প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৫
জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী র্যালি ও সুধী সমাবেশে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি
চিহ্নিত মাদকসেবীদের মাদ্রাসায় রেখে ধর্মীয় অনুশাসনে সংশোধনের পরিকল্পনা রয়েছে
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় একযোগে জিরো টলারেন্স অভিযান চালানো হবে : ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী

‘মাদক থেকে দূরে থাকি, সুস্থ সমাজ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র্যালি ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
|আরো খবর
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুর শহরের কদমতলাস্থ পৌর মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে এ সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের আগে একটি মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক র্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে।
চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, “চাঁদপুর জেলায় প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বসবাস। একা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়, এজন্যে জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। আজকে কোনো মাদকসেবীকে ধরলেই দোষ ধরা হয়, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ কিছু আসক্ত ব্যক্তি সমাজের জন্যে অত্যন্ত ভয়ংকর।”
মাদকসেবীদের পুনর্বাসনে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “মাদকে ভীষণ আসক্ত ব্যক্তিদের মাদ্রাসায় রেখে ধর্মীয় অনুশাসনে সংশোধনের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। পুলিশের তত্ত্বাবধানে এসব মাদ্রাসায় তাদের থাকা-খাওয়া ও ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। একজন চিকিৎসকের অধীনে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি তাদের ফজরের নামাজ থেকে শুরু করে সব নামাজ জামাতে আদায় ও কোরআন তেলাওয়াতসহ কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে দু মাস রাখা হবে। দু মাস পর আচরণে পরিবর্তন এলে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'। চাঁদপুরসহ চট্টগ্রাম রেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত ১১টি জেলায় একযোগে সর্বাত্মক মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করা হবে। এটি কোনো লোকদেখানো অভিযান হবে না; মাদকের শিকড় আমরা সমাজ থেকে উপড়ে ফেলবোই।”
তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মাদক বিক্রি করে বিত্তশালী হওয়ার স্বপ্ন চিরতরে নস্যাৎ করে দেওয়া হবে। মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের এই জনপদে কোনো ঠাঁই হবে না। রাজনৈতিক দলীয় পরিচয়, জনপ্রতিনিধি বা পেশাজীবী—মাদকের মদদদাতা যিনিই হোন না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মুফতি ইরফান আহমেদ এবং গীতা পাঠ করেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শরীফ মো. ইউনুছ, হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা আ. রহিম পাটোয়ারী, মতলব দক্ষিণের বিএনপি নেতা এনামুল হক বাদল, মতলব উত্তরের বিএনপি নেতা আলমগীর সরকার, হাইমচর উপজেলা বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, হেফাজতে ইসলামের পক্ষে মুফতি সিরাজুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মাহবুব আলম, গণঅধিকার পরিষদের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন, চেয়ারম্যানঘাটা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. সাইফুদ্দিন খন্দকার, হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আ. আজিজ শিশির, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. হাসান মজুমদার, পৌর শহীদ জাবেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুল মাওয়া, আল-আমিন একাডেমির ছাত্র ইমতিয়াজ আহমেদ প্রমুখ।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খায়রুল কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মুকুর চাকমা, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. শামছুল ইসলাম মন্টু, জেলা জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. কোহিনূর বেগম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক সেলিম সরকার, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, চাঁদপুর শহর জামায়াতের আমির অ্যাড. মো. শাহজাহান খান, চাঁদপুর জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশশেষে অতিথিবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি বের হয়।

ক্যাপশন :চাঁদপুর জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী র্যালি।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ







