বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪১

খেজুরবাগানের নিচে পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস

মোহাম্মদ সানাউল হক
খেজুরবাগানের নিচে পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস

সৌদি আরবের পূর্ব উপকূলে কাতিফ শহরের গা ঘেঁষে আরব উপসাগরের বুকে জেগে আছে ‘তারুত’ নামের একটি দ্বীপ। বাইরে থেকে দেখলে একে খেজুরবাগান ও ঘনবসতিপূর্ণ সাধারণ একটি দ্বীপ বলে মনে হতে পারে; কিন্তু এর মাটির নিচে লুকিয়ে রয়েছে মেসোপটেমিয়া, দিলমুন ও প্রাচীন উপসাগরীয় বাণিজ্যের হাজার বছরের ইতিহাস। ‘সাউদিপিডিয়া’-র বর্ণনা অনুযায়ী, কিছু ঐতিহাসিকের হিসাবে দ্বীপটির ইতিহাস খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ হাজার বছরেরও আগের। ফলে একে আরব উপদ্বীপের অন্যতম প্রাচীন জনপদ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, কাতিফ গভর্নরেটের উপকূলের কাছে তারুত উপসাগরের মাঝখানে দ্বীপটির অবস্থান। এর উত্তরে রাস তানুরা এবং দক্ষিণে দাম্মামের বাদশাহ আবদুল আজিজ বন্দর। রিয়াদ রোড, উহুদ রোড ও আম্মার বিন ইয়াসির স্ট্রিট—এই তিনটি সড়ক দ্বীপটিকে কাতিফের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সাউদিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৩.৫ কিলোমিটার প্রশস্ত এই দ্বীপটির মোট আয়তন ২০.৩ বর্গকিলোমিটার এবং এটি সৌদি আরবের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপ।

ভূতাত্ত্বিকভাবে প্লাইস্টোসিন যুগে বা হিমযুগে গঠিত এই দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা আজও খেজুরগাছে ঢাকা। কৃষি ও মাছ ধরা এখানকার মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস।

নামের রহস্য

তারুত নামের উৎস সুনির্দিষ্ট নয়। সাউদিপিডিয়ার মতে, দ্বীপটির একাধিক প্রাচীন নামের মধ্যে ‘টায়ারস’ ও ‘ইশতারুত’ উল্লেখযোগ্য। ধারণা করা হয়, ফিনিশীয়রা ভূমধ্যসাগরের তীরে যাওয়ার আগে এখানে বসতি গড়েছিল। তবে বহুল প্রচলিত ধারণা হলো, নামটি এসেছে প্রাচীন দেবী ইশতার বা আস্তারতে থেকে। সুমেরীয়রা তাঁকে ইনান্না, আক্কাদীয়রা ইশতার, দক্ষিণ আরবের মানুষ আথার বা আত্তার এবং কেনানীয়রা আস্তারতে নামে জানত। তিনি ছিলেন উর্বরতা ও প্রেমের দেবী।

অবশ্য গবেষকদের মতে, এই নামকরণের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। দ্বীপে ইশতারের কোনো মন্দির থাকার কারণে নামটি এসে থাকতে পারে, অথবা অঞ্চলটি আগে থেকেই ওই নামে পরিচিত ছিলো। কাতিফের তারুত টিলায় (স্থানীয়ভাবে ‘তাল তাউত’) প্রত্নতাত্ত্বিক খননে খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম সহস্রাব্দের উবাইদ যুগ থেকে বসতির প্রমাণ মিলেছে, যা তৃতীয় সহস্রাব্দ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এখানকার সবচেয়ে পুরনো নিদর্শনটি দ্বিতীয় উবাইদ পর্বের (খ্রিস্টপূর্ব ৪৩০০-৪০০০)।

সভ্যতার নানা নিদর্শন

সাউদিপিডিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, তারুত দ্বীপ ছিল দিলমুন সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মেসোপটেমিয়া ও পূর্ব আরবের উপকূলীয় অঞ্চল এর ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং উপসাগরীয় বাণিজ্যে দ্বীপটির ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। টিলার নিচের স্তরে মেসোপটেমিয়ার জেমদেত নাসর সভ্যতার (খ্রিস্টপূর্ব ৩১০০-২৯০০) ত্রিকোণাকার বড় মৃৎপাত্র পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুর্গের ভিত্তির নিচ থেকে পরবর্তী যুগের কমলা-হলুদ মৃৎপাত্র এবং তৃতীয় সহস্রাব্দের দিলমুন মৃৎশিল্পের নিদর্শনও নিশ্চিত হয়েছে।

এখানকার সবচেয়ে বিখ্যাত আবিষ্কার সম্ভবত ‘তারুত মূর্তি’। দুর্গের ভিত্তির নিচে পাওয়া ৯৪ সেন্টিমিটার উঁচু এই চুনাপাথরের মূর্তিতে দেখা যায়, এক নগ্ন পুরুষ হাত ভাঁজ করে ভক্তিভরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর কোমরে তিনটি বেল্টের মতো চিহ্ন রয়েছে। সুমেরীয় শিল্পের আদলে গড়া মূর্তিটির সময়কাল ধরা হয় খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দের মাঝামাঝি। কেউ কেউ অনুমান করেন, মূর্তিটি কোনো মেসোপটেমীয় ব্যক্তির পক্ষ থেকে দিলমুনের কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তিকে দেওয়া বন্ধুত্বের উপহার হতে পারে, যদিও এটি কেবলই একটি অনুমান। বর্তমানে রিয়াদের জাতীয় জাদুঘরে এই নগ্ন পুরুষের একটি পুনরুদ্ধার করা মূর্তি প্রদর্শিত রয়েছে।

‘আদব নিউজ’-এর বর্ণনায় জানা যায়, তারুতের প্রাচীন শহরাঞ্চলে চার হাজার বছরেরও বেশি পুরনো নিদর্শন মিলেছে, যা আদি মেসোপটেমীয় সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত। পাশাপাশি এলাম, সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতা এবং উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলের প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গেও এর যোগসূত্র পাওয়া গেছে। জাতীয় জাদুঘরে সিন্ধু সভ্যতার একটি পাত্রও সংরক্ষিত রয়েছে।

দ্বীপের অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে আকস্মিক উপায়ে। ১৯৫৯ সালে রাস্তা পরিষ্কার করার সময় এক ব্যক্তি সাবাইয়ান লিপি খোদাই করা পাথর পান। ১৯৬২ সালে কাতিফ পৌরসভা সংযোগ-সড়ক তৈরির জন্য ‘তাল রাফিয়া’ টিলা থেকে বালু তুলতে গিয়ে প্রাচীন মৃৎপাত্র ও একটি মূর্তি খুঁজে পায়। এ ছাড়া একটি গাড়ির গ্যারেজ সংস্কারের সময় খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ সালের একটি প্রাচীন সমাধিরও সন্ধান মেলে।

তারুতের গবেষণায় বিদেশি গবেষক দলও অংশ নিয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে ডেনিশ প্রত্নতাত্ত্বিক দল এখানে কাজ করে। বিশেষ করে ঝরনা ‘আইন আল-আওদা’-সংলগ্ন টিলাকে তারা দিলমুনের বারবার সভ্যতার প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করেছে।

তারুত দুর্গ : হাজার বছরের প্রহরী

দ্বীপের কেন্দ্রস্থলে খেজুরবাগানের মাঝখানে একটি উঁচু টিলার ওপর দাঁড়িয়ে আছে তারুত দুর্গ। সাউদিপিডিয়ার তথ্যমতে, এটি কাতিফ গভর্নরেটের সবচেয়ে উঁচু স্থান। দুর্গটি স্থানীয়ভাবে ‘পর্তুগিজ দুর্গ’ নামেও পরিচিত।

দুর্গটির নির্মাণকাল ও নির্মাতা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে, উয়ুনি আমিরাতের আমলে (১০৭৬-১২৩৮ খ্রিস্টাব্দ) এটি নির্মিত হয়। আবার কারও মতে, ষোড়শ শতকের শুরুতে (১৫১৫ থেকে ১৫২১ সালের মধ্যে) পর্তুগিজরা এটি গড়ে তোলে। তবে সাউদিপিডিয়া জানায়, দুর্গে পাওয়া কিউনিফর্ম লিপি ইঙ্গিত দেয় যে এর ইতিহাস খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুযায়ী, ১৫৪৪ সালের ২৯ মার্চ পর্তুগিজরা দুর্গটি সংস্কার করে। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল উপসাগরীয় বাণিজ্যপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা এবং হরমুজ প্রণালীর দুর্গ শক্তিশালী করা। ১৫৫১ ও ১৫৫২ সালে অটোমান বাহিনী কাতিফ দুর্গে অভিযান চালিয়ে পর্তুগিজদের বিতাড়িত করে। পরবর্তী অটোমান শাসনামলে (১৮৭১-১৯১২) তারুত কাতিফ জেলার অংশ ছিল এবং ১৮৭২ সালে দুর্গটির সংস্কার করা হয়। ১৭৯১ সালের কাছাকাছি সময়ে প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের বাহিনী কাতিফ জয়ের অভিযানে তারুত দুর্গ ঘেরাও করে। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, বনু খালিদের সেনাপতি আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মাহশুরি দুর্গে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দীর্ঘ অবরোধ ও কামানের গোলার আঘাতে দুর্গের পূর্ব অংশ ও উত্তর প্রাচীরের কিছু অংশ ধ্বংস হয় এবং শেষ পর্যন্ত দুর্গের পতন ঘটে।

স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে দুর্গটির চারপাশ ঘিরে চারটি বুরুজ রয়েছে, যা স্থানীয় ভূসংস্থানের আকৃতি অনুসরণ করে নির্মিত। এর প্রাঙ্গণ প্রায় ডিম্বাকার এবং ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি গভীর কূপ। দেয়ালের পুরুত্ব ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার এবং উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার। দুর্গটির সামগ্রিক আকৃতিকে কাঁকড়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়। চারটি বুরুজের মধ্যে বর্তমানে তিনটি টিকে রয়েছে। সাউদিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, চতুর্থ বুরুজটি কোনো ঐতিহাসিক যুদ্ধে ধসে পড়ে। দক্ষিণ-পূর্ব বুরুজটি ১৯১৬-১৭ সালের দিকে ধসে যাওয়ার পর ১৯৮৪ সালে আংশিক সংস্কার করা হলেও সেই কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়।

বিপদের সময় দুর্গের সৈন্যরা আগুন জ্বালিয়ে সংকেত পাঠাত। দিনে ধোঁয়া আর রাতে আগুনের শিখা দেখে তারা আসন্ন আক্রমণের বার্তা পৌঁছে দিত। ১৯৮৪ সালের সংস্কারের সময় প্রাঙ্গণের কেন্দ্রে যে গভীর কূপটি পাওয়া যায়, ধারণা করা হয় সেটি অবরোধের সময় পানি সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হতো।

আইন আল-আওদা : পবিত্র ঝরনা

দুর্গের পাদদেশের ঝরনা ‘আইন আল-আওদা’ (যা ‘আইন তারুত’ বা ‘আইন আল-কালআ’ নামেও পরিচিত) ছিল দ্বীপের প্রাণকেন্দ্র। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এটি প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো একটি গন্ধকযুক্ত ঝরনা, যার পানি দিয়ে পুরো দ্বীপের সেচকার্য পরিচালিত হতো।

শীতকালে এই ঝরনা থেকে গরম পানি ও বাষ্প বের হতো, আর গ্রীষ্মে পানি থাকত কুসুম গরম। প্রাচীন বিভিন্ন সভ্যতার মানুষ একে পবিত্র মনে করত। লোকমুখে প্রচলিত আছে, দেবী ইশতার তরুণী রূপ ধারণ করে এই খেজুরবাগানের আশপাশে হেঁটে বেড়াতেন এবং তাঁর পদচারণায় ঝরনাগুলোর উৎপত্তি হয়েছিল। সৌদি আমলের আগে এই ঝরনা ছিল স্থানীয় নারীদের কাপড় ধোয়ার স্থান এবং উপসাগরের ডুবুরি ও নাবিকদের বিশ্রামের ঠিকানা। এর একটি শাখা থেকে পানি চলে যেত ‘হাম্মাম তারুত’ নামের গন্ধক-স্নানাগারে, যা ১৯৯১ সালে পৌরসভা ভরাট করে সুইমিং পুলে রূপান্তর করে।

দুঃখজনক হলেও সত্যি, ঝরনাটি আজ প্রায় শুকিয়ে গেছে। এর মূল কারণ হিসেবে অনেকে এলাকায় চলমান তেল উত্তোলনকে দায়ী করেছেন। ২০১১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ১২ সদস্যের একটি দল ১৯৯৬ সালের পর প্রথমবারের মতো এর পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হলেও উইকিপিডিয়া জানায় যে, পরবর্তীতে এটি আবার শুকিয়ে যায়।

তারুতের দক্ষিণ কোণে রয়েছে ছোট দ্বীপ ‘দারিন’, যা একসময় অগভীর পানি দ্বারা মূল দ্বীপ থেকে আলাদা ছিল। ১৯৭৯ সালে এর মধ্যকার জলপথ পুনর্র্নিমাণ করা হয়। সাউদিপিডিয়া জানায়, দারিন একসময় সমৃদ্ধ বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল, যেখানে জাহাজে আসা বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী মজুত থাকত। এখানকার বিখ্যাত পণ্যের মধ্যে ছিল কস্তুরী, আতর, মসলা, নানা ধরনের কাপড় ও তলোয়ার। এ ছাড়া কাতিফ অঞ্চলের মুক্তা বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রও ছিল এই দারিন।

আজকের তারুত

বর্তমানে তারুতের পুরনো ‘দিয়ারা’ এলাকায় প্রাচীন বাড়িঘর, বাজার ও হস্তশিল্পের স্মৃতিনাশী নিদর্শন টিকে রয়েছে। ২০১১ সালে দুর্গের পাশের কারিগর-বাজার সংস্কারের কাজ শুরু হয়। কাতিফ পৌরসভা ও তারুত দাতব্য সংস্থা ২০২২ ও ২০২৩ সালে ‘তারুত দুর্গ বাগান’ নামে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করে, যার মধ্যে ছিল দুর্গ ও ঐতিহ্যবাহী পাড়ার গাইডেড ট্যুর এবং প্রাচীন পেশা ও হস্তশিল্পের প্রদর্শনী।

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দুর্গের বুরুজে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত নয়। যদিও বিগত দশকগুলোতে সংস্কারের নানা ঘোষণা এসেছে, তবে কাজের গতি ছিল মন্থর। ২০২২ সালে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান দারিন ও তারুত দ্বীপের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন এবং একটি দ্বীপ উন্নয়ন কর্পোরেশন গঠনের কথা জানান। সাউদিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য ২৬৪ কোটি ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল বরাদ্দ করা হয়েছে।

এই মহা-পরিকল্পনা মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে—

১. সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ,

২. প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনরুজ্জীবিত করা এবং

৩. জীবনযাত্রার মান ও পর্যটন অর্থনীতি উন্নত করা।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ১৯টিরও বেশি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দারিন দুর্গ ও বিমানবন্দরকে ঐতিহ্যবাহী পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর, সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন, হাঁটার পথ নির্মাণ, উপসাগরের তীরে বিশাল ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব হোটেল-লজ নির্মাণ। দ্বীপটির ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত এলাকা চত্বর, পার্ক, জলপ্রান্তর ও সড়ক নেটওয়ার্কের জন্য সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যটকের সংখ্যা ১৩ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবছর জিডিপিতে প্রায় ২৯ কোটি ৭০ লাখ রিয়াল যুক্ত হওয়া এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।

শেষ কথা

তারুত কেবল সাধারণ কোনো দ্বীপ নয়; বরং এটি মেসোপটেমিয়া, দিলমুন, সিন্ধু সভ্যতা এবং পরবর্তীকালের মুসলিম ও ইউরোপীয় শক্তিগুলোর ঐতিহাসিক পদচিহ্ন বহনকারী এক জীবন্ত দলিল। একদিকে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন সভ্যতার অমূল্য নিদর্শন, অন্যদিকে শুকিয়ে যাওয়া ঝরনা আর ফাটল ধরা প্রাচীন বুরুজ—সব মিলিয়ে এই দ্বীপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ঐতিহ্য সংরক্ষণের সময় এখন ফুরিয়ে আসছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়