প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫১
হাইমচরের নীলকমল ইউনিয়নে ধানের শীষের উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ
নদী ভাঙ্গন রোধে আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করবো
-----------শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক

হাইমচরের নীলকমল ইউনিয়নে উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করেছেন চাঁদপুর -৩ (চাঁদপুর সদর ও হাইমচর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে গণসংযোগ ও ৫টি উঠান বৈঠকে অংশ নেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
উঠান বৈঠকগুলোতে তিনি বলেন, নদী ভাঙ্গন রোধে আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করবো। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবো এলাকায় যেন নদী ভাঙ্গা না হয়। আমরা নিজেরাও দুর্নীতি করবো না, কাউকে দুর্নীতি করতে দেবো না। আপনাদের প্রতিবেশী যারা রয়েছেন সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করবেন। আপনারা সবাই ভোট দিলেই এই এলাকাতে বিপুল ভোটে ধানের শীষ জয়লাভ করবে ইনশাআল্লাহ। এই ইউনিয়নে এর আগেও এসেছিলাম, তখন ফ্যাসিবাদীরা হামলা করে আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলো। রাখে আল্লাহ মারে কে, এখন তারা কোথায়? আর আমরা আছি আপনাদের নিয়ে।
তিনি আরো বলেন, আমরা ১৭টা বছর একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ইলেকশন কমিশনের জন্যে আন্দোলন করেছি। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করার জন্যে আমরা বাধ্য করেছি। তিনি বলেন, আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমাি আশা করি, সবাই ধানের শীষে ভোট দেবেন। ধানের শীষে ভোট দিলে আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি বলেন, জেলে কার্ডে অনেকের নাম রয়েছে, কিন্তু আমাদের যারা দল করতো তাদের নাম দিতো না ফ্যাসিবাদীরা। যারা আওয়ামী লীগ করতো, কিন্তু বিদেশে ছিলো তাদের নামও জেলে কার্ডে ছিলো।
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, আপনারা যদি ধানের শীষকে নির্বাচিত করেন, আমার নেতা তারেক রহমানকে বলবো নীলকমল ইউনিয়ন নদী ভাঙ্গন এলাকা। নদী ভাঙ্গন যেন আর না হয় সে ব্যবস্থা যেন করে দেন। আপনাদের নেতা তারেক রহমান জনগণের নেতা, আপনাদের নেতা। যেখানে প্রয়োজন পড়বে আমাদের মাধ্যমে আপনাদের পাশে থাকবেন। আল্লাহর কাছে দোয়া করি নদী যেন আর না ভাঙ্গে। আপনাদের আত্মীয়-স্বজনকে বলবেন ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্যে।আপনাদের পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলা। সেখানে নমিনেশন পেয়েছেন নুরুদ্দিন অপু ও শফিকুর রহমান কিরণ। ওখানকার ভোটার যারা এখানে আছেন, আপনাদের কষ্ট হলেও সেখানে গিয়ে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে আসবেন।
তিনি আরো বলেন, আর ২০ দিন পর নির্বাচন। যারা লুটপাট করতো তাদেরকে আমরা দেশ থেকে বিতাড়িত করতে পেরেছি। ধানের শীষে জয়লাভ হলে আমরা চেষ্টা করবো নদী ভাঙন রোধ করতে। তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হলে আমরা তার কাছে দাবি করবো নীলকমল ইউনিয়নের নদী ভাঙন রোধ করার জন্যে। আপনাদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করবো। এখানে বাঁধ হলে আপনারা চাষাবাদ করতে সুবিধা হবে। আপনারা সবাই মিলে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। সবাই ভোট দিলে দেশের উন্নয়ন হবে।
দিনের কর্মসূচির শুরুতে সকাল ৯টায় নীলকমল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ঈশানবালায় গণসংযোগের মাধ্যমে কর্মসূচির শুরু করেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক । এরপর সকাল সোয়া ৯টায় ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ঈশানবালা কাসেমুল উলুম মাদরাসা মাঠে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল পৌনে ১০টায় ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ঈশানবালা বাজার সংলগ্ন উঠান বৈঠক, সোয়া ১১টায় ইউনিয়নের ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান বাজারে উঠান বৈঠক, পৌনে ১২টায় ইউনিয়নের ৭ও ৮নং ওয়ার্ডের নীলকমল বাজারে হয় উঠান বৈঠক। সবশেষে সাড়ে ১২টায় ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডস্থ সাহেবগঞ্জ বাজারে উঠান বৈঠকে অংশ নেন ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি আলহাজ্ব রাশেদা বেগম হীরা, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. কোহিনূর বেগম, হাইমচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সফিক পাটওয়ারী, সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান শিকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস মেহনতি, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমান হোসেন গাজী, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন পাটওয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান সোহাগ, নীলকমল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নাছির মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মো. মনির সিকদারসহ ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও অঙ্গ সংগঠনের শত শত নেতা-কর্মী।








