প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৩
চাঁদপুর শহরের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক জাগরণে গুয়াখোলা ক্রীড়া চক্র
ব্যাডমিন্টনে সেরা ক্লাবটির ক্রিকেট ও ফুটবলেও রয়েছে সাফল্য

আবাসিক এলাকার এক ক্লাবে এক স্বপ্ন—প্রতিভার সন্ধানে যুব সমাজের নতুন দিশা এবং চাঁদপুর শহরের শিক্ষা, প্রগতি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জাগরণ গুয়াখোলা ক্রীড়া চক্র। খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে যুবসমাজকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে ও সুস্থ বিনোদন দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ সংগঠনটি। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্রীড়া সংগঠনটি শুরু থেকেই সক্রিয়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছে এবং ক্রমেই ক্রীড়াঙ্গনে অন্যতম প্রভাবশালী ক্লাব হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ক্লাবটি বিভিন্ন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকার যুব সমাজের মাঝে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সুস্থ বিনোদনের সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।
‘মাদক-কিশোর গ্যাংয়ে নয়, খেলাধুলায় মিলবে জয়’—এমন স্লোগানকে ধারণ করে চলতি ২০২৬-এর শুরুতে মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং এর সফল সমাপ্তি করে ক্লাবটি। অন্যদিকে, চাঁদপুর ক্লাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ ট্রফি জয় করে আবারো স্থানীয় জনগণের মাঝে গুয়াখোলা ক্রীড়া চক্র একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। এই স্লোগান যুবকদের মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার মাধ্যমে জীবনের লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটি স্বাধীনতার পর থেকে এ যাবৎ ব্যাডমিন্টনে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি জেলায় ক্রীড়া সংস্থার লিগ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে ক্রিকেট ও ফুটবলেও চ্যাম্পিয়ন/ রানারআপ হওয়ার সাফল্য রয়েছে ক্লাবটির। এই ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুয়াখোলা আবাসিক এলাকার কৃতী সন্তান মাহবুবুর রহমান শাহীন আজকে জাতীয় পর্যায়ে একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক হতে পেরেছেন। তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপ-মহাসচিব এবং বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা ওয়ান্ডার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।
ব্যাডমিন্টন খেলায় গুয়াখোলা ক্রীড়া চক্রের যতো সাফল্য রয়েছে, স্বাধীনতার আগে এবং পরে সেটি অন্য কোনো ক্লাবের নেই। সেজন্যে স্থানীয় পাড়ার ক্লাবটি জেলা ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর কারণ ক্লাবটির বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড অনেক পরিচিতি লাভ করেছে।
চাঁদপুর জেলা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত শহরের একটি জনপ্রিয় ক্লাব গুয়াখোলা ক্রীড়া চক্র, যা ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধুলার মাধ্যমে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে সক্রিয় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে ।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে বহু বছর যাবৎ ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন লিগ, টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার খেলায় অংশ নেয় এ ক্লাবটি। গুয়াখোলা আবাসিক এলাকার নামকরণে এক সময়ে পাড়ার সিনিয়ররা এই ক্লাবটি গড়ে তোলেন।এ ক্লাবের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নিজস্ব মাঠ এবং ক্লাবের খরিদ করা জায়গা রয়েছে। যা অন্য কোনো ক্লাবের নেই।
২০০৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নতুন রূপে নিজস্ব জায়গায় গুয়াখোলা ক্রীড়া চক্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থান করেন ক্লাব সভাপতি মাহবুবুর রহমান শাহীন। মূলত তিনি এই ক্লাবের প্রধান। তাঁর নেতৃত্বে ক্লাবের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে অদ্যাবধি চলে আসছে। ক্লাবটি প্রথম থেকে খেলাধুলার আয়োজনের ব্যাপারে বেশ তৎপর ছিলো। ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, ক্রিকেটের বাইরে অ্যাথলেটিক্স, দাবা, বাস্কেটবল, টেবিল টেনিস, সাঁতার, হ্যান্ডবল, কাবাডি ইত্যাদিরও চর্চা হয়।
গুয়াখোলার স্থায়ী বাসিন্দাদের পরিবারের সন্তান কিশোর-তরুণ- যুবকরা ক্লাবটির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পর্যায়ক্রমে চলমান রেখেছে। সবচেয়ে বড়ো কথা, নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক ছিলেন এ পাড়ার সিনিয়ররা। গুয়াখোলার স্থায়ী বাসিন্দা, যারা ভালো অবস্থানে আছেন দেশে এবং বিদেশে, তারা ক্লাব কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছেন।
এমএ বারী খান, হারুনুর রশিদ সিদ্দিকী, শফিকুর রহমান কিরণ, মিজানুর রহমান সিদ্দিকী, বিএম ওমর ফারুক, রফিকুল ইসলাম দুলাল, শামসুদ্দিন শামু মোল্লা, নিতাই, দিলীপ পাল, বাবলু, নান্নু, হানিফ গাজী, মাহবুবুর রহমান শাহীন, মো.শবেবরাত সরকার, নাসির চোকদার, হোসেন গাজী, ফয়সাল গাজী বাহার, কাজী মো. শাহজালাল টিংকু, শাহেদুল হক মোরশেদ, সালেহ নেওয়াজ মিঠু, জনি, অজিত কুমার কর্মকার, শাহানুর বেপারী শানু, কার্তিক, খোকাসহ আরো অনেকে গুয়াখোলা ক্রীড়া চক্রকে আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসতে নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকের ভূমিকা রেখেছেন এবং এখনও রাখছেন বলে জানা যায়। এর মধ্যে হারুনুর রশিদ সিদ্দিকী এই ক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং মরহুম হানিফ গাজী সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মরহুম এমএ বারী খান (বারেক হাজী) ছিলেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গুয়াখোলা ক্রীড়া চক্রের প্রধান উপদেষ্টা। বর্তমানে মাহবুবুর রহমান শাহীন সভাপতি ও মো. শবে বরাত সরকার সাধারণ সম্পাদক।
শিক্ষার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়াসহ নানা কর্মকাণ্ডে পরিপূর্ণ গুয়াখোলা ক্রীড়াচক্র তাদের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে বদ্ধপরিকর। ক্লাবের
সাধারণ সম্পাদক শবেবরাত সরকার জানান, আমাদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেমে নেই। ক্রিকেট, ফুটবল ও ব্যাডমিন্টনে আমাদের অংশগ্রহণ রয়েছে। ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমাদের সিনিয়র ভাইয়েরা ছিলেন। তখন আমাদের মাঠ ছিলো না। একটা পর্যায়ে মাহবুর রহমান শাহীন, হানিফ গাজী ও আমরা সহ বর্তমানে ক্লাবের যে জায়গাটা আছে সেটি খরিদ করি।
ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মো. শাহজালাল টিংকু জানান, আমরা ক্লাবটির কর্মকাণ্ডকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। জেলা ক্রিকেট শুরু হলে আমাদের অংশগ্রহণ থাকবে। শহরবাসী গুয়াখোলা ক্রীড়া চক্রের নাম খুব ভালোভাবে জানে। এলাকায় যারা স্থায়ী বাসিন্দা তারা প্রত্যেকে ক্লাবের সম্মানিত সদস্য। ক্লাবের বর্তমান যে মাঠ এবং জায়গা এটা কেনার ক্ষেত্রে বড়ো অবদান হচ্ছে মাহবুর রহমান শাহীনের। আমরা আমাদের বড়ো ভাইদের কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে সামনে এগিয়ে গিয়েছি। হানিফ গাজী আমাদের ক্লাবের সেক্রেটারী ছিলেন। হারুনুর রশিদ সিদ্দিকী সভাপতি ছিলেন। গুয়াখোলা ক্রীড়া চক্রের প্রথম প্রায়োরিটি হচ্ছে শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি। ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টনে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ হওয়ার সাফল্য রয়েছে আমাদের ক্লাবের। ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় গুয়াখোলা ক্রীড়া চক্রের বেশ ঐতিহ্য রয়েছে। কার্তিক ও খোকা এরা ছিলো আমাদের ব্র্যান্ড প্লেয়ার। শুধু চাঁদপুরের শ্রেষ্ঠত্ব নয়, বিভিন্ন জায়গায় গুয়াখোলা ক্রীড়া চক্রের ব্যাডমিন্টনের সুনাম রয়েছে।
টিংকু বলেন, একটা সময় ধারাবাহিকভাবে পয়লা বৈশাখ, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসসহ সকল জাতীয় দিবস উদযাপনে আমাদের আলাদা কর্মসূচি থাকতো। পহেলা বৈশাখে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে উৎসব করতাম। আমাদের মাঠে বৈশাখী মেলাও হতো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো ও বাচ্চাদের ক্রীড়া অনুষ্ঠান হতো। পুরস্কার বিতরণ করতাম। ক’দিন আগে মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট করেছি। আমাদের ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি রয়েছে।








