রবীর চক্রবর্তী
বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের পৃষ্ঠপোষকতা ও ফরিদগঞ্জ স্পোর্টস একাডেমির উদ্যোগ

এমনিতেই ফুটবল কিংবা ক্রিকেটের কোনো টুর্নামেন্ট হলে ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকের অভাব হয় না। সর্বশেষ যার বড়ো উদহারণ ফরিদগঞ্জ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। প্রায় প্রতিটি খেলায় দেখা মিলেছে দর্শকদের। আর এসব অনুষ্ঠানে আগত দর্শকদের মাধ্যমে

সমাজহিতৈষী কোনো কর্মসূচিরও বাস্তবায়ন সম্ভব। সেই আলোকে নৈতিক শিক্ষা, মাদকমুক্ত সমাজ এবং যুবসমাজকে ক্রীড়মুখী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সদ্যসমাপ্ত ফরিদগঞ্জ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের জড়িত হওয়াটা ছিলো মূল উদ্দেশ্য। এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের পরিচালক প্রিন্সিপাল নুরে আলম তালুকদার জানান তার স্বপ্নের কথা। তিনি বলেন, সুশিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক সুনাগরিক গড়তে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নাই। তাই দীর্ঘদিন যাবত নিঃস্বার্থভাবে নৈতিক শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্ট। ইতিমধ্যে “গড়ৎধষ ঊফঁপধঃরড়হ উবাবষড়ঢ়সবহঃ চৎড়মৎধসসব” নামে একটি প্রকল্পও চালু করেছে বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্ট। বিগত বছরের ৯ এপ্রিল, রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় নৈতিক শিক্ষার প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যই ‘শিক্ষায় নৈতিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ডাইমেনশন, আপনার সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা দিন’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ফরিদগঞ্জ গোল্ডকাপকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্ট। যাতে করে নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রতিটা ঘরে ঘরে পেঁৗছে যায়। কারণ বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় সবচেয়ে বেশি। তাই নৈতিক শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্ট ফরিদগঞ্জ গোল্ডকাপ আয়োজনে ভবিষ্যতেও এককভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে যাবে ইনশাআল্লাহ।

এছাড়া ভবিষ্যতে ফরিদগঞ্জের শিক্ষা বিষয়ক যে কোনো কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্ট থাকার চেষ্টা করবে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি নৈতিক শিক্ষার মূল কাঠামোটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌছানোর জন্য। খেলাধুলা এবং শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে ফরিদগঞ্জ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্যোক্তাদের একজন ও টুর্নামেন্টের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ফরিদগঞ্জ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সদস্য নুরুন্নবী নোমানকে একই প্রশ্ন করা হয়।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফরিদগঞ্জের খেলোয়াড়, সংগঠক, ক্রীড়াপ্রেমী এবং ক্রীড়া সচেতন ব্যক্তিদের একটা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা চাচ্ছি ক্রীড়াঙ্গনে একটা বিপ্লব সৃষ্টি করতে। আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার একটা বিশাল অংশ হচ্ছে যুবক ও কিশোর। যারা পারে যে কোনো সময়, যে কোনো পরিবেশে বা পরিস্থিতিতে দেশ বা সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন করে দিতে । এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে শিক্ষাদীক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত করাই ছিলো ফরিদগঞ্জ স্পোর্টস একাডেমী ও ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের মূল লক্ষ্য। সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একই সাথে জনমানুষের কানে ‘আপনার সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা দিন’ এই ম্যাসেজ পেঁৗছে দেওয়া জন্যে আমরা ফরিদগঞ্জ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করি। আর এই খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মাঠে উপস্থিত হতো, যাদের প্রতিদিন খেলার শুরুর পূর্বে ও শেষে জানান দেওয়া হতো আপনার সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা দিন’।

এই টুর্নামেন্টটি গত ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে দীর্ঘ একমাস যাবত ফরিদগঞ্জ আবিদুর রেজা পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে চলেছে। টুর্নামেন্টকে সফল করতে স্পোর্টস একাডেমী যাদের হাত ধরে যাত্রার মুখ দেখছে এবং চলবে, তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন সজিব, জিয়াউর রহমান জিয়া, সাদ্দাম হোসেন, রাসেল গাজী, শামীম হাসান, তানজিল ইসলাম রনি ও গিয়াস উদ্দিন এই টিমটি

প্রচণ্ডভাবে শুরুতে কাজ করতে থাকে। আমি জাস্ট সাহস জুগিয়েছি।

অনেকের প্রশ্ন জাগে এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন প্রাইজ মানি এক লক্ষ ও রানার্স আপ মানি পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং মাস ব্যাপী বিশাল আয়োজন টাকা আসবে কি ভাবে। সবার সদিচ্ছা ও সৎ মনোভাব থাকলে টাকা ব্যাপার না।

সেই চিন্তা থেকে দেখা করলাম বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের পরিচালক নুরে আলম তালুকদার ভাইয়ের সাথে। ওনার সাথে সব কথা শেষে তিনি বললেন, নোমান ভাই টাকার ব্যবস্থা হবে, তবে আমার ফরিদগঞ্জবাসীর কাছে এই আয়োজনের মাধ্যমে একটা ম্যাসেজ পেঁৗছাতে হবে। তা হচ্ছে ‘আপনার সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা দিন’। বাকিটা আমি দেখবো। যে কথা সেই কাজ। অবশেষে তা সফল হলো। তার মানে এক বিশাল আয়োজন।

এই আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন আরো কিছু তরুণ ও প্রবীণ ব্যক্তি। তারা সহযোগিতা না করলে আমরা এতো বড়ো টুর্নামেন্ট শেষ পর্যন্ত করতে পারতাম না। তারা হলেন জহিরুল ইসলাম গাজী, সাখাওয়াত হোসেন বাবুল, বাবলু গাজী, সেলিম হোসেন অন্তর, হাসানুজ্জামান, জসিম উদ্দিন, জাহিদ হোসেন, হাবিবুর রহমান, ইয়াছিন, জিসান, ইমন গাজী, নাইম হোসেন, সামছুল ইসলাম, শ্রাবণ, তৌফিক, সাগর, জাহিদুল ইসলাম ফাইম, জুবায়ের ও বঁাধন শীলসহ অনেকে। চঁাদপুর কণ্ঠের মাধ্যমে আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ফরিদগঞ্জের হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের প্রতি, যারা প্রতিদিন মাঠে উপস্থিত থেকে আমাদের আয়োজনকে সার্থক করেছেন এবং পর্দার আড়ালে থেকে যারা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়