প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬
মৈশাদী বাজারে রেলওয়ের জমিতে ফের মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ
*কৃষি লিজের জমিতে স্থায়ী বাণিজ্যিক স্থাপনা ও মাটি ভরাট করে নতুন মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ*

চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী রেল স্টেশনসংলগ্ন তালতলা বাজারে রেলওয়ের জমি দখল করে পুনরায় মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বাজারের দক্ষিণ পাশে তুষার খান নামের এক ব্যক্তি রেলওয়ের জমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে বিশাল মার্কেট গড়ে তুলছেন। একই এলাকায় রেলওয়ের অন্য জমি মাটি দিয়ে ভরাট করে নতুন করে মার্কেট নির্মাণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের কৃষি লিজ নেওয়া জমিতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের এই কর্মকাণ্ডে সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষার লিজের শর্ত মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
|আরো খবর
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৈশাদী তালতলা বাজার এলাকায় রেলওয়ের সম্পত্তিতে একাধিক দোকান নির্মাণ করে তা ভাড়া দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় মহিউদ্দীন খান তপন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। তিনি মৈশাদী তালতলা বাজারসংলগ্ন খান বাড়ির মৃত সহিদুল ইসলাম খানের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রেলওয়ের জমিতে দোকান নির্মাণ ও ভাড়া দিয়ে জমিটির ওপর নিজেদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কোথাও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ, আবার কোথাও মাটি ভরাট করে নতুন মার্কেট গড়ে তোলার তৎপরতা চলছে।
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগকারীর দাবি, রেলওয়ের কাছ থেকে কৃষিকাজের জন্য লিজ নেওয়া জমি নির্ধারিত শর্তের সম্পূর্ণ বাইরে গিয়ে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষি লিজের জমিতে স্থায়ী দোকান ও মার্কেট নির্মাণের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো স্পষ্টতই লিজের শর্তের পরিপন্থী। তাদের মতে, রেলওয়ের জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বৈধতা, জমির সঠিক সীমানা এবং লিজের প্রকৃত শর্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হলে পুরো অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে আসবে।
এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহিউদ্দীন খান তপন বলেন, "এগুলো আমাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি। পরে আমরা রেলওয়ে থেকে কৃষি লিজ নিয়েছি। এখন মার্কেট করবো, যা ইচ্ছা তাই করবো।" এমনকি তার বক্তব্য নিতে গেলে তিনি উত্তেজিত হয়ে তার ভাইকে উদ্দেশ করে বলেন, "এদেরকে এখান থেকে চলে যেতে বলো। বেশি বাড়াবাড়ি করতে দিও না।"
এদিকে রেলওয়ের জমিতে মার্কেট নির্মাণকারী অপর ব্যক্তি তুষার খানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মারুফ হোসেন জানান, " বিষয়টি রেলওয়ের এস্টেট বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।"
অন্যদিকে, রেলওয়ে লাকসাম জংশনের কানুনগো মনোয়ার হোসেন বলেন, "রেলওয়ের কোনো সম্পত্তির শ্রেণি পরিবর্তনের সুযোগ নেই। কেউ জমি লিজ নিয়ে থাকলে লিজের শর্ত এবং জমির ব্যবহার যাচাই করা হবে। অনিয়ম পাওয়া গেলে লিজ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি দ্রুত পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
সচেতন মহলের দাবি, মৈশাদী তালতলা বাজার ও রেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় রেলওয়ের জমিতে মাটি ভরাট, দোকান নির্মাণ এবং বড় আকারের মার্কেট গড়ে তোলার অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে জমির প্রকৃত সীমানা, কৃষি লিজের শর্ত, স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন। সরকারি সম্পত্তি যেন কোনোভাবেই লিজের শর্তের বাইরে ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক স্বার্থে অপব্যবহার না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








