প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:১৯
"ডিজিটাল যুগেও কলম চললো মায়ের টানে: বাবুরহাটে একুশের সকালে ছাত্র-ছাত্রীদের অশ্রুসিক্ত চিঠি"
"বাবুরহাটে একুশের বিস্ময়: মায়ের কাছে চিঠি লিখে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা"

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ও হৃদয়স্পর্শী আয়োজন। অমর একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিদ্যালয় শাখা আয়োজন করে "মায়ের কাছে চিঠি" লেখা প্রতিযোগিতা, যা উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।
|আরো খবর

ছবি :স্মৃতির মিনারে পদযাত্রা: প্রভাত ফেরি শেষে ভাষা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন বাবুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। (ছবি: পলাশ দে)
প্রভাত ফেরি ও শ্রদ্ধাঞ্জলি
ভোর সকালে খালি পায়ে প্রভাত ফেরির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাবুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কবি নজরুল একাডেমি, শিশু একাডেমি, মডেল একাডেমি এবং ড্যাফোডিল পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে।
ডিজিটাল যুগে চিঠির আবেদন
বর্তমান ডিজিটাল যুগে যখন মোবাইল ও অনলাইনের প্রভাবে চিঠি লেখার অভ্যাস প্রায় বিলুপ্ত, তখন শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম ও মায়ের প্রতি মমত্ববোধ যাচাইয়ের লক্ষ্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন বলেন:
"স্মার্টফোনের যুগে শিক্ষার্থীরা চিঠি লেখার মাধুর্য ভুলে যাচ্ছে। মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মায়ের কাছে অনুভূতির কথা প্রকাশের এই প্রতিযোগিতা তাদের সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেমকে শাণিত করবে।"
অশ্রুসিক্ত পরিবেশ ও পুরস্কার বিতরণ
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীর চিঠিটি পাঠ করে শোনান শিক্ষক মাসুদুর রহমান। চিঠির প্রতিটি ছত্রে মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও ভাষার প্রতি টান এমনভাবে ফুটে ওঠে যে, সেখানে এক হৃদয়বিদারক ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ভিডিও :অনুভূতির কথা: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী আয়োজন নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলছেন অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন। (পলাশ দে)
প্রতিযোগিতা শেষে সেরা শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শিক্ষক মাসুদুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে সকল অংশগ্রহণকারীকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়ে এই সৃজনশীল উদ্যোগকে উৎসাহিত করেন।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান। শিক্ষকবৃন্দ: হাবিবুর রহমান, মাহবুব হাসান, অজয় কুমার চন্দ, রাবেয়া আক্তার, রোজিনা আক্তার, মোবাশ্বেরা খানম, রোকসানা আক্তার, আকতার হোসেন প্রমুখ।
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: এবারের একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনে বাবুরহাটে কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দেখা যায়নি, যা ছিল একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








