মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৪

শাহরাস্তির মতো এমনটি সর্বত্র করা দরকার

অনলাইন ডেস্ক
শাহরাস্তির মতো এমনটি সর্বত্র করা দরকার

শাহরাস্তিতে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের অতিরিক্ত অর্থ অভিভাবকদের হাতে তুলে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজিয়া হোসেন। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সংবাদ প্রকাশিত হয়। সুয়াপাড়া জিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে কোচিং ফি, কল্যাণ তহবিল, পরিচয়পত্র ও বিবিধ খাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়। সংবাদটি দেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিদ্যালয় পরিদর্শন করে অতিরিক্ত অর্থ অভিভাবকদের হাতে ফেরত দেন। এ ছাড়াও এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা উপজেলার বিদ্যালয়গুলোকে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিতে নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন জানান, কোনো মতেই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। আমি অভিভাবকদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিয়েছি। তবে এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকসহ যারা জড়িত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের দেশে এসএসসি, দাখিলের মতো পাবলিক পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় আসলেই কিছু স্কুল/মাদ্রাসার প্রধান ও শিক্ষকসহ ম্যানেজিং কমিটির লোকজন আনন্দ আমেজ উপভোগ করেন। তাদের হীন উদ্দেশ্য থাকে শিক্ষার্থী-শোষণ। তারা বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে নিজেদের ইচ্ছেমত অতিরিক্ত ফি যোগ করেন, যাতে কম সামর্থ্যের অভিভাবকরা হিমশিম খান। সংগত কারণেই ক্ষোভ জন্ম নেয়। ক্ষোভ কম হলে পরিস্থিতি স্বল্প আয়াসে সামাল দেয়া যায়। আর বেশি হলে সেটা গণমাধ্যমে খবরের উপজীব্য হয়ে যায়। যেমনটি হয়েছে শাহরাস্তির সুয়াপাড়া জিকে উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে। এখানকার ইউএনও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে স্কুলটিতে যান এবং এসএসসি পরীক্ষার ফি’র নামে পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায়কৃত অতিরিক্ত অর্থ তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেন। যেটা পুরো জেলায়, এমনকি সারাদেশে বিরল ঘটনাই বলা চলে। স্থানীয় প্রশাসনের এলআর ফান্ডে অর্থ দিয়ে কিংবা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাকে উপঢৌকন দিয়ে অনেক বড়ো অনিয়ম বা অপরাধ করেও যেখানে পার পাওয়া যায়, বস্তুত যেটা অনেক স্থানেই বাস্তব, সেখানে শাহরাস্তির ইউএনও’র আপসহীন দৃঢ়তায় থমকে দাঁড়াতেই হয় বিবেকবান শ্রোতা-দর্শক-পাঠককে। শাহরাস্তির মতো এমনটাই অতিরিক্ত ফি-লোভী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হওয়া দরকার।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়