প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৮
মাত্র ১০ বছর বয়সেই পবিত্র কুরআনের হাফেজ হলো খুদে শিক্ষার্থী আশ্রাফ

মাত্র ১০ বছর বয়সে পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করেছে খুদে শিক্ষার্থী মো. আশ্রাফ আহমেদ নবীন।
সে চাঁদপুর শহরের পুরান বাজারের পশ্চিম শ্রীরামদী এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে এবং পূর্ব শ্রীরামদীর ব্রিজের গোড়ার পশ্চিম পাশে অবস্থিত উসমান ইবনে আফফান (রা.) মডেল মাদরাসার হিফজ বিভাগ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মাদরাসার হিফজ বিভাগের প্রধান উস্তাদ হাফেজ মাওলানা মাছুম বিল্লাহর তত্ত্বাবধানে সে এই গৌরব অর্জন করে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি হিফজ শুরু করে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর তা সম্পন্ন করে আশ্রাফ আহমেদ নবীন। দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ১০ দিনের নিরলস প্রচেষ্টায় সে পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করার অনন্য সৌভাগ্য অর্জন করে।
নবীনের এই হিফজ সম্পন্ন উপলক্ষে মাদরাসার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মহান আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করা হয় এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় তার মা-বাবা এবং হিফজের পেছনে নিরলস পরিশ্রম করা উস্তাদদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
মাদরাসার হিফজ বিভাগের প্রধান উস্তাদ হাফেজ মাওলানা মাছুম বিল্লাহ বলেন, "পবিত্র কুরআন হলো মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত সর্বশেষ আসমানি কিতাব এবং পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মহান আল্লাহ নিজেই এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। যুগের পর যুগ ধরে অসংখ্য হাফেজে কুরআন ও আলেম এই সংরক্ষণের ধারায় অবদান রেখে চলেছেন।"
তিনি আরও বলেন, "মাত্র ১০ বছর বয়সে আল্লাহর অশেষ রহমতে আশ্রাফ আহমেদ নবীন ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করেছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এই অর্জনের পেছনে তার নিজের অধ্যবসায়, মা-বাবার সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা রয়েছে। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়ার তাওফিক দেন।"
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও আশ্রাফ আহমেদ নবীনকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানানো হয়। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়, তিনি যেন তাকে কুরআনের একজন হক্কানি হাফেজ হিসেবে কবুল করেন, তার মা-বাবার শ্রম ও ত্যাগের উত্তম প্রতিদান দেন এবং ভবিষ্যতে দ্বীনের একজন একনিষ্ঠ দাঈ হিসেবে দেশ ও জাতির খেদমত করার তাওফিক দান করেন। পাশাপাশি তার পেছনে মেহনত করা সকল শিক্ষকের শ্রম কবুল করে তাঁদের দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দেওয়ার দোয়া করা হয়।
মাদরাসার শিক্ষকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে যাবে এবং পবিত্র কুরআনের সুমহান বাণী দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়বে।







