প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১৪
গ্রাম আদালতকে মানুষের আস্থার জায়গা হিসেবে তৈরি করতে হবে
—চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান

চাঁদপুর জেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রচার-প্রচারণা জোরদারের লক্ষ্যে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
|আরো খবর
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বুধবার) দুপুর ১২টায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক দেবাশীষ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, “গ্রাম আদালতকে মানুষের আস্থার জায়গা হিসেবে তৈরি করতে হবে।” গ্রাম আদালতে সাধারণত মানুষ ছোটখাটো ঝগড়া-বিবাদ, বিরোধ ও মারামারির মতো ঘটনার প্রতিকার পেতে আসে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির একটি সামাজিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে গ্রাম আদালতের আইনগত ভিত্তি ও নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে এবং এর বিচারিক কার্যক্রম ও এখতিয়ারও নির্ধারিত।
তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের বিচার প্রক্রিয়া, সময়কাল ও কার্যক্রম সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রাম আদালত সম্পর্কে আগ্রহ ও আস্থা বাড়বে। স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত ও সহজভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ থাকায় গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, গ্রাম আদালতে নারী প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা প্রশাসনের নেই। তবে নারীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা যায়। কোনো বিচারপ্রার্থী চাইলে তার প্রতিনিধি হিসেবে নারীকে মনোনীত করতে পারেন। গ্রাম আদালতের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ ও নিরীহ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন চাঁদপুরের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মমতাজ বেগম।
সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এফ এম মো. জুলফিকার রহমান, শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মাহাতাব হোসেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হুমায়ুন কবির, পুলিশ পরিদর্শক মো. সারওয়ার আলম এবং জেলা তথ্য অফিসার রহিমা আক্তার।
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, গ্রাম আদালতকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করার বিষয়ে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব। কার্যক্রম আরও গতিশীল হলে মানুষের আস্থা বাড়বে। এজন্য জনগণের কাছে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও সুবিধাগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে।
এ সভায় চাঁদপুর ক্যাবল নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান, জারা হাউজের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ হাছান বেপারী, ইসফা এরিয়া ম্যানেজার রুবেল উদ্দিন, সোনালী সুদিনের সভাপতি আবু হানিফসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।







