প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪২
হাজীগঞ্জ বাজারের যানজট থেকে মুক্ত থাকাটা এবার যদি টেকসই হয়-

‘এমপির আশ্বাসে সরে গেছে হাজীগঞ্জ বাজারের হকাররা। তিন হকারকে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড’ শিরোনামে গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে লিখা হয়েছে, ‘হাজীগঞ্জ বাজারকে যানজট মুক্ত করা হবে’ স্থানীয় এমপি মো. মমিনুল হকের এমন প্রতিশ্রুতিতে হাজীগঞ্জ বাজারকে ফের যানজট মুক্ত করা হলো।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বেশ ক’মাস আগে হাজীগঞ্জ বাজারকে যানজটমুক্ত করা হয়েছিলো। সেই সময় কয়েকদিনের জন্যে হকার বসা রোধ করা গেলেও তা ছিলো ক্ষণস্থায়ী। এর পরে হকাররা পুরোপুরি ফিরে আসে সড়কের পাশে। যে কারণে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ফের শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) দুপুরে হাজীগঞ্জ বাজার থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে সড়কের পাশের হকার আর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারি চালিত অটোবাইক স্ট্যান্ড। এ ক্ষেত্রে পৃথকভাবে অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান। সরকারি এ দু কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাধিক নেতা। অভিযান চলাকালে তিন হকারকে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হকাররা হলেন : বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের রায়চোঁ গ্রামের দুলাল মজুমদারের ছেলে মো. শাওন (২৩), হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন রান্ধুনীমুড়া এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে মো. রাছেল হোসেন (২৩) ও একই এলাকার শহীদুল ইসলামের ছেলে মো. সজীব হোসেন (২২)।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাজীগঞ্জ বাজারের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক ও বাজার অভ্যন্তরে সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড হওয়ায় এমনিতে বাজারে যানজট লেগে থাকে। তার ওপরে সড়কের পাশে ও ফুটপাত দখল করে হকার বসার কারণে বাজারের যানজট বহুলাংশে বেড়ে যায়। ফলে বাজার এলাকাতে যানজট স্থায়ী আকারে রূপ নেয়। যানজটে এক পর্যায়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। তখনই নড়চড়ে বসে প্রশাসন। সিদ্ধান্ত নেয়া হয় হকার আর সকল স্ট্যান্ড উচ্ছেদ ছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বেশ ক’মাস আগে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে হকার উচ্ছেদে নেমে সফলতা লাভ করে। নিয়মিত বাজারে পরিচালিত হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দ করা হয় হকারের ভ্যানগাড়ি আর মালামাল। বহু মালামাল সে সময় এতিমখানাতে পাঠানো হয়, আর ভ্যানগাড়িগুলো থানার হেফাজতে রাখা হয়। মাত্র ক’দিন পরেই হকার স্ট্যান্ডগুলো তাদের স্ব-স্থানে ফিরে এসে ফের যানজটের সৃষ্টি করে। তাই প্রশাসন হাজীগঞ্জ বাজারকে পুনরায় যানজটমুক্ত করতে হকার ও স্ট্যান্ড উচ্ছেদে নামে। গত ক’দিন ধরে পৌরসভার পক্ষ থেকে হকার উচ্ছেদে একাধিকবার মাইকিং করা হয়। সরজমিনে দেখা যায়, শনিবার সকাল থেকে অন্যদিনের চেয়ে হকার কম বসেছে। সকাল ১০টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিলা জাহানের নেতৃত্বে অভিযানে নামে প্রশাসন। এর কিছু পরে ভিন্নভাবে অভিযানে নামেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন। সরকারি এ সকল কর্মকর্তার সাথে সহযোগিতা করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাধিক নেতা। অভিযান পরিচালনাকালে হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজার থেকে পশ্চিম বাজারে কোনো হকার দেখা যায়নি, এমনকি বাজার অভ্যন্তরে থাকা সকল সিএনজি ও অটো স্ট্যান্ডকে তাৎক্ষণিক অপসারণ করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে তিন হকারকে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন জানান, হকার বসা বন্ধ রাখতে প্রতিদিন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
হাজীগঞ্জ বাজার যানজটমুক্ত থাকার বিষয়টি টেকসই করতে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রয়োজনীয়তা ছিলো অনেক বেশি। কিন্তু বিগত দিনে কোনো রাজনৈতিক সরকারের আমলেই সেটা দেখা যায় নি। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন পৌরসভাকে সাথে নিয়ে অতীতে হাজীগঞ্জ বাজারকে কয়েকবার যানজটমুক্ত করতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের দু পাশ থেকে হকারদের উচ্ছেদ করে। কিন্তু এ উচ্ছেদ টেকসই হয় নি। কারণ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে হকাররা উচ্ছেদের পর বারবার পুনর্বাসিত হয়েছে। এবার সরকারি দলের নবনির্বাচিত এমপির প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাসের আলোকে সড়কের দুপাশ থেকে হকারেরা পৌরসভার মাইকিংয়ের প্রেক্ষিতে স্বেচ্ছায় সরে গেছে। আর যারা সরে না গিয়ে গোয়ার্তমি করেছে, তাদেরকে তিনজনকে একমাস করে কারাদণ্ড দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর মানসিকতা প্রদর্শন করেছে, যেমনটি অতীতে দেখা যায় নি। সরকারি দল বিএনপির নেতাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কারণে প্রশাসন যে এমনটি করেছে সেটা স্পষ্টতই বোঝা যায়। সামনে পৌর নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হলে কোনো প্রার্থী ভোট পাওয়ার আশায় উচ্ছেদকৃত হকারদের পুনর্বাসনে প্রকাশ্য-গোপন প্রতিশ্রুতি দেয়ার সুযোগ থাকবে না। এ ক্ষেত্রে এমপির পছন্দকৃত মেয়র প্রার্থীও যদি এমন প্রতিশ্রুতি দেয়ার উপক্রম না খোঁজেন, তাহলে হাজীগঞ্জ বাজার যানজট থেকে মুক্ত থাকার বিষয়টি টেকসই হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এমপির অনড় অবস্থান যদি তাঁর দল ক্ষমতায় থাকার শেষদিন পর্যন্ত বহাল থাকে, তাহলে হাজীগঞ্জ বাজার যানজট মুক্ত থাকবে-এটা হলফ করে বললে অত্যুক্তি হবে না বলে আমরা মনে করি। আমরা হাজীগঞ্জ বাজারকে যানজট মুক্ত করতে এমপির আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তাঁর আন্তরিকতার জন্যে তাঁকে উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি সহায় হোন।




