রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩২

জেলার ৫৮১ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর ও কল্যাণ সুবিধা প্রাপ্তি

আব্দুল্লাহ আল মামুন
জেলার ৫৮১ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর ও কল্যাণ সুবিধা প্রাপ্তি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পেতে শুরু করেছেন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

সরকার দীর্ঘদিনের বকেয়া অবসর ও কল্যাণ সুবিধা পরিশোধের জন্য এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। দেশের ৬৪ জেলার সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসেবে এ অর্থ পাঠানো হচ্ছে।

চাঁদপুরের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন চাঁদপুর-৩ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ জেলার বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৯ মিনিটের বক্তব্যে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এ প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়ে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার এক লাখেরও বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ২০২২ সালের পর থেকে, অর্থাৎ প্রায় চার বছর পর, তাদের দুটি ফান্ডের টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ইতোমধ্যে অনেকে সেই টাকা পেয়েছেন।”

তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য দুটি তহবিল রয়েছে। এর একটি বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অন্যটি অবসর সুবিধা বোর্ড। দীর্ঘদিন ধরে এসব তহবিলের অর্থ পেতে শিক্ষক-কর্মচারীদের নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

শিক্ষকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষকতা হলো একমাত্র পেশা, যা অন্য সব পেশা সৃষ্টি করে। আপনারা এখনো সমাজের শিক্ষক। আপনাদের সমাজের মানুষ শ্রদ্ধা করে এবং আপনাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়।”

প্রধানমন্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁর উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড গঠিত হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ দুটি তহবিলের ভিত্তি গঠনে সরকারি অর্থ বরাদ্দের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অবসর সুবিধার অর্থ পেতে শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোগান্তির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষ দেওয়ার অলিখিত নিয়ম পালন করতেও তাদের বাধ্য হতে হয়েছে। শিক্ষক সমাজ, যারা নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে বড় করেন, তাদের ঘুষ দিতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরতে হয়—এটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য খুব লজ্জার।”

তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর কোনো ভোগান্তির শিকার হতে না হয়। অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি যার যার প্রাপ্য অর্থ তার ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “যতদিন এই নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, ততদিন আপনাদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী কিংবা কাউকে ধরতে হবে না। অনলাইনের মাধ্যমে আপনাদের প্রাপ্য আপনাদের কাছে পৌঁছে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, অবসর ও কল্যাণ তহবিলের অর্থের সংকটের কারণে সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য সুবিধা বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ধন্যবাদ জানান এবং তাদের কাছে সরকারের জন্য দোয়া কামনা করেন。

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে চাঁদপুর-৩ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, “চাঁদপুর ও হাইমচর এলাকার শিক্ষকরা শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আপনাদের সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ আমাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।” অন্যান্য উপজেলা থেকে আগত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য অর্থ প্রদান একটি মহতী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ

চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমুন নাহার, জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক আজিজুল হক, লিটন কান্তি দাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা。

এছাড়া চাঁদপুরের আট উপজেলা থেকে আগত ৮০ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিভিন্ন জেলার শিক্ষকরা তাদের মতামত তুলে ধরে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন。

এদিন চাঁদপুর জেলার মোট ৫৮১ জন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রাপ্তির আওতায় আসেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার খবরে তাদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে আনন্দ ও স্বস্তির ছাপ। অনেক শিক্ষক-কর্মচারী সরকারের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান。

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়