প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ১০:৪৫
দেবদাস কর্মকারের কবিতা
দেবদাস কর্মকারের কবিতা মায়ের দেয়া একটি রুমাল
ছোট্ট বেলায় ইচ্ছে ছিলো মনে মনে হারিয়ে যেতে
কোনো এক সন্ধ্যাবেলা লুকিয়ে ছিলাম খড়ের গাদায়
পৌষ বেলাকার অন্ধকারে
হারিয়ে গেল হলুদ আমার বুকের রুমাল।খড়ের গাদার আড়াল থেকে চেয়ে দেখি দ্বীপের আলো
আমার মায়ের কান্না শুনে ছুটে আসে প্রতিবেশী
খুঁজছে যখোন সবাই মিলে দেখছি আমি সবকিছুই
কেমন যেন তামাশা মনে, হারিয়ে গেলে কী করে সব!
যখোন একটু রাত্রি হলো আকাশ জুড়ে হাজার তারা
পুড়তে পুড়তে পড়লো এসে একটু দূরে বনের মাথায়
হঠাৎ আমার বুকের ভেতর উঠলো কাঁপন দুরুদুরু
মনের ভয়ে চুপ লুকিয়ে ফিরে আসি ঘরের ভেতর
ধরে ফেলেন মা যে আমার, কোথায় ছিলি দস্যি ছেলে ?এখোন আমার মা বেঁচে নেই হারিয়ে গেছেন তারার দেশে--
বয়স বেড়েছে যখোন আমার আকাশ দেখি জানালা দিয়ে
সবার মুখের ভাষা পড়ি তাকিয়ে থাকি নিনির্মেষে
মধ্য রাতের উতল হাওয়া উড়ায় আমার বুকের রুমাল
মনের ভেতর কাতর ক্ষমা বুঝিয়ে যে দেয় ফুল কিশোরী
যখোন আমার ঘুম হলোনা দৃষ্টি ফেরাই মেঘ মুলুকে
জগৎ জুড়ে আর দেখিনা মায়ের দেয়া একটি রুমাল।১৬ মে ২০২৬, ঢাকা, ২ জৈষ্ঠ ১৪৩৩
জেগে নেই কেউ
সেই চেনা পথে যখোন হেঁটে যাই
কেউ ডাকে না,হয়তো চিনতে পারে না আর,
বয়স বেড়ে গেলে পুরানো গাছের মতো হয় মুখ
চেনা খালবিল নদী বাড়ি ঝোপঝাড় বন
আনাচে কানাচে সারাদিন কেউ আর ডাকে না।কারো দরজায় পৌঁছাতে রাত হয়
জানালার কাছে গিয়ে বলি জেগে আছো কি?
উঠানের পাশে নদী আম্র বৃক্ষের আঁকাবাঁকা ডাল
ব্যাকুল তারুণ্য নেই আর-ডেকে যায় মধ্য জীবন
তবুও সাহসে করি ভর ডাক দেই জেগে আছো কি?প্রস্থান পথ ঢেকে যায় ঘোরে, অদূরে নীল বনভূমি
কাজ থেকে আজ তবে অখণ্ড এই ছুটি
কী অদ্ভুত ভীরুতায় একটি জীবন করি পার
তবু নিজের বুকের কাছে যেন কান পেতে শুনি
চিরকালের সেই সুরের মাধুরী স্মৃতি ভাস্বর,
রাত দিন ভরে যায় ছায়ার কাকলি মোহে
জীবনের মুঠো খুলে দেখি জেগে নেই কেউ
তবুও নাকে আসে যেন কী অপূর্ব সৌরভ সত্তার।৮ মে ২০২৬, ঢাকা, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩







