প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৮
দুই কিডনি বিকল শিশু মাহিনের পাশে ‘০৭-০৯ ব্যাচ’, দিলো আর্থিক সহায়তা

"আমি বাঁচতে চাই, আমাকে সবাই সাহায্য করেন"— ১০ বছরের শিশু মাহিনের এমন হৃদয়বিদারক আকুতি ছুঁয়ে গেছে বহু মানুষের হৃদয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহিনের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এবার তার চিকিৎসার সাহায্যে এগিয়ে এসেছে এসএসসি ২০০৭ ও এইচএসসি ২০০৯ ব্যাচের বন্ধুদের সামাজিক সংগঠন ‘০৭-০৯ ব্যাচ’। মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের নাসিরাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিন। পরিবার জানায়, তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে এবং বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন। মাহিনের বাবা মনির হোসেন প্রধান পেশায় একজন জেলে। মেঘনা নদীতে জাল টেনে যা পান, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে সংসার। দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারটি এখন সর্বস্বান্ত। এ পর্যন্ত সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চিকিৎসা করানো হলেও কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মাহিনের এই দুরবস্থার কথা জানতে পেরে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে তার বাড়িতে ছোটেন ‘০৭-০৯ ব্যাচ’-এর প্রতিনিধিরা। তারা শিশু মাহিনের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে মাহিনের বাবার হাতে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। সহায়তা প্রদানকালে সংগঠনের প্রতিনিধি জুবাইদা ইসলাম জেরিন বলেন, "মাহিন আমাদেরই সন্তান। এই কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি আহ্বান জানাবো— আপনারা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী মাহিনের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিষ্পাপ এই শিশুটির জীবন বেঁচে যেতে পারে।" তিনি আরও বলেন, "‘মানুষ মানুষের জন্য’— এই বোধ থেকেই ০৭-০৯ ব্যাচ মাহিনের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও যে কোনো অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে আমাদের এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।" এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহিনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, "আমি বাঁচতে চাই, আমাকে সবাই সাহায্য করেন। ১০ টাকা হলেও দিয়ে সাহায্য করেন।" ১০ বছরের একটি শিশুর এমন অনুনয়-বিনয় কাঁপিয়ে দেয় বহু মানুষের মন। এরপরই বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠন তার চিকিৎসায় এগিয়ে আসতে শুরু করে। অনুদান প্রদানের সময় ০৭-০৯ ব্যাচের সদস্য ও উপজেলা ছাত্রদল নেতা হযরত আলী গালিব, এখলাছপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রবিউল ইসলামসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সহায়তা পেয়ে ০৭-০৯ ব্যাচের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মাহিনের মা-বাবা। তারা বলেন, "এমন দুশ্চিন্তার দিনে এই সহযোগিতা আমাদের মনে সাহস ও আশা জুগিয়েছে। তবে মাহিনকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে আরও অনেক টাকার প্রয়োজন। আমরা আমাদের সন্তানের জীবনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চাচ্ছি।" একটি ফুটফুটে শিশুর জীবন বাঁচাতে ১০ টাকা থেকে শুরু করে যে কোনো পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা মাহিনের জন্য হতে পারে নতুন জীবনের আশার আলো।







