প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪৫
চাঁদপুর জেলা শিল্পকলায় ‘গণমানুষের কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন

চাঁদপুরে সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়েছে গণমানুষের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ / ২১ ভাদ্র ১৪ ৩৩) জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে
সুকান্ত-স্মরণসভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহম্মেদ জিয়াউর রহমান। এ ছাড়াও চাঁদপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সাহিত্যিক ও স্থানীয় গুণীজনেরা এই স্মরণসভায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন ও সাহিত্যকর্মের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা। ‘সুকান্ত ভট্টাচার্য কেন আজও প্রাসঙ্গিক?’ শীর্ষক বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক মাইনুল ইসলাম মানিক বলেন, "সমাজে আজও ক্ষুধা বিদ্যমান, চারদিকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে এবং শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবীর অভাব রয়ে গেছে। ঠিক এসব কারণেই সুকান্ত আমাদের মাঝে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।"
কবির সমাজচেতনা নিয়ে আলোচনা করেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরীফ মাহমুদ চিশতী। তিনি কবির কবিতায় ফুটে ওঠা শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সংগ্রাম এবং সামাজিক বৈষম্যের চিত্র বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। একই কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান তাঁর আলোচনায় বাংলা সাহিত্যের দুই বিদ্রোহী ও বিপ্লবী কবি—কাজী নজরুল ইসলাম এবং সুকান্ত ভট্টাচার্যের কালজয়ী সৃষ্টির তুলনামূলক মূল্যায়ন উপস্থাপন করেন। তিনি দেখান, কীভাবে উভয় কবিই তাঁদের ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
আলোচনা পর্বে বক্তারা সুকান্তের বিখ্যাত পঙ্ক্তি—‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় / পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’ স্মরণ করে কবির গণমুখী ও কালজয়ী ভাবনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
স্মরণ সভাশেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে কবির গণমুখী গান ও বিখ্যাত কবিতাগুলো আবৃত্তি করে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আনন্দ ধ্বনি সঙ্গীত নিকেতন’। বিপুল সংখ্যক সাহিত্যপ্রেমী ও সাংস্কৃতিক অনুরাগী দর্শকের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানটি মুখরিত হয়ে ওঠে।








