মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০২

“বাঙালির ঐতিহ্যকে আমরা লালন ও পালন করব”

---------- অধ্যক্ষ মোঃ মোশাররফ হোসেন

আব্দুল্লাহ আল মামুন
“বাঙালির ঐতিহ্যকে আমরা লালন ও পালন করব”

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনাবর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। পহেলা বৈশাখের সকালে সূর্যোদয়ের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো কলেজ ক্যাম্পাস।

সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এই আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে সাজানো ক্যাম্পাসে ছিল বাঙালিয়ানার ছোঁয়া—রঙতুলির আঁচড়ে ফুটে ওঠে বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, “বাঙালি হিসেবে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিঐতিহ্যকে লালন ও পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের একটি বড় ভুল হলো—আমরা অনেক সময় ধর্ম ও সংস্কৃতিকে গুলিয়ে ফেলি, যা মোটেও কাম্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ যেমন—ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, তুরস্ক, সিরিয়া ও ইরাক তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি অটুট রেখেই উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদেরও উচিত ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখে নিজস্ব সংস্কৃতিকে সম্মান ও চর্চা করা। তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য অনুধাবন করে উভয়কেই যথাযথ মর্যাদায় ধারণ করেন। বক্তব্যের শেষে তিনি আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

IMG 20260414 WA0209

সাংস্কৃতিক পর্বে চাঁদপুর থেকে আগত ‘আনন্দধ্বনি সংগীত শিক্ষালয়’-এর শিল্পীরা জাতীয় সংগীত, বৈশাখী গান, দেশাত্মবোধক ও লোকগান পরিবেশন করেন। তাদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন। এছাড়া স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনা নববর্ষের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গ্রামীণ ঐতিহ্যের বৈশাখী আপ্যায়ন। কলেজের পক্ষ থেকে আগত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের চিড়া, দই, মুড়ি, খই, জিলাপি ও তরমুজ দিয়ে আপ্যায়িত করা হয়।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এই অনুষ্ঠানটি বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়