মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০২

বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির

শীতকালীন-গ্রীষ্মকালীন খেলাধুলা ও বাস্তবতা পর্যালোচনা

সুনির্মল দেউরী
শীতকালীন-গ্রীষ্মকালীন খেলাধুলা ও বাস্তবতা পর্যালোচনা

খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব উপলব্ধি করার জন্যে সব চেয়ে বহুল ব্যবহৃত শ্লোগান হলো ‘ক্রীড়াই শক্তি ক্রীড়াই বল, মাদক ছেড়ে মাঠে চল’। এই শ্লোগানটি সকল ধরনের ক্রীড়া ও সকল স্তরের অংশগ্রহণকারীদের জন্যে প্রযোজ্য হলেও শিক্ষার্থীদের জন্যে খেলাধুলার রয়েছে বহুমাত্রিক গুরুত্ব। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী আসা-যাওয়া ও শ্রেণি কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধু একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠে না, বরং সেখানে বিকশিত হয় তার শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক ও চারিত্রিক গুণাবলি। আর এ গুণাবলি অর্জনে কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে খেলাধুলা। সুস্থ সবল দেহ ও প্রশান্ত মন নিয়ে শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন চালিয়ে নিতে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক খেলাধুলা শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যে তাৎপর্যময়। নিয়মিত খেলাধুলায় শিক্ষার্থীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে শিক্ষার্থী কম অসুস্থ হয়। এতে করে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার হ্রাস পায় এবং পড়ালেখায় নিয়মিত থাকে; পেশীর পাশাপাশি ব্রেইন সবল হয়। খেলাধুলার মাধ্যমে অনেক সময় শিক্ষার্থী পড়ালেখার চাপ ও পরীক্ষাভীতি দূর করতে পারে। বিশেষ কিছু খেলা শিক্ষার্থীর স্মরণশক্তি ও মনঃসংযোগ বৃদ্ধি করে। খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলা, ধৈর্য, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সময়ানুবর্তিতার শিক্ষা লাভ করে, সহনশীল মনোভাব সৃষ্টি হয়। তার মধ্যে সহযোগিতা প্রদান ও নেতৃত্ব দানের স্পৃহা তৈরি হয়। সকল প্রকার মাদক থেকে দূরে থাকে এবং উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। একজন শিক্ষার্থীর জন্য খেলাধুলার এমন আবশ্যিক প্রয়োজনীয়তার কথা উপলব্ধি করে বাংলাদেশে প্রচলিত তিন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা যথা সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার যৌথ উদ্যোগে গঠিত বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি প্রতি শিক্ষাবর্ষে দু বার খেলাধুলার আয়োজন করে থাকে। একটি হলো শীতকালীন খেলাধুলা ও অন্যটি গ্রীষ্মকালীন খেলাধুলা। নীতিমালা অনুসারে বালক ও বালিকাদের আলাদাভাবে বড়ো, মধ্যম ও ছোট এই তিনটি গ্রুপে বিভক্ত করে খেলাধুলা পরিচালিত হয়। গ্রুপ নির্ধারণ করা হয় দুটি শর্তে, প্রথমত বয়স ও দ্বিতীয়ত উচ্চতা। বড়ো গ্রুপ অনূর্ধ্ব ১৭ বছর এবং মধ্যম ও ছোট গ্রুপ অনূর্ধ্ব ১৪ বছর। যেসব বালক শিক্ষার্থীর উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চির বেশি তারা বড়ো গ্রুপ, যাদের উচ্চতা ৫ ফুট থেকে শুরু করে ৫ ফুট ৩ইঞ্চির মধ্যে তারা মধ্যম গ্রুপ আর ৫ ফুটের কম উচ্চতাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ছোট গ্রুপের বলে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে যেসব বালিকা শিক্ষার্থীর উচ্চতা ৫ ফুটের বেশি তারা বড়ো গ্রুপ এবং ৫ ফুটের কম উচ্চতাসম্পন্ন শিক্ষার্থী মধ্যম গ্রুপের বলে বিবেচিত হয়। শীতকালীন খেলাধুলায় (০১) অ্যাথলেটিক্স অংশে থাকে (ক) দৌড় (বিভিন্ন ধরণ ও রেঞ্জে) (খ) বর্শা নিক্ষেপ (গ) দীর্ঘ লম্ফ (ঘ) উচ্চ লম্ফ (ঙ) ত্রি-লম্ফ (চ) চাকতি নিক্ষেপ (ছ) গোলক নিক্ষেপ (জ) দণ্ডযোগে উচ্চ লম্ফ (পোল ভল্ট) (ঝ) দড়ি লাফ (ঞ) যোগাযোগ দৌড়। অন্যান্য খেলার মধ্যে রয়েছে ২) হকি ৩) ক্রিকেট ৪) বাস্কেটবল ৫) ভলিবল ৬) ব্যাডমিন্টন ৭) টেবিল টেনিস ও ৮) সাইক্লিং।

অন্যদিকে গ্রীষ্মকালীন খেলাধুলায় থাকে (০১) সাঁতার (বিভিন্ন ধরণ ও রেঞ্জে) এবং অন্যান্য খেলাগুলো হলো (২) ফুটবল (৩) হ্যান্ডবল (৪) কাবাডি ও (৫) দাবা।

অ্যাথলেটিক্স ও সাঁতার সাধারণত ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতা আর অন্য খেলাগুলো সাধারণত দলীয়। প্রতিটি খেলাধুলায় প্রতিষ্ঠান (স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি) পর্যায়ে সেরা সাফল্য অর্জনকারী ব্যক্তি বা দল উপজেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে। উপজেলার সেরা ব্যক্তি বা দল জেলা পর্যায়ে, একইভাবে উপ-অঞ্চল পর্যায়ে ও অঞ্চল পর্যায়ের প্রতিযোগিতা এবং সর্বশেষ অঞ্চলের সেরা ব্যক্তি বা দল জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের সেরা শিক্ষার্থী/দল পরবর্তী প্রতিটি পর্যায়ে অংশগ্রহণের জন্যে নীতিমালায় বর্ণিত শ্রেণিভিত্তিক বিভিন্ন ডকুমেন্টস সরবরাহ করতে হয়।

শীতকালীন-গ্রীষ্মকালীন উভয় খেলার সময়সূচি নির্ধারণ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ থেকে পত্র জারি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি. তারিখে মাউশি অধিদপ্তরের ৫৬২৫নং স্মারকের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয় ৫৪তম জাতীয় শীতকালীন খেলাধুলার সময়সূচি। সেই সূচি অনুসরণ করে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান পর্যায় (০২-০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি.), উপজেলা পর্যায় (০৪-০৯ জানুয়ারি) ও জেলা পর্যায় (১১-১৪জানুয়ারি) প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসের ১৭-১৯ জানুয়ারি এ ৩দিনের মধ্যে উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হওয়ার পরে ২১-২৩ জানুয়ারি এ ৩দিনের মধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হবে এবং ২৫-৩০ জানুয়ারি এই ৬ দিনের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হবে। এবারের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুর-এর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হবে। মূলত প্রতি বছর এক একটি শিক্ষা বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীর খেলাধুলার জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আয়োজনের একটি ঐতিহ্য অনুসরণ করা হয়।

প্রতিটি পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আয়োজন ও সম্পন্নকরণে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন কমিটির সভাপতি হলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সদস্য সচিব হলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। এ কমিটি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে অবহিতকরণ সভা, ক্রীড়া শিক্ষকদের সাথে সভা করে। শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্যে উদ্বুদ্ধ করে। জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন কমিটির সভাপতি হলেন জেলা প্রশাসক এবং সদস্য সচিব হলেন জেলা শিক্ষা অফিসার। এ কমিটি বিভিন্ন অংশীজনদের সাথে সভা করে। মাউশি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হাজীগঞ্জসহ চাঁদপুর জেলার আটটি উপজেলা প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করে ফলাফল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাঁদপুর জেলা কমিটির নিকট প্রেরণ করে। চাঁদপুর জেলা কমিটির ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে ১৩-১৪ জানুয়ারি ২০২৬ চাঁদপুর জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় অ্যাথলেটিক্স, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ইত্যাদিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রতিযোগী পাওয়া গেলেও টেবিল টেনিস, বাস্কেটবল ও সাইক্লিং ইভেন্টে প্রতিযোগী একদম কম। আর হকি ইভেন্টে কোনো প্রতিযোগী পাওয়া যায় নি। মূলত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিযোগীর তালিকা না আসায় উপজেলা/জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগী কম হয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের কাছ থেকে জানা যায়, নতুন বছরের শুরুতেই অর্থাৎ ০২-০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করতে হওয়ায় যথাযথ প্রচার-প্রচারণা সত্ত্বেও তারা আগ্রহী ও পারদর্শী শিক্ষার্থী বাছাই করতে হিমশিম খেয়েছেন। কেননা বেশিরভাগ শিক্ষার্থী তাদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে ছুটি ভোগ করছিলো। শিক্ষা বিভাগের মাঠ পর্যায়ের একজন কর্মী হিসেবে আমি নির্দিষ্ট করে বলতে পারি, ৫৪তম জাতীয় শীতকালীন খেলাধুলা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা পরিবার, হাজীগঞ্জ চেষ্টার ত্রুটি করে নি। প্রয়োজনীয় সভাকরণ, প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ, ফেসবুক পেইজ, মোবাইল কল ইত্যাদি মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের জানানোর ব্যবস্থা নেয়। তবে হাজীগঞ্জ উপজেলার সংশ্লিষ্ট কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হকি, টেবিল টেনিস, বাস্কেটবল খেলার মতো কোনো উপকরণ নেই। সাইক্লিংও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় নি।

শিক্ষা-সাহিত্য-ক্রীড়ায় যথেষ্ট অগ্রগামী হাজীগঞ্জ উপজেলার এই অভিজ্ঞতার আলোকে অন্যান্য উপজেলার সাধারণ প্রতিষ্ঠানগুলোর চিত্র অনুমান করতে কষ্ট হয় না। আরো স্পষ্ট করে বললে চাঁদপুর সদর উপজেলা ছাড়া অন্য কোনো উপজেলার কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টেবিল টেনিস ও বাস্কেটবল খেলার উপকরণ ও সুযোগ-সুবিধা নেই। আর হকি তো পুরো জেলার কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচলন নেই। এই অবস্থায় এরূপ শীতকালীন খেলাধুলাকে সার্থক করতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগী হতে হবে। যেমন হতে পারে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে খেলাধুলার উপকরণাদি ক্রয়, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন/অ্যালামনাই থেকে সংগ্রহ, এলাকার দানশীল ব্যক্তিবর্গের সহায়তা গ্রহণ, বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ যথা উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদে আবেদন করা ইত্যাদি। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাবভিত্তিক খেলাধুলার প্রচলন করা উচিত, যে বিষয়ে বিস্তারিত গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত নিবন্ধে উল্লেখ করেছি। সরকার কর্তৃপক্ষেরও উল্লেখিত রূপ খেলাধুলার সরঞ্জামাদি বিনামূল্যে আগ্রহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে বিতরণ করে উৎসাহিত করা সমীচীন। দেশের সিংহভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেসব খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা নেই, সে বিষয়গুলো নিয়ে জাতীয় প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন সত্যিই কষ্টসাধ্য ব্যপার। এই বাস্তবতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেভাবেই হোক না কেন বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির নির্ধারিত সকল ধরণের খেলাধুলার সাথে অধিক সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের যুক্ত করতে না পারলে এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন ব্যাহত হবে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো জাতি, কেননা শিক্ষার্থীদের জন্যে এই খেলাধুলার অপরিহার্যতা স্বীকার করে নিয়েই প্রবর্তন করা হয়েছে বর্ণিত শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন খেলাধুলা। ৫৪তম জাতীয় শীতকালীন খেলাধুলায় চাঁদপুর জেলার প্রতিনিধি হিসেবে পরবর্তী প্রতিটি পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি রইলো অফুরন্ত শুভ কামনা।

সুনির্মল দেউরী : উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়