প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:০০
নিজ গাছতলায় শত্রুতাবশত আলুক্ষেত নষ্ট করা হয়েছে

শত্রুতাবশত রোপণকৃত আলুক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ করেছেন এক কৃষক। সুলতান গাজী নামের এ কৃষক জানান, ইচলী চৌরাস্তার উত্তর পাশে, চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কের পশ্চিম পাশে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের চান্দ্রা মদনেরগাঁও এলাকার এক প্রবাসীর ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে তিনি আলু চাষ করেছেন। কিন্তু সোমবার রাতের কোনো এক সময় কে বা কারা আলুক্ষেতের পূর্ব পাশের একটি অংশের গাছ সম্পূর্ণ তুলে নিয়ে যায়।
|আরো খবর
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, ফরিদগঞ্জের চান্দ্রা এলাকার মদনেরগাঁও গ্রামের প্রবাসী মিরন খান ২০০৯ সালে ৯৯নং নিজ গাছতলা মৌজায় সিএস ৩১, এসএ ২০ ও ২২ নং খতিয়ান, বিএস ৩২৩ এবং ১২২নং খারিজি খতিয়ান থেকে সাফ কবালা দলিলমূলে ১৪ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছেন। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্নজনের কাছে বর্গা হিসেবে দিয়ে কৃষি চাষ করাচ্ছেন। ইতঃপূর্বে কখনো কোনো সমস্যা না হলেও হঠাৎ গত রাতে কে বা কারা তার সম্পত্তির পূর্ব অংশের জমির সব আলু নষ্ট করে ফেলে। এর ফলে গরীব চাষী সুলতান গাজীর অনেক ক্ষতি হয়েছে।
সুলতান গাজী জানান, এ জমিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। সোমবার সন্ধ্যায়ও তিনি জমি দেখে গেছেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে এসে দেখেন, তার চাষ করা উঠতি ফসলের আলুক্ষেতের একটি অংশ কে বা কারা নষ্ট করে ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, সোমবার চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুপুর এলাকার মো. রাসেল হোসেন মিজি নামের একজন দলবল নিয়ে এসে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে যান এবং এ সম্পত্তি তার বলে দাবি করেন।
সিএস, বিএস ও খারিজি সূত্রে যারা এই সম্পত্তি বিক্রি করেছেন, তাদের পক্ষের আহছান তালুকদার নামের একজন বলেন, এই সম্পত্তি সিএস, বিএস ও খারিজি সূত্রে তাদের ছিলো এবং তারা ২০০৯ সালে সাফ কবালা দলিলমূলে মিরন খানের কাছে বিক্রি করেছেন। মিরন খান সেই সময় থেকে অদ্যাবধি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুপুর এলাকার রাসেল হোসেন নামের একজন এই সম্পত্তি তার বলে দাবি করছেন, যা একেবারেই মগের মুল্লুকের মতো বলে তিনি জানান।
নিজ গাছতলা এলাকার কয়েকজন জানান, তারা যতটুকু জানেন এই সম্পত্তি মিরন খানের। ২০০৯ সাল থেকে তিনিই এ সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু শহরের বিষ্ণুপুর এলাকার রাসেল নামের একজন হঠাৎ করে এ সম্পত্তির দাবি করছেন, যা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।
বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী মিরন খান বলেন, আমরা রেমিটেন্স যোদ্ধা। বিদেশে থেকে অনেক কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে একটু সুখের আশায় ২০০৯ সালে এই সম্পত্তি ক্রয় করেছি। সেই থেকে অদ্যাবধি এ সম্পত্তি আমার ভোগদখলে রয়েছে। প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের চাষাবাদ করে আমি এই সম্পত্তি ভোগ করে আসছি। এ সম্পত্তি বর্তমানে আমার নামে খারিজকৃত। কিন্তু চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুপুর এলাকার এবং আমার পাশের সম্পত্তির মালিক রাসেল হোসেন মিয়াজী নামের একজন হঠাৎ করে আমার জমির পাশের নতুন দেয়াল নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন। তিনি চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে নোটিস দিয়ে আমার সম্পত্তিতে কাজ না করতে নিষেধ করেন। এরপর রাতের আঁধারে কে বা কারা আমার বর্গাচাষির উঠতি ফসল আলুক্ষেত নষ্ট করে ফেলে, যা রহস্যের জন্ম দেয়। আমার বিশ্বাস, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে সঠিক ব্যবস্থা নেবেন।








