প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২০
বিশ্ব পর্যটন ও নদী দিবসে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
‘ভাটির স্রোতে নদীর গান’

নদীমাতৃক বাংলাদেশের জীবন, সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক চিরন্তন ও অবিচ্ছেদ্য। নদীর স্রোত, নৌকার মাঝি, ভাটির টান আর নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা যুগ যুগ ধরে সমৃদ্ধ করেছে বাংলা গান, কবিতা ও নৃত্যের ভুবন। সেই নদীকেন্দ্রিক জীবন ও সংস্কৃতিকে শিল্পের তুলিতে ফুটিয়ে তুলতে চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘ভাটির স্রোতে নদীর গান’।
বিশ্ব পর্যটন দিবস ও বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রোববার) সন্ধ্যায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির বাস্তবায়নে এ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। নদী, নৌকা, মাঝি এবং ভাটির জনজীবনের নানা অনুষঙ্গ নিয়ে সাজানো পরিবেশনায় শিল্পীরা গান, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন নদীমাতৃক বাংলার চিরচেনা রূপ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘কলকল ছলছল নদী বহে’ গানের সাথে চমৎকার সম্মেলক নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় নদী ও ভাটির জীবনঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান। ‘আমার গহীন গাঙ্গের নাইয়া’ গানটি পরিবেশন করেন সানজিদা এবং ‘উজান গাঙ্গের নাইয়া’ গানে কণ্ঠ দেন শিহাব। সুভদ্রার কণ্ঠে ‘আর কতকাল ভাসবো আমি’ গানটি মিলনায়তনে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে।
সংগীতের পাশাপাশি আবৃত্তি ও একক পরিবেশনায় নদী ও মানুষের সম্পর্কের রূপটি ফুটিয়ে তোলা হয়। মেধা আবৃত্তি করেন ‘সর্বনাশা পদ্মা নদী’ এবং সংখ্যা পরিবেশন করেন ‘মেঘনার বুকে ঘর বান্ধিলাম’। অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে ‘নাইয়া রে, নায়ের বাদাম তুইলা’ গানটির পরিবেশনা, যা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের দারুণভাবে উদ্বেলিত করে।
পরবর্তী পর্বে প্রত্যাশা পরিবেশন করেন ‘কে যাস রে ভাটির গান গাইয়া’। এরপর ‘আমায় ডুবাইলি রে, আমায় ভাসাইলি রে’ জনপ্রিয় গানটির সাথে পরিবেশিত হয় দৃষ্টিনন্দন সম্মেলক নৃত্য। এছাড়া মমতাজ পরিবেশন করেন ‘সে পাড়ে তোর বসতবাড়ি’ এবং রিয়া বিশ্বাস গান করেন ‘যমুনার জল দেখতে কালো’। সবশেষে ‘কই যাও রে পদ্মার ঢেউ’ সম্মেলক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নদীর প্রতি মানুষের চিরন্তন টান ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন চাঁদপুর জেলা গণগন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান উম্মে রায়হানা ফেরদাউস। সকল পরিবেশনাশেষে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমান। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, কলাকুশলী ও বিপুলসংখ্যক সংস্কৃতিপ্রেমী উপস্থিত ছিলেন।







