বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১, ৮ শাওয়াল ১৪৪৫  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে আগুনে পুড়ে ছাই ১০ পরিবারের ঈদ আনন্দ

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০০:০০

তাদের কেউ ধরা পড়ে, আবার কেউ পড়ে না

অনলাইন ডেস্ক

তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ (যেমন ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার ও পৌরসভার কাউন্সিলর)-এর মধ্যে অনেকে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের এতোটা ঘনিষ্ঠ হয়ে যান যে, এতে তাদের কেউ কেউ নিজেদের ক্ষমতাধর ভাবতে শুরু করেন এবং সেমতে ধরাকে সরাজ্ঞান করেন। এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ বেপরোয়া/ বিপথগামী হয়ে নানা ধরনের অপরাধের সাথে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা বাড়ান এবং হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন। জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ সাবেক হয়ে গেলেও বদভ্যাস ছাড়তে পারেন না। যার প্রমাণ গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত একটি সংবাদে পাওয়া গেছে।

সংবাদটিতে লিখা হয়েছে, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্যসহ জুয়া খেলারত অবস্থায় ৫জনকে আটক করেছে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। ২৯ মার্চ দিবাগত রাত প্রায় ১১টার দিকে তাদের আটক করেন ফরিদগঞ্জ থানার এসআই রুবেল ফরাজী ও এসআই আনোয়ার হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স। জানা যায়, দক্ষিণ কড়ৈতলী আনন্দবাজারের নিকট থেকে জুয়া খেলা অবস্থায় এই ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আলী হায়দার উজ্জ্বল পাটওয়ারী, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সায়েম, ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহাপুর এলকার যুবলীগ নেতা রিয়াদ হোসেন, দক্ষিণ কড়ৈতলীর আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম ও ফরিদ রাঢ়ী। স্থানীয় সাধারণ মানুষ বলেন, দিন দিন আমাদের এলাকায় নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি ও জুয়া খেলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে আমাদের স্ত্রী, ছেলে সন্তানরা আতঙ্কে থাকে। দিনে রাতে চলাচলেও ভয় পায়। এরা এলাকাটা নষ্ট করে ফেলছে। সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়লে ইউপি সদস্য ও কাউন্সিলরের কাছে যেতো, আর তারাই এখন জুয়ার মতো অপরাধের সাথে জড়িত। এটা খুবই দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাঈদুল ইসলাম বলেন, এ অভিযান আমাদের নিয়মিত অভিযানের মধ্যে একটি। অভিযান চলাকালে এ সকল অপরাধের সাথে যে কোনো মানুষ যুক্ত থাকলেই তাকে আমরা আইনের আওতায় আনবো।

পুলিশ তাদের এমন কঠোরতার কথা বললেও তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং বর্তমান/সাবেক মেম্বার/কাউন্সিলরদের মধ্যে যারা জুয়া, মাদকসহ অন্যান্য অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের সবাইকে সমানভাবে পাকড়াও করতে পারে না। সখ্যতা/ঘনিষ্ঠতা, দৃশ্যমান/অদৃশ্যমান চাপ/প্রভাব ইত্যাদি নানা কারণে পুলিশ সেটি পারে না বলে সাধারণ্যে কথিত আছে। উপরোল্লিখিতদের কেউ কেউ জুয়া, মাদক সহ নানা অপরাধ করে জীবিকা নির্বাহও করে। ভাগ-বাঁটোয়ারায় চলে এমনটা। সেজন্যে এদের কেউ ধরা পড়ে, আবার কেউ ধরা পড়ে না। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখার অবকাশ আছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়