শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:১৬

রায়পুরে দু কোটি টাকার সরকারি জমি ব্যক্তির নামে রেকর্ড-বিক্রি ও বহুতল ভবন!

তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)।।
রায়পুরে দু কোটি টাকার সরকারি জমি ব্যক্তির নামে রেকর্ড-বিক্রি ও বহুতল ভবন!

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভায় ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন দু কোটি টাকার সরকারি পাউবোর সম্পদ স্থানীয় ৬ জন ব্যক্তির নামে রেকর্ড করে খতিয়ান করার পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা নিজেদের নামে লীজের জমি নেয়ার পাশাপাশি গোপনে তা বিক্রি করেছেন এবং বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ২০দিন ধরে অনুসন্ধান করে এবং সংশ্লিষ্টদের (বিক্রেতা ও ক্রেতা) সাথে কথা বলে এমন অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, রায়পুর পৌরসভার মহিলা কলেজ সংলগ্ন মধুপুর মৌজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৫ শতাংশ জমি লীজ নেন (এলএ নথি নাম্বার ৩০/১৯৬৫-৬৬ মূলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক রোয়েদাদের ক্রমিক নং ১-এর ২৬৬ দাগের অন্দরে অধিগ্রহণকৃত) একই এলাকার গোয়াল বাড়ির (অন্য এলাকা থেকে এসে বসতি স্থাপন চৌধুরী পরিবার) আলী আজম চৌধুরী ও আশ্বাদ মিয়া। আবার একই এলাকার ব্যবসায়ী হাফিজ উল্যাহ, মোহাম্মদ উল্যাহ ও আমিন উল্যাহের কাছে এই সরকারি জমি বিক্রি করেন। এই তিনজন আবার ওই জমি কয়েকজনের কাছে বিক্রি করে। সেখানে কয়েকজন প্রবাসী ও ব্যবসায়ী ক্রেতা বহুতল ভবন নির্মাণ করে মার্কেটও করেছেন এবং যা নিয়মিত খাজনা দিয়ে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি ওই জায়গার ক্রেতা হানিমুন টেইলার্সের মালিক বাচ্চু মিয়াসহ কয়েক ব্যাক্তি সেটেলমেন্ট ও ভূমি বিভাগের কিছু অসাাধু লোকের সহায়তায় সরকারি সম্পত্তি তার নিজ নামে খতিয়ান করে নেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দুর্নীতির সামিল। বাচ্চু মিয়াসহ কয়েকজন প্রভাবশালী শুধু তাদের ক্রয়কৃত লীজ দোকান নয়, পাউবোর জমি তাদের কয়েকজনের নামে রেকর্ড করে খতিয়ান তৈরি করেছেন।

সরকারি দফতরের এ বিষয়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়ে কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তাই বাধ্য হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের শরণাপন্ন হয়েছেন তারা। এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পাউবো কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হানিমুন টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ওই জায়গা তিনিসহ কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয় আলী আজম ও আরশাদ মিয়ার কাছ থেকে কিনেছেন। এখন সেখানে বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করেছেন। আলী আজম চৌধুরী ও আরশাদ মিয়াসহ ক'জন সরকার থেকে স্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়েছেন। এটা পাউবোর জায়গা নয়, মূলত এ জায়গা তাদের কেনা সম্পত্তি। আদালত করে এবং পত্রিকায় সংবাদ দিলেও কোনো লাভ হবে না।

রায়পুর সেটেলম্যান্ট অফিসের পেশকার হুমায়ুন কবির গাজি মোবাইল ফোনে জানান, রায়পুর পৌরসভার মধুপুর মৌজায় মহিলা কলেজের সামনে পাউবো ৪ নং খতিয়ান, হালদাগ- ৭৬৫- ৬৬/ ২২ শতাংশ জমি, শামসুল ইসলামের নামে-৩২ নম্বার খাস খতিয়ান-৬ ডিসিম, ৫৬৬ খতিয়ানে ১৫ ডিসিম, ৫৬৭ খতিয়ানে-৯ ডিসিম রেকর্ড করে। ১৯৮৮ থেকে রেকর্ড-শুরু হয়ে ৯৬-৯৭ সাল পর্যন্ত চলমান ছিলো জরিপ। ব্যক্তির নামে রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি জানি না। বলতে পারবেন রায়পুরের সাবেক সহকারী সেটেলম্যান্ট অফিসার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ্জামান খান বলেন,

রায়পুর পৌরসভার মহিলা কলেজ সংলগ্ন মধুপুর মৌজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৫ শতাংশ জমি লীজ নেন (এলএ নথি নাম্বার ৩০/১৯৬৫-৬৬ মূলে)। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক রোয়েদাদের ক্রমিক নং ১-এর ২৬৬ দাগের অন্দরে অধিগ্রহণকৃত জমির বিষয়ে ভূমি ও সেটেলম্যান্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। আরও কিছু বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়