প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪৩
বাঙালির ঐতিহ্যকে আমরা লালন করবো এবং পালন করবো
—অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে। পহেলা বৈশাখের সকালে, সূর্যোদয়ের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো কলেজ ক্যাম্পাস। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে অংশ নিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হন। উৎসবমুখর পরিবেশে সাজানো ক্যাম্পাসে ছিলো বাঙালিয়ানার ছোঁয়া—রংতুলির আঁচড়ে ফুটে ওঠে বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য।
|আরো খবর
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন,
“বাঙালি হিসেবে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন ও পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের একটি বড়ো ভুল হলো—আমরা অনেক সময় ধর্ম ও সংস্কৃতিকে একসাথে গুলিয়ে ফেলি, যা মোটেও কাম্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ—ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, তুরস্ক, সিরিয়া ও ইরাক—তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি অটুট রেখে উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদেরও উচিত ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখে নিজস্ব সংস্কৃতিকে সম্মান ও চর্চা করা।
অধ্যক্ষ তাঁর বক্তব্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য অনুধাবন করে এবং উভয়কেই যথাযথ মর্যাদায় ধারণ করে। শেষে তিনি আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে চাঁদপুর থেকে আগত আনন্দধ্বনি সংগীত শিক্ষায়তনের শিল্পীরা পরিবেশন করেন জাতীয় সংগীত, বৈশাখী গান, দেশাত্মবোধক সংগীত, লোকগান ও জনপ্রিয় বাংলা গান। তাদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে ওঠে। এছাড়াও স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে নববর্ষের আনন্দকে বহু গুণে বাড়িয়ে তোলে। মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ও অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের এক বিশেষ আকর্ষণ ছিলো গ্রামীণ ঐতিহ্যের খাবার পরিবেশন। কলেজের পক্ষ থেকে আগত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের জন্যে চিড়া, দই, মুড়ি, খই, জিলাপি ও তরমুজসহ বৈশাখী আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়, যা সকলের মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এ অনুষ্ঠান বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে।








