রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৬

শহীদ জিয়া: একটি মানচিত্রের কণ্ঠস্বর ও একটি জাতির আত্মপরিচয়

মো. জাকির হোসেন
শহীদ জিয়া: একটি মানচিত্রের কণ্ঠস্বর ও একটি জাতির আত্মপরিচয়
ছবি :শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (সংগৃহীত)

শহীদ জিয়া: একটি মানচিত্রের কণ্ঠস্বর ও একটি জাতির আত্মপরিচয়

অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন

অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন

তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা বিএনপি

আগামী ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬; আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই মহাপ্রাণ। তাঁর জন্মলগ্নটি যেন ছিল এক পরাধীন জাতির ভাগ্যলিপি পরিবর্তনের সূচনা। আজ যখন আমরা তাঁর ৯০তম জন্মজয়ন্তী পালন করছি, তখন তাঁর কর্ম ও আদর্শ আমাদের কাছে কেবল স্মৃতি নয়, বরং এক অবিনাশী পথনির্দেশিকা।

রণাঙ্গন থেকে রাষ্ট্রনায়ক: ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ যখন পাকিস্তানি জান্তার বুলেট ও বেয়নেটে বাঙালির ভাগ্যাকাশ অন্ধকার, ঠিক তখনই চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার সেই সাহসী কণ্ঠস্বর— "I, Major Zia, do hereby declare the Independence of Bangladesh" —স্তব্ধ জাতিকে মুক্তির নেশায় উম্মাতাল করেছিল। যুদ্ধের ময়দানে বীরত্বের সাথে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি জয় করেছেন 'বীর উত্তম' খেতাব। কিন্তু তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ পরীক্ষাটি ছিল ১৯৭৫ পরবর্তী ভঙ্গুর রাষ্ট্রে শৃঙ্খল ফেরানো। একদলীয় শাসনের জঞ্জাল সরিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূর্যোদয় ঘটিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি কেবল একজন সেনাপতি নন, বরং একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: শহীদ জিয়াউর রহমানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও দার্শনিক অবদান হলো 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ'। তিনি বিশ্বাস করতেন, এদেশের ভূখণ্ড, ভাষা, ধর্ম এবং হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের এক অনন্য মিশেলই হলো আমাদের প্রকৃত পরিচয়। তাঁর এই দর্শন বিভক্ত জাতিকে একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড় করিয়েছিল। তিনি বিভাজনের রাজনীতির বদলে ঐক্যের রাজনীতি শুরু করেছিলেন, যা বাংলাদেশের মানুষকে বিশ্বের বুকে একটি স্বতন্ত্র জাতিগত সত্তা প্রদান করেছে।

উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি: শহীদ জিয়া ছিলেন এক নিরলস কর্মবীর। তিনি স্লোগান দিয়েছিলেন— "ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়।" তাঁর উন্নয়ন দর্শনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল সাধারণ মানুষ। পানির অভাব দূর করতে তিনি নিজে কোদাল হাতে নিয়ে 'খাল কাটা কর্মসূচি' শুরু করেন, যা কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য আনে। আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল খুঁটি— পোশাক শিল্প (গার্মেন্টস) এবং মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার (রেমিট্যান্স) —দুটোরই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল তাঁর শাসনামলে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন 'সার্ক' (SAARC) ছিল তাঁরই মস্তিস্কপ্রসূত।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার: শহীদ জিয়া বিশ্বাস করতেন, "সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ।" আজ যখন দেশ একটি ভাগ্যনির্ধারণী নির্বাচনের মুখোমুখি, তখন তাঁর সেই অমোঘ বাণী আমাদের জন্য সবচাইতে বড় প্রেরণা। তিনি বন্দুকের নলে নয়, বরং ব্যালট বাক্সের শক্তিতে বিশ্বাস করতেন। আজ দেশের মানুষের হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। শহীদ জিয়ার ১৯ দফা এবং আধুনিক রাষ্ট্র মেরামতে দেশনায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফার আলোকেই আমরা একটি বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে অঙ্গীকারবদ্ধ।

চাঁদপুর প্রেক্ষিত: চাঁদপুর জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি এ অঞ্চলের মানুষের প্রতি তাঁর মমত্ববোধকে। মেঘনার করাল গ্রাস থেকে চাঁদপুর শহর রক্ষা এবং চরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তাঁর নির্দেশিত পদক্ষেপগুলো আজও স্থানীয়দের মাঝে উজ্জ্বল। চাঁদপুর জেলা গঠন থেকে শুরু করে কৃষি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের যে ধারা তিনি শুরু করেছিলেন, তা আজও এ অঞ্চলের জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রধান অনুপ্রেরণা।

১৯৮১ সালের ৩০শে মে এক গভীর ষড়যন্ত্রে আমরা আমাদের প্রিয় নেতাকে হারিয়েছি, কিন্তু তাঁর আদর্শ মৃত্যুঞ্জয়ী। আজকের এই শুভলগ্নে আমাদের শপথ—দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ও দেশনায়ক তারেক রহমানের সুযোগ্য নির্দেশনায় আমরা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবই। শহীদ জিয়া অমর হোক। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ

গবেষণা বিশ্লেষণ: ১৯ দফা থেকে ৩১ দফা — রাষ্ট্র সংস্কারের ধারাবাহিকতা

শহীদ জিয়ার ১৯ দফা (ভিত্তি) তারেক রহমানের ৩১ দফা (আধুনিক রূপ)
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা।সংবিধান সংস্কার ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা।
বহুদলীয় গণতন্ত্র ও আইনের শাসন।সুশাসন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা।
দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন।দুদক শক্তিশালীকরণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার।
নারীর মর্যাদা ও যুবশক্তির উন্নয়ন।নারীর ক্ষমতায়ন ও আধুনিক কর্মসংস্থান।
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়